মঙ্গলবার, , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৩১

মৌলভীবাজার-৪: মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে শহীদ ও হাজী মুজিব

শ্রীমঙ্গল আর কমলঞ্জ উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া এখন এই দুই উপজেলাজুড়ে। এখানে কারা হচ্ছেন প্রধান দুই দলের প্রার্থী তা নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা।

এমনিতে আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসন। স্বাধীনতার পর থেকেই এই আসনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই এই আসনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছেন।  তবে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নর চেয়েছেন একাধিক প্রার্থী। এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটেও।  

এবারের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ৬ জন প্রার্থী ও বিএনপির ২ জন  দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ জন প্রার্থীই গত বুধবার ঢাকার ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাক্ষাতকারে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ জন প্রার্থী হচ্ছেন- পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান।

এদিকে বিএনপি থেকে এই আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন জিকু দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। আজ রোববার থেকে তাদের দলীয় স্বাক্ষাতকার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই দুইল দল থেকে কারা প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এখন ব্যাপক জল্পনা কল্পনা চলছে। বিএনপি থেকে মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (হাজী মুজিব) এ আসনে প্রার্থী এটা প্রায় নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও মো: আব্দুস শহীদের পাল্লাই ভারী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

যদিও কেন্দ্রীয় অধ্যাপক রফিকুর রহমানের সমর্থকেরা দাবি করছেন, এবার রফিকুর রহমানই হবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এখনো কেন্দ্র থেকে জোট-মহাজোটের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা ঘোষনা করেনি। তবে শনিবার উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি নিজ সমর্থক দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে সিলেটে গিয়ে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান এর মাজার জিয়ারত করেছেন। দুজনই নির্বাচনী এলাকায় কর্মী সমর্থক নিয়ে নিজ নিজ পক্ষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারে ব্যস্ত আছেন।

চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত আদিবাসী ও চা-বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে নিয়ে গঠিত ২৩৭ মৌলভীবাজার-৪ সংসদীয় আসন। দুই উপজেলা নিয়ে এই আসনের মোট আয়তন ৮৫১ দশমিক ৮৭ বর্গ কিলোমিটার। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’ জন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ।

উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়ে আমি ৬ষ্ঠ বারের মতো প্রার্থী হয়েছি।  

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য ও কমলগঞ্জ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান বলেন, এই এলাকার মানুষ একটা পরিবর্তন চায়, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের কিছু চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তাই তৃণমুল নেতাকর্মীর চাপে প্রার্থী হয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক বলেন, আগামীতে শেখ হাসিনা তরুণ নেতৃত্বকে বেছে নিবেন এ বিশ্বাস থেকে আমি এই আসনের একজন প্রার্থী।

এদিকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। জনগন এবার বিপুল ভোটে ঐক্যফ্রন্টকে বিজয়ী করবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত