আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ধর্ষণ কি অপ্রতিরোধ্য?

ড. কাবেরী গায়েন  

বাংলা বর্ষবরণে টিএসসিতে নারীনির্যাতন ও মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের শিশু নির্যাতনের ঘটনা থেকে শুরু হয়ে মাসখানেক ধরে যেনো ধর্ষণ-সংবাদের সুনামি চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে। বাসে- মিনিবাসে- ট্রাকে- স্কুলে- মাঠে- পাহাড়ে ধর্ষণসংবাদ পাচ্ছি।



গত কয়েকদিনের কিছু সংবাদ-শিরোনাম: ঠাকুরগাঁয়ে তরুণীকে ধর্ষণের পরে হত্যা, কিশোরগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত, পিরোজপুরে ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা, মিরপুরে পাঁচ বছরের এক স্কুলশিশুকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির পরে ছাত্রীকে জুতাপেটা, মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে ইমাম কর্তৃক ধর্ষিত তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।



আদিবাসী নারী, প্রতিবন্ধী নারী, চার বছর বয়সী থেকে শুরু করে ৫৫ বছরের নারী, মৃত শিশু, এমনকি গরুও রেহাই পায়নি এই ধর্ষণ সহিংসতা থেকে। দিনাজপুরে গরু ধর্ষণের জন্য কিশোরের বিরুদ্ধে মামলার খবরও পেয়েছি আমরা। এসব ধর্ষণসংবাদ, ধর্ষকদের ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারার ব্যর্থতা এবং নতুনতর ধর্ষণ-সংবাদের মধ্য দিয়ে সমাজে প্রচলিত ধর্ষণের অপ্রতিরোধ্যতার মিথটিই যেনো শক্তিশালী হচ্ছে। আমি শুধু বুঝতে চেষ্টা করছি, ধর্ষণ কি সত্যিই অপ্রতিরোধ্য?

দুই
ধর্ষণ বিষয়ে একাডেমিক পড়াশুনা করতে গিয়ে একটি বিষয় পরিস্কার হয়েছে, ধর্ষণ পুরুষের জৈবিক প্রকৃতি নয় বরং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রশ্রয়ে নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত পুরুষতান্ত্রিক অপরাধ, অসংখ্য সহিংস অপরাধের একটি। এই অপরাধটিকে নারী-পুরুষ সকলেই মারাত্মক মনে করেন, এ বিষয়ে বিরুদ্ধ পোষণ করেন অথচ অপরাধটি চলতেই থাকে। প্রতিমূহূর্তে ধরা পড়ে যাবার ভয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে যৌনসুখ পাওয়া কষ্টকল্পনা। তবুও যখন ঘটনাটি প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে ধরা পড়লে শাস্তি, নিদেনপক্ষে সামাজিক সুনামহানির ভয় মাথায় নিয়ে, তাহলে ধরে নেয়া যায় ধর্ষণকারীর জন্য কোন না কোন ধরণের শ্লাঘার বিষয় আছে। সেই প্রকাশ্য-গোপন শ্লাঘার বিষয়টিকে মাথায় রেখেই বোধহয় ধর্ষণের অপ্রতিরোধ্যতার মিথটি প্রচলিত। ধরেই নেয়া হয়েছে, ধর্ষণ সব সমাজেই কমবেশী আছে, নারীকে তাই সাবধানে থাকতে হবে। অথচ সকল পুরুষ যেমন ধর্ষণ করে না, তেমনি সকল সমাজে ধর্ষণ রয়েছে, বিষয়টি মোটেই তেমন নয়।

১৯৬৯ সালে ১৫৬টি সমাজে ধর্ষণ প্রবণতার উপর গবেষণা করে নৃতাত্ত্বিক প্যাগি স্যান্ডি দেখান যে, ধর্ষণ কোন অবশ্যম্ভাবি বিষয় নয় বরং তাঁর গবেষণাধীন ৪৭ শতাংশ সমাজে ধর্ষণ নেই। ধর্ষণমুক্ত মডেল সমাজ হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার আশানতি, মবুতি পিগমী সমাজের উদাহরণ টেনেছেন। ধর্ষণমুক্ত সমাজে নারী-পুরুষ মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদাবান, অর্থনৈতিক সাম্য আছে, আছে সামাজিক স্থিরতা, যেখানে পুরুষের দৈহিক শক্তিকে অপরিহার্য মনে করার মিথ প্রচলিত নয়। আশান্তি সমাজে নারীরা প্রভাবশালী সদস্য, সামাজিক এবং ধর্মীয় জীবনে নারী পুরুষেরই সমানভাবে অংশ নেন। মবুতি সমাজের কোন সদস্যই কারো উপর প্রভুত্ব করে না, এমনকি যে জঙ্গলের উপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে, সেই জঙ্গলের উপরেও তাদের কোন প্রভুত্বের ধারণা কাজ করে না। নারীর সন্তান্ধারণ ও লালন করার ক্ষমতাকে দেয়া হয় সর্বোচ্চ সম্মান। মূলত মাতৃতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষণের ধারণাই অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে গারো নারী ধর্ষণের প্রতিবাদ সমাবেশে সঞ্জীব দ্রং জানিয়েছেন, গারো ভাষায় 'ধর্ষণ' শব্দটিই নেই।

পাশাপাশি ধর্ষণ-প্রবণ সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয়া, শৈশব থেকেই পুরুষদের উগ্র, প্রতিযোগী হতে শেখানো, জনপরিসরে বা ধর্মীয় বিষয়ে নারীর সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা না থাকা, নারীর বাস্তব-বুদ্ধি বিষয়ে পুরুষের প্রকাশ্য উপহাস, নারীর কাজকে অবমূল্যায়ন করা এবং এমনকি যৌনসম্পর্কে সম্মত না হলে জোর করাকেও পৌরুষ হিসেবে মহিমান্বিত করা। ধর্ষণ-প্রবণ সমাজের মডেল হিসেবে কেনিয়ার গুসি (Gusii)-কে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক স্যান্ডি। এই সংস্কৃতিতে বিবাহিত নারী যৌন সম্পর্কে কখনো অনাগ্রহ প্রকাশ করলে স্বামীর অধিকার রয়েছে তাকে পেটানোর, এমনকি ধর্ষণের। অধ্যাপক স্যান্ডি শেষ করেছেন এই বলে যে, ধর্ষণ পুরুষ প্রকৃতির অনিবার্যতা নয়, তবে পুরুষ প্রকৃতির যে ইমেজ নির্মিত হয়েছে, তার ফলাফল। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য করার এই ইমেজ প্রতিষ্ঠা করে সমাজ, সংস্কৃতি এবং ক্ষমতাকাঠামো।

শুরুতেই ধর্ষণকারীর যে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শ্লাঘার কথা উল্লেখ করেছিলাম, সেই শ্লাঘা হলো, নারীর শরীরের উপর পুরুষের দখল প্রতিষ্ঠা করার শ্লাঘা। যৌনতার সাথে যার সম্পর্ক সামান্যই, সম্পর্ক পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা অনুভবের। সমাজে পুরুষের এই ক্ষমতা অনুভবের শর্ত জারি থাকতে হয় ধর্ষণ জারি থাকার জন্য।

তিন
এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের সমাজে-সংস্কৃতিতে কি ধর্ষণ-প্রবণ সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান? সততার সাথে এই প্রশ্নের মোকাবেলা করাটা জরুরি। অধ্যাপক স্যান্ডি যেসব প্রবণতাকে ধর্ষণ-প্রবণ সমাজের বৈশিষ্ট্য বলে চিহ্নিত করেছেন, সেসব প্রবণতা আমাদের সমাজে বিরল নয়। নারী-পুরুষের সাম্য অর্থনীতি, আইন, সামাজিক সম্মান কোন ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠিত নয়। নারীর প্রতি সংঘটিত যে কোনো যৌন নির্যাতনের জন্য নারীকেই দায়ি করা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রোথিত। বর্ষবরণে টিএসসির ঘটনায় নারীর সাজগোজ ও পোষাককেই দায়ি করেছেন শফী হুজুর। প্রিপারেটরি স্কুলে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌননির্যাতনের অভিযোগের মুখে স্কুলের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা বলেছেন, "ফুল থাকলে মৌমাছি আসবে।" আর সবশেষ উদাহরণ দেখা গেলো হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ধর্ম বিষয়ের প্রশ্নপত্রে। বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় 'গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট' পরে যাবার জন্যই যে মেয়েরা নানা ধরণের অসুবিধায় পড়ে এবং এ বছর বৈশাখী মেলায় ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো এড়ানোর উপায় হিসাবে পোশাক পরিচ্ছদে শালীনতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়ার মাধ্যমে বৈশাখে সংঘটিত ঘটনার জন্য নারীর পোষাক-পরিচ্ছদকেই দায়ি করা হলো। এমনকি ৫(খ) নং প্রশ্নে পোশাক-পরিচ্ছদে শালীনতা অবলম্বন করে 'কীভাবে সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি?' জানতে চাওয়ার মাধ্যমে ধর্ষককে শাস্তি দেয়া নয়, বরং ধর্ষিতকেই পোশাক সামলে চলতে বলা হলো।

আমাদের রোমান্টিকতার ধারণা তৈরি হয়েছে অনিচ্ছুক নারীর পেছনে পুরুষের জোরপূর্বক অনুসরণের দৃশ্যসহ 'চুমকি চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তা'তে' জাতীয় গানের মাধ্যমে। বিখ্যাত নাটকের জনপ্রিয় ডায়লগ, 'মেয়ে মানুষ, পশু আর ঢোলকে রাখতে হবে বাড়ির উপর'। গ্রামের মাতব্বর সমাজ ধর্ষিতকেই দোররা মারার বিধান চালু রাখে বলে ১৪ বছরের ধর্ষিত হেনাকে গ্রাম্য শালিসের দোররায় মরে যেতে হয়। ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতকে বিয়ে দেয়াকে সামাজিক সমাধান মনে করা হয়। আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী শুধু যে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যর্থ হয় এমন নয় বরং তাদের নির্যাতকের ভূমিকায় দেখার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। ইয়াসমীনকে পুলিশ ধর্ষণ ও হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলো, জেলের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ধর্ষণ করে হত্যা করেছিলো সীমাকে, এবারের টিএসসির ঘটনায় পুলিশের সব পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া এবং গুরুত্ত্ব লঘু করার সব উদ্যোগ নিয়েছেন। যৌননির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের পিটিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ইসমত জাহানকে পুলিশ যে নির্মমতায় পিটিয়েছে এবং যে আতঙ্কিত মুখ আমরা দেখেছি গণমাধ্যমে, তা নজিরবিহীন। আর সবশেষে পুলিশের আইজি বর্ষবরণে টিএসসির যৌননির্যাতনকে তিন-চারটি ছেলের 'দুষ্টামি' বলেছেন।

তবে সবকিছুকে ছাড়িয়েছে, "কারাবন্দী মেয়েদের যৌনকাজে ব্যবহার করা হয়" মর্মে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য (http://www.monitorbd.net/newsdetail/detail/200/131190)। গত ২৬ মে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে 'নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায়: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান' শীর্ষক বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ঢাকা ও সিলেট কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছেন। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে সুপ্রিমকোর্টের কার্যালয়ে ডেকে গাজীপুরে ৫৪ ধারায় আটক নারীদের, যারা এই নির্যাতনের শিকার, তাদের তালিকা দেবার অনেকদিন পার হলেও কোন পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য রাষ্ট্রের নানা যন্ত্র যে ধর্ষণকে জীইয়ে রেখেছে সে বিষয়ের চূড়ান্ত সাক্ষ্য বলেই মনে হয়। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে এমন সত্য প্রকাশ্যে আনার জন্য। আর ঠিক এই বিন্দুতেই প্রশ্ন, ধর্ষণ কি তবে কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণেও অপ্রতিরোধ্য?

চার
আমাদের রাজনীতি, সামাজিক ও আইনী ব্যবস্থা ধর্ষককে সুরক্ষা দেবার সংস্কৃতি লালন করে চলেছে। অর্থনৈতিক বন্টনসহ নারীর প্রতি নানা অবিচারের কাঠামো যে ব্যবস্থায় নিহিত, সেখানে ধর্ষণ অনিবার্য। বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণকে কী ভীষণভাবেই না জীইয়ে রেখেছে। হাজার বছরের এই অচলায়তনে চিড় ধরানো খুব সহজ নয়। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য বিস্তারকারী সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে নারী-পুরুষের সাম্য বিধানকারী নতুন সংস্কৃতি নির্মাণ করা সম্ভব না হলে এক-আধটি বিচার নামের প্রহসন দিয়ে এই সর্বমাত্রিক যৌন সহিংসতাকে দমন করা যাবে না। ধর্ষণ কেউ সাক্ষী রেখে করে না, ফলে সামাজিক নিন্দার বাধা অতিক্রম করে কেউ ধর্ষণের বিচার চাইলেই বর্তমান বিচার কাঠামোতে ন্যায্য বিচার পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে যেখানেই অসাম্য, প্রয়োজন সেখানেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ।

ছাত্রদের প্রতিরোধ জারি ছিলো বলেই টিএসসি'র ঘটনাটিকে সম্পূর্ণভাবে চেপে যাওয়া সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষে, সম্ভব হয়নি প্রিপারেটরি স্কুলের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া। প্রতিরোধ ছিলো বলেই গারো নারীকে ধর্ষণকারীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্র বাধ্য হয়েছে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী ছাত্রীকে লাঞ্ছনার দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদের বহিস্কার করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিরোধের কারণেই হলিক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে দুঃখপ্রকাশ করতে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে চাকরিচ্যূত করা গেছে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের জন্যই। গারো মেয়েটির ঘুরে দাঁড়ানোও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যে দু'জনকে ধরা গেছে এবং নিজেরা অপরাধ স্বীকার করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

প্রতিরোধ চলুক ধর্ষণ আইনে যেসব ফাঁক রয়েছে, সেসব সংশোধনের জন্য। প্রতিরোধ হোক শিক্ষা কার্যক্রমের যেখানেই নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক ধারণা বহাল রয়েছে, সেসব পাল্টে দেবার। সামাজিক সচেতনতা তৈরীতে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্ষণ বিষয়ে 'নারীর সর্বস্ব হারানো'র পুরুষতান্ত্রিক মিথটিকে পাল্টে 'ধর্ষকের রক্ষা নাই' মর্মে বিকল্প মিথ নির্মাণের মধ্য দিয়েই ধর্ষণকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এই প্রতিরোধে রাষ্ট্রের কোন এজেন্সী বিরোধিতা করলে পাল্টা আঘাত সেখানেও হোক। ধর্ষণ অপ্রতিরোধ্য নয়, অপ্রতিরোধ্য হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের জাগরণ।

এই জনপদে ধর্ষণ সব সময়েই ছিলো, খবরে কম আসতো। ধর্ষণের খবরগুলো প্রকাশিত হচ্ছে, এটি প্রথম প্রতিরোধ। ধর্ষিত নারী রুখে দাঁড়াচ্ছেন, এটি পরবর্তী প্রতিরোধ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সোচ্চার হচ্ছেন, এটিই চূড়ান্ত প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধ জারি থাকে যদি, ভেঙ্গে যাবে ধর্ষণের অপ্রতিরোধ্যতার মিথ।

ড. কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬১ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৯ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ