বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:৪৩

উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পেশাদার মোটসাইকেল চালক

শাফায়েত আজিজ রাজু, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-উবার-সহজ-ওভাই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যুবক অনলাইনে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালিয়ে তার এই ঝড় নয়, মূলত এর পেছনে কাজ করেছে তার পূর্বতন পরিচয়। তিনি ছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান তিনি। সর্বশেষ নির্বাচনে তার দল অংশ না নেওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি।

চট্টগ্রামে রাইড শেয়ারিং রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-উবার-সহজ-ওভাই চালিয়ে টাকা রোজগার করছেন তিনি। কারও দয়া, দাক্ষিণ্য বা কারও হাতের দিকে না তাকিয়ে তিনি যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বলছেন, কেউ আপনাকে চাকরি দিবে বা কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকাটা চরম বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। অন্তত যতদিন পর্যন্ত আপনার যোগ্যতানুযায়ী কিছু করতে পারছেন না ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যান।

আলোচনায় আসা সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান এই কাজে নামার কারণ ফেসবুকে লিখেছেন। তিনি লিখেন-

Pathao, Uber, shohoj, Ovhai; এ্যাপস ভিত্তিক শেয়ারিং রাইড।

যে বাইক বা কারটি এতদিন আপনাদের কাছে সৌখিন ছিল উপরোক্ত কোম্পানির কারণে তা এখন আপনার রুটি রুজির অংশ। স্বাধীন পেশা, প্রয়োজনের তাগিদে উপার্জনের মাধ্যম নচেৎ সৌখিনতার অংশ।

শিক্ষার হার যেমন বাড়ছে তেমনি উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। অংকের সংখ্যা হেরফের করে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি উচ্চ সূচকে দেখানো যায় কিন্তু দেশের বেকারত্বের হারকে কাষ্টমাইজ করা যায়না।

এই সময়ে এ্যাপস ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং তাই যুব সমাজের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। বাইকে একটু খাটুনি দিলে হাজার টাকা দিনে রোজগার করা যায়, যেখানে পূঁজি এক লক্ষ হলেই চলে সাথে বৈধ কাগজ পত্র। মাসে ত্রিশ হাজার টাকার একটি চাকরির জন্য আমরা কত কিছুইনা করি... জমি জমা বিক্রি করে নেতার পিছু পিছু ২/৪/৫/১০/২০...লক্ষ টাকা দিয়েও চাকরি হয়ে যায় সোনার হরিণের মত অধরা। অন্যদিকে টাকা ফেরত না পেয়ে আত্মহত্যা, মাদকাসক্ত, দেশান্তরি থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই জড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজ।

মোদ্দাকথা পাঠাও, উবার, ওভাই, সহজ এগুলো ড্রাইভিং পেশাটির সম্মান বৃদ্ধি করেছে। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অল্প পূঁজিতে যে কেউই এই পেশায় আসতে পারে এবং এসেছেও, এমনকি মেয়েরাও...

লজ্জা, শরম, ইগো,পাছে-লোকে কিছু বলবে এই বিষয়গুলো মাথা থেকে ঝেড়ে আমার মত আপনিও নেমে পড়ুন রাস্তায়। সহজ পন্থায় হালাল পথে বৈধ ইনকাম।

কারো দয়ায়, কারো দাক্ষিণ্যে বা করুণায় বেশি দিন চলা যায় না।

কেউ আপনাকে চাকরি দিবে বা কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকাটা চরম বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

অন্তত যতদিন পর্যন্ত আপনার যোগ্যতানুযায়ী কিছু করতে পারছেন না ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যান।

কথায় আছে অভাব দরজা দিয়ে ঢুকলে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়...

সুতরাং ঘরের মানুষের কাছে বোঝা এবং বাইরের মানুষের কাছে মজা না হতে চাইলে এখনি সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী করবেন?

মনে রাখবেন "ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাসাগর..."

বড় কিছু পেতে চাইলে ছোট দিয়েই শুরু করুন। আজকের ছোট কাজের অভিজ্ঞতা আগামীকালের বড় কাজের প্রেরণা হয়ে আপনার সাহস সঞ্চার করবে।

বি.দ্র. আমাকে রাইড শেয়ার করতে দেখে কেউ লজ্জা পেলে তার জন্য আমি দায়ী নই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত