সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

অম্বরীষ দত্ত

০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:১৮

কবিগুরুর ‘বিচিত্রা’ : হাতের কাছে, শিয়রের কাছে রাখি

কবিগুরুর সিলেট ভ্রমণের শতবর্ষ উদযাপিত হলো মহাসমারোহে, নানা অনুষ্ঠানে টইটুম্বুর ...সেজে উঠেছিল নগরী হৈমন্তী রূপে... চলেছে গত ৫ নভেম্বর ভোর থেকে...গতরাতে ছিল সমাপনী… বিশাল বিপুল বর্ণীল সব আয়োজন... ১৯১৯ থেকে ২০১৯...

আজ থেকে আটান্ন বছর আগে ১৯৬১ ইংরেজিতে আরও একটা শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছিল পুরো বাংলাজুড়ে, ভারত জুড়ে, সিলেটেও নানা আয়োজনে সেই শতবর্ষ উদযাপনের খবর আমরা জানি... রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ… সেসময় কবিগুরু প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ”রবীন্দ্র শতবর্ষপূর্তি গ্রন্থমালা - রবীন্দ্র সাহিত্য" অক্লান্ত পরিশ্রমে... গভীর মনোযোগে… তারই একটি ছিল এই বইটি... 'বিচিত্রা’ … এক মলাটে রবীন্দ্র সাহিত্যের সেরা কিছু রচনা... অসাধারণ তার গ্রন্থনা, সম্পাদনা... রবীন্দ্রানুরাগী যেকারো কাছেই সহজে রবীন্দ্রালোক লাভের উপায়। প্রথম সংগ্রহ করেছিলাম আশির দশকের প্রথম দিকে ঢাকা স্টেডিয়াম মার্কেটের দোতলায় ”সেনরিয়েটা” বা এরকম নামের যে বইয়ের দোকান ছিল ওখান থেকে...ওটি ছিল প্রথম সংস্করণের একটি কপি। বেরিয়েছিল ২৫শে বৈশাখ ১৩৬৮ বংগাব্দে… ১৯৬১ ইংরেজির ৬ বা ৭ টাকা ভারতীয় মূল্যমানের বইটি কিনেছিলাম প্রকাশনার দুই দশক পর বাংলাদেশী মুদ্রায় ১০০ টাকা দিয়ে... মহানন্দে… বলা বাহুল্য তখন ভারতীয় প্রকাশনার বইপত্র বাংলাদেশে বসে পাওয়া এখনকার মতো এতো সহজ ছিলোনা... পাসপোর্ট ভিসাও এতো সহজে পাওয়া যেতোনা। দুর্ভাগ্যক্রমে বইটি সংগ্রহের বছর কুড়ি পর মাত্র তিন মাসের অমনোযোগে আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক বই ও বিপুল পরিমাণ বাঁধানো দেশ পত্রিকার সাথে ওই গ্রন্থটিও উইপোকার দখলে গিয়ে মাটি হয়ে যায়... কী কষ্ট পেয়েছিলাম সে কেবল আমিই জানি...

পরবর্তীতে বাংলাদেশে এমনকি কলকাতায়ও কোথাও আর বইটি খোঁজ করে পাইনি। ২০০৯ সালে শান্তিনিকেতনে গিয়ে বইটির খোঁজ করলে 'সুবর্ণরেখা বুক স্টোর’ এর বৃদ্ধ ভদ্রলোক খানিকটা কৌতূহলভরেই যেনবা আমার দিকে তাকালেন এবং অত্যন্ত নিরস কণ্ঠে জানালেন … ’নেই’। কিঞ্চিৎ হতাশ হয়ে যখন অন্যান্য বইপত্র নেড়েচেড়ে দেখছিলাম, উনি ডাকলেন আমাকে, নাম ধাম বাড়ি পেশা কোথায় থাকি কেন এসেছি ইত্যাকার বিষয় আশয় জেনে নিয়ে বললেন, "বিকেলে আসুন, দেখি পাই কি না”... ঘণ্টা তিনেক পর আমি ফিরে যাচ্ছি শুনে আমাকে অপেক্ষা করার কথা বলে ভিতরে গেলেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর ফিরে এলেন ভিতর থেকে, হাতে সেই ঢাউস বই... 'বিচিত্রা'... হাতে নিয়ে দেখি, হুবহু একই ... শুধু আগেরটা ছিল প্রথম সংস্করণ... বৈশাখ ১৩৬৮, আর এটি কার্তিক ১৩৬৮ সংস্করণ... মূল্যস্থানে নতুন করে হাতে লিখে রাখা ৫০ টাকা আবার আরেক কোণে হাতে লেখা ১৫০/= টাকা। আমাকে বললেন ১০০ টাকা দিন... আবার পিছনে বিশ্বভারতীর সিল দেয়া গ্রন্থমূল্য সাড়ে আট টাকা … ১০০ টাকা দিতে দিতে ভাবি ৫০০ টাকা বললেও আমি দিতাম... পুরনো কষ্টটা মিলিয়ে গিয়েছিল তাৎক্ষণিক বইটি হাতে পাবার অপার আনন্দে। জানলাম বইটি পুনর্মুদ্রণের সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে।

মাঝে মাঝে উল্টে পাল্টে দেখি… .কি দেখি কেন দেখি... কি পড়ি কেন পড়ি... কি খুঁজি কেন খুঁজি…নিজেও জানিনা ... কিন্তু গ্রন্থটি হাতের কাছেই রাখি... শিয়রের কাছে...

আপনার মন্তব্য

আলোচিত