আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

রোহিঙ্গা ইস্যু: সঙ্কট ও সমাধান-৪

এমদাদুল হক তুহিন  

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বক্তব্যকে সামগ্রিকভাবেই ইতিবাচকই বলা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন তার বক্তব্যকেই পূঁজি করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সু চির ভাষণ সেনাবাহিনীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হলেও সঙ্কট সমাধানে তার বক্তব্যে আশা খোঁজে পাওয়া যায়। স্বপ্ন দেখা যায়। হয়তো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও মনে মনে স্বপ্ন দেখছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যারা এই সহিংসতার পেছনে দায়ী তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। কথা বলা হবে, মুসলিম রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও। খুঁজা হবে প্রকৃত কারণ।

সু চি তার ভাষণে বলেছেন, ‘বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন আইনের বাইরে গেলে বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে যে কারও বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এমন পরিস্থিতিতে সু চির বক্তব্যে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খোঁজে পাওয়া যায়। এগুলো হলো-

এক. রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার উদ্বিগ্ন হতে বাধ্য হয়েছে।
দুই. মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
তিন. মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হলে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
চার. নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলে সে দেশের নাগরিকদের ফেরত নেওয়া হবে।
পাঁচ. অদূর ভবিষ্যতে হয়তো রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে এবং ওই অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা চালানো যেতে পারে। তবে অং সান সু চি তার বক্তব্যে বেশ কয়েকটি বিষয় কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

তিনি তার বক্তব্যে একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি, বরং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি মুসলিম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম কেন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না এবং  ৫ সেপ্টেম্বরের পরে রাখাইন রাজ্যে কোন অভিযান পরিচালনা হয়নি। অং সান সু চির এই বক্তব্যের পর সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সমালোচনা চলছে সর্বত্র। বাংলাদেশে চায়ের স্টলেও।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি ও তার সরকার বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে। সংগঠনটি সু চির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক রোহিঙ্গা নেতা বলেছেন, সু চির ভাষণ সেনাবাহিনীর ভাষণেরই প্রতিধ্বনি। এমতাবস্থায় সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সু চি তার বক্তব্যে একটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিপক্ষে সরাসরি কথা বলার চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেননি। বরং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ককে অটুট রেখে কথা বলেছেন কিঞ্চিত মানবতাবাদী হয়ে। তবে রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফেরত পাঠানোর ইস্যুটি তিনি  জিইয়ে রেখেছেন। কারণ রোহিঙ্গাদের পক্ষে নাগরিকত্ব প্রমাণ এতোটা সহজ নয়। তাদের পূর্ববর্তী পরিচয়পত্রটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এবং দেশ ছেড়ে পালানোর সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ কোন নথিও সঙ্গে আনতে পারেননি। যেখানে জীবন বিপন্ন, ব্রাশ ফায়ারে উড়ে যাচ্ছে ভেতরের পাখিটা; সেখানে জাগতিক বিষয় দিয়ে কি হবে- সু চিকে ভাবতে হবে এই বিষয়টিও। উপলব্ধি করতে হবে মানুষ কখন ঘর ছেড়ে পালায়? দেশ ছেড়ে পালায়? সঙ্গে তখন নেওয়া যায় কী? প্রাণ না অন্য কিছু?

চারদিক থেকে যখন আন্তর্জাতিক চাপ প্রবল হয়ে আসছে তখন মায়ানমারের সামরিক জান্তারা নতুন পথ বেঁছে নিয়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য থামিয়ে দিয়েছে রোহিঙ্গা নিধন। যেসব গ্রামে কিছু কিছু রোহিঙ্গা রয়ে গেছে সেসব গ্রাম ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী। বলা হচ্ছে-আপনারা নিরাপদ। তবে ওইসব গ্রামে খাবার সঙ্কটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবার থেকে যাওয়া রোঙ্গিাদের আতঙ্কও যে কাটছে না জানা যাচ্ছে তাও। তবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা এখনও পালিয়ে আসছে। তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন পাহাড় বা জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়ার কারণে বাংলাদেশে আসতে এতোটা সময় লেগেছে। যেসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে এরা প্রত্যেকেই পেছনে ফেলে এসেছে স্বজনের লাশ।  প্রায় প্রত্যেক রোহিঙ্গা নারী নিজ চোখে দেখেছে আগুনে ঘর পুড়িয়ে বাবা কিংবা স্বামীর গলা কাটছে! আর পুরুষ সদস্যরা দেখেছে বোন কিংবা মায়ের সম্ভ্রম হারানোর সেই অমানবিক দৃশ্য! জীবন বাঁচাতে তারা ছুটে এসেছে। নিয়ে এসেছে কেবলই নিজের প্রাণ। এই যে বাংলাদেশে লাখ লাখ যে রোহিঙ্গা এসেছে, যে সব রোহিঙ্গা মা-বোনেরা সন্তান সম্ভবা; এর পুরো দায়টা এখন বাংলাদেশের উপর। এই প্রিয় মাতৃভূমির উপর। হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এই বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা এখন এক বড় সঙ্কট। সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন। দেশের বাইরে এবার কথা বলছেন বিভিন্ন ফোরামে। সঙ্কট সমাধানে পেশ করেছেন ৬ দফা। দৃঢ় কূটনৈতিক বক্তব্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। পরপরই বক্তব্য এসেছে ট্রাম্পেরও।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি কোন সহায়তা প্রত্যাশা করেন না। অবশ্য এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শেখ হাসিনার কয়েক মিনিটের সাক্ষাতের পরপরই। অধিবেশনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্বের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, শেখ হাসিনার সমানে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাকে কয়েক মিনিটের জন্য থামান। শেখ হাসিনার ভাষ্যমতে, এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চান। রয়টার্সকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (ডোনাল্ড ট্রাম্প) শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশ কেমন আছে? আমি বলেছিলাম, ‘ভালো, তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা মায়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু শরণার্থীদের নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি’।

সাক্ষাৎকার গ্রহীতার এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা ঘোষণা করেছে যে তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবে না। আমি তাঁর কাছ থেকে কী আশা করতে পারি? বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। তিনি এরই মধ্যে তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সুতরাং আমি তাকে কেন জিজ্ঞেস করতে যাব?’ শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্পের যে মনোভাব, আমেরিকার বর্তমান যে মনোভাব শেখ হাসিনার এই বক্তব্য তাদের প্রতি কটাক্ষই। ফলে বিশ্ব নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকা নেতাদের মতো অত্যন্ত দৃঢ় চিত্তে শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করছেন, তা ট্রাম্পকেও তার অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য করেছে। এতে বলা যায়, শেখ হাসিনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাৎ ও তৎপরবর্তী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াই বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গন শেখ হাসিনাকে টেনে তুলবে আরও উপরে।

শেখ হাসিনার দৃঢ় বলিষ্ঠ ওই কূটনৈতিক বক্তব্যের পর ট্রাম্প বলতে বাধ্য হয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের  বলিষ্ঠ ও দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চান তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আহ্বানের কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ‘এই সঙ্কটের অবসান এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এই প্রয়োজনের সময় তাদের সহায়তা ও তাদের মাঝে আশা জাগাতে বলিষ্ঠ ও ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ যদিও ট্রাম্প নিজে এই কথাটি বলেননি, প্রচণ্ডভাবে শরণার্থী বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও; রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা তিনি তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে দিয়ে বলাতে বাধ্য হয়েছেন। আর এটা কেবল সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার ওই মন্তব্যের কারণেই। প্রকারান্তরে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে কথা বলার কারণেই।

এর আগে, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘের সদর দফতরে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পক্ষে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই বৈঠকে মুসলমান ভাইদের দুর্দশার অবসান দেখতে চান বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এবং সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সঙ্কটের সূচনা যেহেতু মিয়ানমারে তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

ওই ৬ প্রস্তাবে স্পষ্টত একটি সমাধানের পথ খোঁজে পাওয়া যায়। পুরো বিশ্ববাসীর মতো প্রথমেই তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের কথা বলেছেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেছেন মায়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোনের কথা। অবশ্য তিনি এক্ষেত্রে বলেছেন, এটি করা যেতে পারে। কারণ মায়ানমারের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের হস্তক্ষেপ নেই। আর কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের কথা বহু পূর্ব থেকেই বলে আসা হচ্ছে। অবশ্য বিশ্ববাসীর মতো বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও। এটি ছিল তার চার নম্বর প্রস্তাব।  পাঁচ নম্বর প্রস্তাবে রোঙ্গিাদের বাঙালি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি প্রোপাগান্ডা। রাষ্ট্রীয় এই প্রোপাগান্ডা বন্ধ করতে হবে। সর্বশেষ প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা সে দেশে ফেরত না যাবে ততোক্ষণ পর্যন্ত ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। এই প্রস্তাবটি শেখ হাসিনার দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণকে আরও বাড়িয়ে তুলে। আশা করা যায়, সঙ্কট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশের পাশে থাকবে। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে এই সঙ্কট সমাধানে তারাও এগিয়ে আসবে।

আর রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। উত্থাপন করেছেন ৫ দফা প্রস্তাবনা। আগেই বলেছিলাম জাতিসংঘের অধিবেশনে শেখ হাসিনার প্রস্তাব হয়ে উঠতে পারে কোন আন্তর্জাতিক সনদ। এই পাঁচ দফা প্রস্তাবও তাই।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ওআইসিতে শেখ হাসিনা যে ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, পাঁচ দফাতেও তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত এখন এগুলো বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করছে এই সঙ্কটের সমাধান। মুহুর্তটিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলছেন, মিয়ানমারের প্রতি নানা ধরণের অবরোধ আরোপ হচ্ছে, বাণিজ্য সংকুচিত হচ্ছে- তখন মনে পড়ে উত্তর কোরিয়ার কথা। মায়ানমারের বর্তমান আচরণ কোন কোন ক্ষেত্রে আমার কাছে উত্তর কোরিয়ার মতোই মনে হচ্ছে। আর এতো কিছুর পরও চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, ভারত ও পরোক্ষভাবে আমেরিকাও যেখানে মায়ানমারের পক্ষে আছে; সেখানে সমাধান খুব সহজেই আসছে বলে যারা মনে করছেন তারা শিশুসুলভ আচরণ করছেন বলেই আমার মনে হয়। তবে সমাধান আসবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। আর সেটি হতে পারে জাতিসংঘ অধিবেশন পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা ও সু চির বৈঠক। দুই নেত্রী কথা বললে, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে আলোচনা হলে- অনেকাংশেই সঙ্কট সমাধান হবে বলে বিশ্বাস। তবে আপাতত আমাদের চোখ জাতিসংঘ অধিবেশনের দিকেই।

সঙ্কট সমাধানের পূর্বের এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন বলে বোধ করছি। পূর্বের এবং নতুন করে আসা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৮ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। সংখ্যাটি ১০ লাখও হতে পারে। আর বাংলাদেশে আসার পর এখন পর্যন্ত ১৭৮ জন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। এই শিশুরা বাংলাদেশের মাটি কিংবা সীমান্তে জন্ম নিয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের আলো দেখেছে। মিয়ানমারের মতো কোন অন্ধ রাষ্ট্রের নয়। তাই এদেরকে সেই অন্ধকার থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। স্বল্পমেয়াদী সময়ের জন্যে হলেও এদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। কারণ এরা ঠিক কতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবে তা এখনও আমাদের জানা নেই। তাই এদেরকে আর বোঝা হিসেবে না বয়ে, সম্পদেই পরিণত করতে হবে। সেটা হতে পারে এমন- প্রথমত রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। জানাতে হবে, বাংলাদেশে থাকতে হলে অবশ্যই জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পিল খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে হবে। তিনের অধিক সন্তান নেওয়া যাবে না। ঘরের ভেতরে কুটির শিল্প গড়ে তুলতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছোট ছোট স্কুল করতে হবে। শিশুদেরকে শিক্ষার আলোয় আনতে হবে। জাতিসংঘের বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের আওতায়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে, ঘরে বসে না থেকে কাজ করতে হবে। ঘরে বসে কাজ করা যায়, এমন কাজ নিয়ে ভাবতে হবে। রোহিঙ্গাদের পুরোপুরি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এদেরকে বাইরে কাজ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তেই বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র সঙ্গে বহন করতে হবে। পুরুষ সদস্যদেরকেও দেশের আইন কানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে কড়া সতর্ক করতে হবে। এদেরকে বলতে হবে, একের অধিক বিয়ে বা তিনের অধিক সন্তান নেওয়া যাবে না; অবশ্যই তা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায়।

এমদাদুল হক তুহিন, ব্লগার, কবি ও সংবাদকর্মী। ইমেইল: [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ