আজ বুধবার, , ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং

আরিফ জেবতিক

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৩৪

সরকারের পক্ষে সবার চাকুরি নিশ্চিত করার কোনো উপায়ই নেই

সরকারি চাকুরির জন্য এমন মরিয়া হয়ে ওঠা নব্বই দশকেও ছিল না। এখন অনেক বেসরকারি ব্যবসা বাণিজ্য বেড়েছে, এখন আরো কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই ক্লাস করার চাইতে বিসিএস গাইড মুখস্ত করাটা অনেকের জন্য বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিন্তু আমাদের বুঝে নিতে হবে যে সরকারের পক্ষে সবার সরকারি চাকুরি নিশ্চিত করার কোনো উপায়ই নেই। বরং দিনে দিনে সরকারের উচিত সরকারি চাকুরির সংখ্যা কমিয়ে নিয়ে আসা। অপ্রয়োজনীয় মাথাভারি প্রশাসন, যেখানে শুধু স্বাক্ষরের খাতিরে ( এবং ঘুসের খাতিরেও বটে) স্বাক্ষর দিতে একটা তুচ্ছ ফাইলও ক্রমাগত উপরের দিকে উঠতে থাকে তো উঠতেই থাকে আবার নামতে নামতে মাস কাবার হয়ে যায়। আমি নিজে দেখেছি, অনেক ছোটখাটো সিদ্ধান্তও কেউ দিতে চায় না, ফাইল উপরের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

এখন এই বিষয়গুলোকে কমিয়ে আনা দরকার। একটা ছোট উদাহরণ দেই। বিআরটিএ ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়। ইংল্যান্ডে দেখেছি, এটা লাইসেন্সধারী প্রাইভেট মেকানিক্স শপগুলোর উপর ন্যস্ত । আপনি আপনার পছন্দ মতো জায়গায় গাড়ি চেক করিয়ে ফিটনেস নিয়ে নিবেন। এখন এই প্রাইভেট মেকানিক্স শপগুলো গাড়ির খুঁত ধরতে সচেষ্ট থাকে, কারন তাহলে তাঁরা দুটো পার্টস বিক্রি করতে পারবে। অন্যদিকে গাড়িগুলোও সচল থাকে।

এখন আমাদের এখানে এটা করলে প্রাইভেট খাতে কিছু কর্মসংস্থান হয়। অাপনি বলতে পারেন যে প্রাইভেট শপগুলো দুর্নীতি করবে। হ্যা, সেটা হয়তো করবে। কিন্তু বিআরটিএতে কী অবস্থা? রাস্তার বাসগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন।এরাও তো দুর্নীতি করে ফিটনেস দিচ্ছে। প্রাইভেট শপগুলো অন্তত দুটো পয়সার জন্য বাসগুলো রং করে ফিটনেস দেবে।

এভাবে সরকারের অনেক জায়গাতেই লোকবল কমিয়ে ফেলা দরকার। তাহলে দুর্নীতি কম হয়, জনগনের হয়রানি কম হয় আর সরকারের প্রশাসনিক ব্যয়ও অনেকখানি কমে আসে। যেমন ধরেন মোবাইল ফোন বেসরকারি পর্যায়ে দেয়ার ফলে টিএন্ডটির হয়রানি কমে গেছে। আগে একটা ল্যান্ড ফোন নেয়ার জন্যও মন্ত্রীর সুপারিশ আর নগদ টাকাকড়ি নিয়ে কয়েক বছর অপেক্ষা করা লাগত।

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করলে লোক দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব। এর অনেকগুলো খাত আছে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, সরকারি ক্যাডার সার্ভিসে যোগদানের জন্য গ্রাজুয়েশন নয়, এইচএসসি করে দেয়া যায়। এটা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে আছে। এইচএসসি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়ে ভাটিয়ারিতে গিয়ে ২ বছরের ট্রেনিং নেয় তাঁরা। এতে করে তাঁদের গ্রাজুয়েশন হয় বিশেষায়িত, যেটা তাঁদের প্রফেশনে সরাসরি পুরোটাই কাজে লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সাবজেক্টের গ্রাজুয়েশনই পরবর্তীতে প্রশাসন চালাতে কাজে লাগে না। ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি থেকে শুরু করে পালি, সংস্কৃত সব গ্রাজুয়েটই বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারেন। সেখানে তাঁদের প্রশাসন চালানো শিখতে হয়, কোর সাবজেক্টটি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এটা না করে এইচএসসির পরপরই বিসিএস হতে পারে। তারপর সে অনুযায়ী পরবর্তী ২/৩ বছর সরকারি প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং কাম গ্রাজুয়েশন হবে। যিনি পুলিশ ক্যাডার, তিনি আইনশৃংখলা বিষয়ক সাবজেক্ট পড়বেন, যিনি প্রশাসনের জন্য নির্বাচিত তিনি পাবলিক এডমিন জাতীয় সাবজেক্ট পড়বেন। ট্রেনিং সাফল্যের সাথে সমাপ্ত হলে পদায়ন হবে।

এই সিস্টেমে লাভ হচ্ছে যে এদের পেছনে ভার্সিটির রিসোর্স নষ্ট হবে না, সেখানে অন্যরা পড়াশোনা করতে পারবে। এবং যেহেতু তাঁরা জানবে যে সরকারি চাকুরি তাঁদের আর হচ্ছে না তাঁরা সেভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারবে।

আরিফ জেবতিক: লেখক ও সাংবাদিক।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

আপনার মন্তব্য

আলোচিত