শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ইং

বাদল সৈয়দ

৩১ জুলাই, ২০১৯ ১৯:০৬

প্রসঙ্গ: ভিআইপি

আসলে আমাদের দেশে 'ভিআইপি' বলে আলাদা কোন মর্যাদার তালিকা নেই। অন্তত আমার জানামতে।

শুধু ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নামে নির্বাচিত প্রতিনিধি/ সরকারী কর্মচারিদের একটি তালিকা আছে। তাও মূলতঃ অনুষ্ঠানাদিতে অনুসরণ করার জন্য এবং এ তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা কিছু সুবিধা পান, কিন্তু রাস্তা বা ফেরি আটকে দেয়ার সুবিধা নয়।তবে অতি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা মাঝে মাঝে করতে হয়, কিন্তু আমার মতো শত শত গণকর্মচারির জন্য এটা করার প্রশ্নই উঠে না।

ক'দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও 'ভিআইপি' কালচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্টও বলেছেন,রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ 'ভিআইপি' নন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে 'ভিআইপি' বলে কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই, সেখানে আমরা নিজে নিজে কীভাবে ভিআইপি হয়ে যাই? এ ক্ষমতা আমাদের কে দিলো?

গণকর্মচারী হিসেবে তো আমার জানা উচিত- অস্তিত্বহীন মর্যাদা ভোগ করা অন্যায়।
হ্যাঁ, ভিআইপি আছেন- কাগজে কলমে নয়, আছেন কমন সেন্সে। কারা জানেন?
১. এম্বুলেন্সে রোগী।
২. ফায়ার ফাইটারদের গাড়ি।
৩. শিশু।
৪. বৃদ্ধ।
৫. ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড পারসন।

এরাই ভিআইপি। এরাই অগ্রাধিকার পাবেন।

'স্বকল্পিত' ভিআইপি' থেকে গণকর্মচারিদের মাটিতে নেমে আসা নিজের জন্যই ভাল। নইলে চাকুরী শেষে হার্ট এটাক হবে। এটা গণকর্মচারি ছাড়া ব্যবসায়ীসহ সবার জন্য প্রযোজ্য।

'বাবা তিতাস' ভাল থাকিস- আর আমাদের ক্ষমা করিস।

"বড় বড় চেয়ারে আসীন হলাম কিন্তু মানুষ হলাম না- এজন্য ক্ষমা করিস।"

আমার আলাদাভাবে ক্ষমা চাওয়ার কারণ আছে। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে আমার পদবী অন্তর্ভুক্ত থাকায় মাঝে মাঝে এয়ারপোর্টে আমি এ সুবিধা নিয়েছি। বাবা তিতাস, আমি তুই এবং পুরো জাতির কাছে এজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম আর কোনদিন এ সুবিধা নেবো না।।

ক্ষমা করিস বাবা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

বাদল সৈয়দ: লেখক, সরকারী কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত