আজ রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

হাজার হাজার শিশুর মরা মুখ, ধ্বংসের পথে সিরিয়া

চিররঞ্জন সরকার  

মাথার রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল চিবুক পর্যন্ত। ব্যান্ডেজে ঢাকা মাথা। বুজে গিয়েছে বাঁ চোখ। তবু চোখ দিয়ে জল পড়েনি। অবশেষে আহত বাবা-মাকে দেখেই কাঁদতে শুরু করল পাঁচ বছরের ওমরান দাখনিশ। গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার এই শিশুটি যেন বিশ্বসভ্যতাকে ব্যঙ্গ করছে! রক্তাক্ত, ধুলোয়-কাদায় মাখামাখি, তীব্র আতঙ্কে বাক্যহারা একটা মুখ। যন্ত্রণার তীব্রতায় যেন কাঁদতেও ভুলে গিয়েছে বছর পাঁচেকের ছেলেটা।

যে চিত্রসাংবাদিক শিশু ওমরানের ভিডিওটি শুট করেছিলেন, তিনিই সেই ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিধ্বস্ত ওমরান আনমনেই নিজের বাঁ হাতের দু’পিঠ দিয়ে মুছে নিচ্ছে কপাল আর গাল পেয়ে গড়িয়ে আসা রক্ত। হাতের দিকে চেয়ে দেখছে এক ঝলক। তার পর অ্যাম্বুলেন্সের সিটে মুছে নিচ্ছে হাতটা।

সিরিয়ায় নিরন্তর চলছে ধ্বংসলীলা। আর সেই ধ্বংসের মুখ হিসেবে বার বার উঠে আসছে শিশুদের বিধ্বস্ত শৈশবের ছবি। প্রথমে আইলান কুর্দি। তার পর ওমরান। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে শৈশব। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের একদম গোড়ায় তুরস্কের সমুদ্র সমুদ্র সৈকতে মুখ থুবড়ে নিষ্প্রাণ পড়ে থাকা আলানের দেহের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ঝড় ওঠে গোটা বিশ্বে। ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সিরিয়ায় রোজ মানবাধিকার যে ভাবে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, শিশুরা যে ভাবে যুদ্ধের বলি হচ্ছে, তার প্রবল নিন্দা শুরু হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ থামেনি। ১১ মাস পরে আবার একই ছবি। রুশ বোমায় ভেঙে পড়ল বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে গেল গোটা পরিবার। ওমরান বেঁচে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু তার ভাই দশ বছর বয়সী আলিকে চিকিৎসকরা আর বাঁচাতে পারেননি। ওমরান আর তার পরিবার মারাত্মক জখম নিয়ে চিকিৎসাধীন।