শনিবার, , ২০ অক্টোবর ২০১৮ ইং

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

২২ মে, ২০১৮ ১৯:৫১

যখন টিভি তারকারা আমাদের খুব কাছের মানুষ ছিলেন

অসময়েই চলে গেলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে মঙ্গলবার ঢাকার একটি হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সাংবাদিকতায়ও সম্পৃক্ত থাকা জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ও উপস্থাপকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন অনেকেই। তাজিনের সাথে স্মৃতিময় বিভিন্ন ঘটনাও স্মৃতিচরণ করেন কেউ কেউ।


লেখক সাংবাদিক আরিফ জেবতিক  ফেসবুকে লিখেন-

অভিনেত্রী তাজিনের সাথে পরিচয় ২২ বছর আগে | ভোরের কাগজ-প্রথম আলো'য় একসাথে কাজ করেছি, নাটকের গ্রুপ নাট্যজন-এও অল্পদিন কাজের সুযোগ হয়েছে | সর্বদা হাসিখুশি তাজিনের এই আকষ্মিক মৃত্যুতে শোকাহত |

লেখক-সংস্কৃতিকর্মী ঝুমুর রায় লিখেন-

একটা সময় ছিল, যখন টিভি তারকারা আমাদের খুব কাছের মানুষ ছিলেন, তাজিন সেই সময়ের অভিনেত্রী! আমরা যারা সেই সময়টুকু পার করেছি, খুব সত্যি বলছি, পর্দায় থেকেও তাজিন বা সেই সময়ের অনেকে আমাদের মনের খুব কাছাকাছি ছিলেন, আছেন।

দুঃখের খবর, মৃত্যু এমনিতেই পৃথিবীর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক শব্দ, আর এমন অসময়ে যাওয়াটা আরো বেশি বেদনার!



তাজিনের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করে লেখক সুমন সুপান্থ রিখেন-

তখন সবে পাঠক ফোরামের সুত্র ধরে একটা দুইটা ফিচারও লিখতে শুরু করেছি ভোরের কাগজে। ফিচার লিখি, প্রয়াত কীর্তিমান সঞ্জীব (চৌধুরী) দা'র বদান্যতায় "মেলা" পাতা, বা ফিচারে ছাপা হলে মন আনন্দে নেচে উঠে। নাচে দুই কারণে, একটা ফিচার লিখলে ১০০/২০০ টাকার প্রাইজবণ্ড পাওয়া যায় মাসের শেষে বিল হিসেবে। ছাত্র জীবনের গরিবীকালে সে অনেক টাকা। এটা একটা কারণ তো বটেই, দ্বিতীয় কারণ মূলত প্রধান কারণ: নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখার আনন্দ! আরেকটা বাড়তি কারণও ছিলো। টিভিতে সদ্যই প্যাকেজ নাটক আসার বদৌলতে রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়া এক ঝাঁক তরুণ তূর্কীরাও লিখতে এসেছিলেন ভোরের কাগজে, তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল হলেও একটা পরিচয় হয়ে যাওয়া।

আর তাজিন আহমেদ তো তখন রীতিমতো বড় তারকাই। ফিচার লেখার সুত্রেই দু'জনের সঙ্গে দু'জনের নামে পরিচয়। একবার মনিপুরী পোশাকের সুলুকসন্ধানে মৌলভীবাজার এসেই বাসার ল্যাণ্ড লাইনে তাজিনের ফোন। "সুমন, আসেন তো আমার সঙ্গে একবার আদমপুর যাবেন"। সেইবারই সে অর্থে প্রথম দেখা। কতো গল্প। কতো কি! বন্ধুত্ব শুরু। "তুমি"তে নেমে আসা।

এবার বইমেলায়ও দেখা হলো এক ঝলক। বলল, "কী ব্যাপার এতো মোটা হয়েছো যে, চিনতেই পারি নি?! "

আমি বলি, "আমরা তো ক্যামেরার সামনের মানুষ না। তোমরা যারা চৌবক্সের তারকা, তারাও তো মোটাই হচ্ছো সমানে। বয়স বুঝলে বন্ধু, বয়স "

সেই তাজিন আজ মারা গেলো! হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ। আকস্মাৎ। ফেসবুকের পাতা বেয়েই এক্ষুনি এলো সেই খবর। আর মন খারাপ করে আমি ভাবতে বসলাম, দেখতে বসলাম, আমি আর তাজিন একটা দশাসই বেবিটেক্সি করে আদমপুর যাচ্ছি... তাজিন খুব জ্ঞানগর্ভ আলোচনার ফাঁকেফাঁকে বলছে, "আমাকে সিলটি শিখান তো! "

বিদায় বন্ধু, ভালো থেকো, যেখানেই থাকো।

প্রবাসী সাংবাদিক আ স ম মাসুম লিখেছেন-

তাজিন আহমেদ বিখ্যাত অভিনেত্রী ছিলেন, পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করতেন। আমি যখন সদ্য নতুন প্রথম আলো লাইফ ষ্টাইল ম্যাগাজিন নকশা'তে কন্ট্রিবিউটর হিসাবে কাজ শুরু করি তখনও তিনি নিয়মিত রুপসজ্জাসহ নানা বিষয় নিয়ে লিখতেন... হঠাত হার্ট এটাকে মৃত্যু হলো তাজিন আহমেদের... খারাপ লাগলো...

আপনার মন্তব্য

আলোচিত