রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:৪৫

শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের মামলার আবেদন খারিজ

'ধর্মীয় অবমাননা' ও ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে লাঞ্ছনার শিকার নারায়ণগঞ্জ বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে তিন মামলার আবেদনের মধ্যে দুই মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

খারিজ করে দেওয়া দুই মামলার আবেদনের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধর। এছাড়া ঘুষ নেয়ার অভিযোগে অপর মামলার আবেদনের ওপর আদেশ শনিবার ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিন মামলার পৃথক আবেদন করা হলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফ বিকেলে এ আদেশ দেন।

ঘটনার দুই মাস পর এই তিন মামলার আবেদন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মামলার আবেদন করেন বন্দর কল্যান্দী এলাকার সামছুল হক সামছু ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে মামলার আবেদন করেন রিফাতের মা রিনা বেগম। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সেই কারণে আদালত ২০৩ ধারা অনুযায়ী এই দুই মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘুষের মামলাটির আবেদন করেছেন পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম। এ আবেদনের ওপর আদেশ শনিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ এনে গত ১৩ মে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এলাকাবাসী। পরে একপর্যায়ে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিষয়টি তদন্তে সরকারিভাবে কমিটি গঠন করা হয়। ১৯ মে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে 'ধর্মীয় অবমাননার' অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি অন্যায়ভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। বিদ্যালয়ের ওই পরিচালনা কমিটি বাতিল ও শ্যামল কান্তিকে স্বপদে বহাল রাখার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর শ্যামল কান্তি ভক্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ৯ জুন হাসপাতাল থেকে পুলিশ প্রহরায় তাকে নগরীর নগর খানপুরের ভাড়া বাড়িতে নেয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত