আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

লৌহমানবীর থেকে ইস্পাত মানবী ; ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

জুয়েল রাজ  

ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন সদ্য সাবেক হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে। থেরেসা মে হয়তো নিজেও জানতেন না তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন, হলেও এতো দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন সেটা হয়তো কোনোভাবেই তাঁর ধারণায় ছিল না । আর থেরেসা মে’র প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসাবে দেখেছেন অনেকে। ইইউ বিতর্কে এক সময় ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল লৌহমানবী খ্যাত থ্যাচারকে। সেই ইইউ কারণেই রাতারাতি ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত হলেন থেরেসা মে।

মার্গারেট থ্যাচার এর প্রভাব এমনই যে, তাঁর মৃত্যুর পরে ও ব্রিটেনের রাজনীতি তাঁর ছায়া থেকে বের হতে পারেনি। গত বছর স্কটিশ উইডোজ এর পক্ষে এক জরিপে ব্রিটেনের রাণীকে পিছনে ফেলে দুইশত বছরের ইতিহাসে সেরা প্রভাবশালী নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন লৌহমানবী খ্যাত মার্গারেট থ্যাচার। দুই হাজার মানুষের উপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। তাঁদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয় গত ২০০ বছরে রাজনীতি, বিজ্ঞান, ব্যবসা, সামাজিক কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছেন কে। আর এর উত্তরে ২৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই বলেছেন মার্গারেট থ্যাচারের নাম। ১৮ শতাংশ বলেছেন রাণী এলিজাবেথ এর নাম।

ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী থ্যাচারকে লৌহমানবী হিসেবেই বিশ্ববাসী চেনে। কর্মময় জীবনে তিনি যেমন খ্যাতি কুড়িয়েছেন তেমনি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি তার। ১৯২৫ সালে লিংকনশায়ারে এক সাধারণ মুদিদোকানি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন থ্যাচার। গ্রানাম স্কুলে প্রাথমিক পাঠ চুকিয়ে তিনি বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪৬ সালে ছাত্রাবস্থায় তিনি কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে তিনি সম্পদশালী ব্যবসায়ী ডেনিস থ্যাচারকে বিয়ে করেন।

১৯৫৩ সালে তিনি ফিঞ্চলি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় এসেই থ্যাচার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন। তার রাজনৈতিক মতাদর্শ থ্যাচারিজম নামে পরিচিত। মুক্তবাজার অর্থনীতি, উদ্যোক্তাবাদ প্রভৃতি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন মার্গারেট।

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপ দখল করে নেয়। দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপ বিনা রক্তপাকে পুনঃদখল করেন থ্যাচার। এর ফলে ব্রিটেনে তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। ক্ষমতায় থাকাকালে থ্যাচার কঠিন শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শ্রমিকদের সংগঠন ট্রেড-ইউনিয়নের ক্ষমতা হ্রাসে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। শ্রমিকরাও নাছোড়বান্দা। তারা অব্যাহতভাবে ধর্মঘট চালিয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলা ধর্মঘট শেষমেষ সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুরো ব্রিটেন সেসময়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

অবশেষে তিনি শ্রমিকদেরও সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘ অমীমাংসিত এই বিষয় সমাধান করেন। এখানেও তার কূটনৈতিক সাফল্য প্রশংসা কুড়ায়। নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারণে তিনি বিশ্বনেতাদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়ান। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিস মিটার্যান্ড ‘কালিগুরার চোখ’ ও ‘মার্লিন মনরোর’ মুখ বলে অভিহিত করেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন তাকে লৌহমানবী খেতাব দেয়। এছাড়া, মার্গারেট থ্যাচার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কাউন্সিলের বাড়ির ভাড়াটেদের বাড়ি কেনার সুযোগ আর রাষ্ট্রীয় বণ্ড প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ করা হয়। তার সময়েই তেল, গ্যাস, ইস্পাত, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ, এবং পানি সরবরাহের মত বৃহদায়তন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেয়া হয়। ব্রিটেনে ধনী-গরীবের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর জন্যও লোকে তাকেই প্রধানত দায়ী করে থাকেন।

১৯৯০ সালের নভেম্বরে থ্যাচারের ক্ষমতা ছাড়ার পেছনেও কাজ করেছিল এই ইইউ ইস্যু। মন্ত্রিসভা ছাড়তে থাকেন দলের সিনিয়র নেতারা। ফলে থ্যাচারের সামনেও তখন পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। থ্যাচারের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইকোনমিক কমিশন বা ইইসি নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭০ এর দশকে বিরোধী দলের থাকা অবস্থায় তিনি ইউরোপের সঙ্গে থাকার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু পরে তার অবস্থান বদলে যায়। থ্যাচারের উত্তরসূরী জন মেজরও ছিলেন ইউরোপের সঙ্গে থাকার পক্ষে।

১৯৪৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে ‘শ্রেষ্ঠ আধুনিক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মার্গারেট থ্যাচার।

এডওয়ার্ড হিথ যখন ব্রিটেনের কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী তখন মাগারেট থ্যাচার ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এডওয়ার্ড হিথ কখনো ভাবেননি যে কোন মহিলা কখনো ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবে। মিঃ হিথ বলেছিলেন, "আমি মনে করিনা আমার জীবদ্দশায় কোন মহিলা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন"।

১৯৭৫ সালে রক্ষণশীল দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথকে বিস্ময়করভাবে হারিয়ে দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন মার্গারেট থ্যাচার। জেমস ক্যালাহানের সরকার বিদায় নেয়ার পরে মার্গারেট থ্যাচারই হলেন ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী একাধারে ১৯৭৯, ১৯৮৩ এবং ১৯৮৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন মার্গারেট থ্যাচার। কিন্তু ইউরোপের ব্যাপারে তাঁর নীতি নিয়ে তাঁর দল ও মন্ত্রীসভায় অসন্তোষ দেখা দেয়। অবশেষে মাইকেল হেজেলটাইন নেতৃত্বের পদে থ্যাচারকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অনেকদিন পর তিনি তার তিক্ত অনুভুতির কথা বলেছিলেন, "রাজনীতি করলে আপনার পিঠে কেউ ছুরি মারবে এমন ঝুঁকি থাকবেই। কিন্তু এটা আমি কখনো ক্ষমা করবো না যে আমাকে পার্লামেন্টের মাধ্যমে বিদায় নিতে দেয়া হয় নি। এটা আমি ভুলবো না"। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৮ এপ্রিল ২০১৩ সালে মারা যান মার্গারেট থ্যাচার।

ডেভিড ক্যামরনের বিদায়ও যেন মার্গারেট থ্যাচারের বিদায়ের মতো ঠিক তেমনি। যেন ইতিহাসের ফিরে আসা। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেন, এক কোলাহলময় সময়ে কিভাবে পরিচালিত করেন সে দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই।

থেরেসা মে ১৯৫৬ সালে সাসেক্স এর ইষ্টবর্ণ এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মা বাবার একমাত্র সন্তান, অক্সফোর্ড থেকে ডিগ্রী নেয়ার পর ব্যাংক অব ইল্যান্ডে কর্মজীবন শুরু করেন।

বিভিন্ন পদে কাজ করে ১৯৯২ সালে প্রথম নির্বাচনে নর্থ ওয়েস্ট ডারহাম থেকে তিনি পরাজিত হয়ছিলেন। ১৯৯৪ সালে উপনির্বাচনে প্রথম বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন থেরেসা। ১৯৯৭ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ছায়া মন্ত্রীসভায় নিযুক্ত হন।
২০০২ সালের দলীয় সম্মেলনে তিনি দাবী তুলেছিলেন কনজার্ভেটিভ পার্টিকে নতুন করে সাজাতে হবে। ২০১০ সালের নির্বাচনে শতকরা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০১০ সালে প্রথম হোম সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ পান তিনি। ব্রিটেনের ৬০ বছরের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হোম সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

হোম সেক্রেটারি হিসাবে যেসব সিদ্ধান্তের জন্য আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ্যাকার গেরি মিকনন কে ব্রিটেন থেকে বিতারণ করা। নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তকে ভিক্টমের বাসা থেকে বের করে দেয়ার নিয়ম চালু করেন।
২০১০ সালের জুন মাসে কাম্বারিতে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের রেশ ধরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েককে ব্রিটেনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। একই সাথে নন-ইইউ অভিবাসীদের জন্য পয়েন্ট বেইজড ক্যাপ এর ঘোষণা দেন।

পুলিশের বাজেট কাট, যে কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে যাচাই করা যা ‘’স্টপ এন্ড চার্স’’ নামে পরিচিত। সন্ত্রাসী সন্দেহে যে কাউকে বিনা বিচারে ২৮ দিন পর্যন্ত আটক রাখার নীতি। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশিন ফি বৃদ্ধ্বির প্রতিবাদে ছাত্রদের প্রতিবাদে পুলিশি নির্যাতন। ২০১১ সালে টটেনহ্যাম এলাকায় হঠাৎ করে লুটতরাজ শুরু হয়েছিল যা পরে সারা ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়েছিল, থেরেসা মে শক্ত হাতে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন।

থেরেসা মে সবচেয়ে বেশী আলোচিত ইমিগ্রেশন নীতিতে নানারকম পরিবর্তন নিয়ে ২০১০ সালে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন নেট মাইগ্রেশন প্রতিবছর ১ লাখে নামিয়ে নিয়ে আসবেন। ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে ৬ লাখ ২৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ২৭ হাজার অভিবাসী বিভিন্নভাবে নিজ নিজ দেশে ফেরত গিয়েছেন আবার একই সময়ে নন ইইউ অভিভাসীর সংখ্যা ৪৩ হজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৫১ হাজারে চলে গিয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত কম্পালসারি কোয়াটস এর প্রস্তাব নাকোচ করে তিনি বলেছিলেন যুদ্ধাঞ্চলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিৎ তবে যে সব অঞ্চল ইউরোপের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সে সব অঞ্চলে অবশ্যই নয়। ২০১২ সালে ইমিগ্রেশন আইনে নন-ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীকে ব্রিটেনে নিয়ে আসতে সর্বনিম্ন ১৮ হাজার ছয়শত পাউন্ড বাৎসরিক বেতনের বাধ্যবাধকতা আইন পাশ করেন । ইরাকী বংশোদ্ভূত এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করেন।
ডিপর্টেশন সেন্টারে ইসা মজু নামে এসাইলাম সিকার এক ব্যক্তি ১০০ দিন অনশন করেন।

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের ডানহাত হিসেবে পরিচিত ৫১ বছর বয়সী কাতাদা ১৯৯৩ সালে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাজ্যে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৯৯৮ সালে জর্দানের একটি আদালত এক সন্ত্রাসী হামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে অভিযোগ ওঠে, অন্য আসামিদের নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার প্রথমে ২০০৫ সালে কাতাদাকে জর্দানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে তাকে জর্ডানের হাতে তুলে দেয় ব্রিটিশ সরকার। পাসপোর্ট অফিসে প্রায় ৩ লক্ষ আবেদন জটে পড়ে গিয়েছিল থেরেসা মে প্রায় ৬ লক্ষ ৭৪ পাউন্ড খরচ করে সেই জট থেকে হোম অফিসকে মুক্ত করেন।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের উপর যে খড়গ নেমে এসেছে ব্রিটেনে তার মূল দায় ছিল থেরেসা মে’র । আইনকানুনের নানা মারপ্যাঁচে প্রথম ধাক্কায়ই বন্ধ হয়ে যায় সার্টিফিকেট কলেজগুলো, যারা মূলত টিউশনের নামে সার্টিফিকেট বিক্রি করত। পরে অনেকগুলো বড় কলেজ ও তাদের লাইসেন্স হারায়। অনেক নন-ইইউ শিক্ষার্থী সে সময় দেশে ফিরে যায়। কেউ কেউ অবৈধ পথে পাড়ি দেয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। অনেকে আবার অবৈধ হয়ে যান ব্রিটেনে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর প্রথম বক্তব্যে থেরেসা মে বলেন, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে আমাদের ইউনিয়ন ধরে রাখবো।

বক্তব্যে তিনি পূর্বসুরি ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তেরেসা মে বলেন, আমি একজন অত্যন্ত আধুনিক প্রধানমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছেছ। বাজেট ঘাটতি কমিয়েছে। বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। তিনি একটি একক জাতি হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে তাও মোকাবিলার কথা বলেন তিনি। বলেন, বিশ্বে ব্রিটেন একটি নতুন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ব্রিটেন হবে এক জাতির দেশ। এখানে সব ভোটার এক। এটা শুধু কনজার্ভেটিভদের দেশ নয়। আমি যে সরকারের নেতৃত্ব দেবো তা শুধু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থের জন্য নয়, আপনাদের সবার জন্য হবে তা। আপনাদেরকে যতটা সম্ভব ভাল কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো।

হোম সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনে থেরেসা মে, যে দৃঢ়তা ও নিজের চিন্তা বাস্তবায়নে কিছু তোয়াক্কা না করে কাজ করেছেন, তখন থেকেই অনেকে মার্গারেট থেচারের সাথে থেরেসাকে তুলনা করতেন। থেরেসা মে'র হেয়ার স্টাইল ও চালচলনও তিনি মার্গারেট থ্যাচারের অনুসারী বলেই ভাবতেন।

হোম সেক্রেটারি হিসাবে ইউরোপীয় আইনের বাধ্যবাধকতায় ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের বহু আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন সেই বাধ্যবাধকতা নাই। আর ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে আসার মূল কারণই আসলে অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ।

অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে এখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে থ্যাচারের লৌহমানবী খেতাব অতিক্রম করে আরও ধারালো ইস্পাত এর মতো তাঁর শাসনকাল হয় কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায়।
(তথ্যসূত্র অনলাইন)

জুয়েল রাজ, ব্রিটেন প্রবাসী সাংবাদিক

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫১ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৪ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১১৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ