রোববার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ ইং

শাকিলা ববি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০৬

পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহশালা

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহশালা ও পাঠাগার চালুর কথা ছিলো ২০১৪ সালে। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি এই কাজ। ফলে চালু হয়নি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। শহীদ মিনার কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহশালা ও পাঠাগারও নির্মাণ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার সহযোগিতায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলো সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিনেও এটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সিসিক ও ওই কমিটির সদস্যরা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয় সিলেটের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরআগে ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মিছিল থেকে শহীদ মিনার ভাংচুর করা হয়।

নতুন শহীদ মিনার নির্মাণকালে শহীদ মিনারের নিচে (আন্ডারগ্রাউন্ডে) তিন হাজার স্কয়ার ফুট জায়গায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, স্মৃতিচিহ্ন, আলোকচিত্র সম্বলিত একটি সংগ্রহশালা এবং পাঠাগার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পুনর্নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হলেও নানা অজুহাতে আটকে যায় সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণ কাজ। যা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

এই সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণের ব্যয় করা হয় ৩ কোটি টাকা। আজ পর্যন্ত এটি চালু না হওয়ায় এই টাকার খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৪ সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই উদ্বোধন করা হয়েছিলো সিলেট শহীদ মিনার। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছিলেন দ্রুততম সময়েই মধ্যেই শেষ করা হবে বাকী কাজ। তবে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই বন্ধ হয়ে পড়ে সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণের কাজ।

শহীদ মিনার কমপ্লেক্সের ভবনের দেয়াল চুইয়ে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাই ত্রুটি না সারিয়ে এটি চালু করা যাবে না বলে তখন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে আবারও শুরু হয় পাঠাগার ও সংগ্রহশালা নির্মাণ কাজ। সেসময় সিসিকের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, শহীদ মিনারের বাইরে কোন কাজ বাকী নেই। ভেতরে পাঠাগার ও সংগ্রহশালার কাজ চলছে। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।

২০১৭ সালে সংগ্রহশালা ও পাঠাগারের জন্য কিছু আসবাবও তৈরি করা হয়। এরপর অজ্ঞাত কারণে আটকে যায় কাজ।

সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণ ও বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ৮ সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু এ ব্যাপারে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণের পরই আমাদের দাবি ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণের। কিন্তু ২০১৭ সালের পর এ ব্যাপারে সিসিকের পক্ষ থেকে আর কোনো সভা করা হয়নি। এমনকি এটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতির ব্যাপারেও আমাদের অবগত করা হয়নি। সিসিক কর্তৃপক্ষ নামমাত্র একটি কমিটি করে দেয় তখন। কিন্তু বাস্তবে সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণ কাজে এই কমিটির কাউকে জড়িত করেনি সিসিক কর্তৃপক্ষ।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মাণের কাজ শেষ করে দ্রুত এটি উদ্বোধন করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির অনেকের সাথে কথা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরের পর এই ব্যাপারে মেয়রের সাথে কথা বলে আমরা আন্দোলনে যাবো।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এই সংগ্রহশালা ও পাঠাগারের কাজ প্রায় শেষ। সংগ্রহশালার ছবি বাছাইয়ের কাজ শুধু বাকী রয়েছে। মেয়র মহোদয় ছবি বাছাইয়ের কাজ করে দিলেই হয়ে যাবে। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে হয়তো শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করা হবে।

সংগ্রহশালা ও পাঠাগার বাস্তবায়ন কমিটির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কমিটির যারা আছেন তারা দায়িত্ব পালন করেন না।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণ করে। নবনির্মিত শহীদ মিনারের নকশা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভজিত চৌধুরী। ‘চেতনায় আন্দোলিত ভূমি থেকে জেগে ওঠা বাঙালির আবহমান সংগ্রামী ঐতিহ্য’-এই বিষয়বস্তু ধরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় ৩৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। মূল স্তম্ভের পাশাপাশি শহীদ মিনারে রয়েছে মুক্তমঞ্চ ও মহড়াকক্ষ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত