মঙ্গলবার, , ২৬ মার্চ ২০১৯ ইং

ড. কাবেরী গায়েন

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:৩৪

কামাল হোসেন দিক হারিয়েছেন

টেকনোক্রিটি আর রাজনীতি এক নয়। রাজনীতিবিদ হিসেবে ক্যারিয়ারের কফিনে সম্ভবত শেষ পেরেকটি ঠুকলেন কামাল হোসেন।

জীবনে প্রথম বারের মতো ভোট শব্দটি শোনা, দেখা এবং পারিবারিক কারণে সমর্থনের বিষয়টি ছিলো কামাল হোসেনকে ঘিরেই। তখন তিনি নৌকা মার্কায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন ধানের শীষের বিপরীতে। আজ তিনি ধানের শীষের পক্ষের লোক, যে শীষে শুনি জামায়েতের বিষ আছে।

কামাল হোসেন সম্পর্কে যত কথাই থাকুক, জামায়াত প্রশ্নে তিনি আপোষহীন থাকবেন, এমনই ভাবতাম। বুঝলাম, রাজনীতি বিষম বস্তু। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়াই দস্তুর রাজনীতিতে। দীর্ঘশ্বাস!

তাঁর গাড়ির বহরে হামলার নিন্দা জানাই। নির্বাচনের এই সময়ে সকল প্রার্থী যেনো নিরাপদে গণসংযোগ করতে পারেন, সেটা দেখার দায়িত্ব সরকারের।

অন্যদিকে, সাংবাদিকের প্রশ্নে তাঁর 'খামোশ' উচ্চারণের সামন্ততান্ত্রিকতা তাঁর উদারনৈতিক বুর্জোয়া শিক্ষা-দীক্ষার সাথে বেমানান। এই মরিয়া আচরণ মানুষ তখনই করেন, যখন তাঁদের কাছে যুক্তির বা প্রশ্নের উত্তর থাকে না বা যখন তাঁরা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে চান।

জামায়াতকে মনোনয়ন দিয়েছে যে দল সেই দলের সাথে নির্বাচনী জোট করে শহীদ বেদিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্মান জানাতে যাওয়ার মধ্যে যে এক মস্ত প্রহসন আছে, আমার ধারণা কামাল হোসেনের সে বিষয়ে অস্বস্তি ছিলোই। তিনি জানতেন তিনি কী করেছেন। যে অস্বস্তির উত্তর মানুষের কাছে থাকে না, তার উত্তর ক্ষুব্ধ দিশেহারা হওয়াই স্বাভাবিক। কামাল হোসেন দিক হারিয়েছেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, প্রখ্যাত আইনবিদ কামাল হোসেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অপরিণত বিলুপ্তিতে আমার আসলে বেশ খারাপ লাগছে। তিনি মেধাবী আইনবিদ হলেও, রাজনীতিতে অপরিণত ক্ষুব্ধ বালক হিসেবেই ইনিংস শেষ করছেন বলে মনে হচ্ছে।

আমার ধারণা, তিনি জানেন না যে তিনি আসলে একজন রাজনীতিবিদ নন, অথচ রাজনীতিবিদ হবার আকাঙ্ক্ষায় তাঁর প্রফেশনাল জীবনের সকল খ্যাতি এবং অবদানকে বারে বারে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, আর সমূলে জলাঞ্জলি দিলেন এই শেষ বয়সে।

  • ড. কাবেরী গায়েন : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

[ফেসবুক থেকে]

আপনার মন্তব্য

আলোচিত