মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

ড. কাবেরী গায়েন

০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:১৫

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি!

লজ্জায় মুখ লুকানোর আর কোন কোনা-কুঞ্চি অবশিষ্ট রইলো না। সেদিন এক আর্ট-কালচার-আলসার করা এই পৃথিবীর স্বঘোষিত সবচেয়ে 'মেধাবী' বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তেড়ে এলেন বিভাগের সিনিয়র নারী শিক্ষককে মারতে। সে কাহিনী ধরা আছে সেই বিভাগের সিসিটিভিতে। তিনি আছেন নির্ভয়ে, বহাল তবিয়তে। আজ জাবি-তে এক ভিসি নিজ বিভাগের শিক্ষকদের পেটালেন পেটোয়া বাহিনী দিয়ে, ফের পত্রিকায় সেজন্য পেটোয়াবাহিনীর তারিফও করলেন।

শিক্ষকতা যখন রাজনৈতিক কারখানার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন কখনো একজন শিক্ষকের এক 'অমূল্য' ভোটের জন্য প্রশাসকদের কাছে তার অন্যায়-আচরণ উপেক্ষিত থাকে, বিভাগের শ্রদ্ধাভাজন ভীষ্ম পর্যায়ের শিক্ষকেরা ইনিয়েবিনিয়ে তার পক্ষ অবলম্বন করেন, আবার কখনো বা রাজনৈতিকভাবে গদিতে বসা উপাচার্য গদি ধরে রাখেন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত শিক্ষকদের মারধর করা পেটোয়া বাহিনীর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে।

সবই রাজনীতির খেলা। ম্যাক্রো-মাইক্রো সব পর্যায়ে। আসলে যতোটা নীচে নেমে এদেরকে ছুঁড়ে ফেলা সম্ভব, সে পর্যন্ত নামা, ক্ষমতাসীন রাজনীতির খুঁটির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলে, সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে সম্ভব হয় না। রুচির ব্যাপারও থাকে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেমন একজন সৎ, শ্রদ্ধেয় ভালোমানুষ নির্বাচনে দাঁড়ান না, দাঁড়াতে পারেন না, কিংবা দাঁড়ালেও স্থানীয় টাউট, ড্রাগ-ডিলারের কাছে হেরে যান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি শিক্ষকদের ঠিক এই পর্যায়ে নামিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মরেছে বহু আগে, সেই মরা গন্ধের ভেতর থেকে থেকে আমাদের নাক সয়ে গেছে। না কি হুয়ান রুলফোর সেই গল্পের মত আমরা যে মরে গেছি, বিশ্ববিদ্যালয় যে মরে গেছে, সেই সাক্ষ্য দেবার জন্য তেমন কেউ আসলে জীবিত নেই- সেটাও কেউ বলতে পারছেন না।

রেস্ট ইন পিস, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি।

  • ড. কাবেরী গায়েন : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত