আজ বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং

রাজনীতির সেদিন ও এদিন-১

রণেশ মৈত্র  

একজন প্রথম শ্রেণির রাজনীতিবিদ এক আলোচনা সভায় দু:খ প্রকাশ করে বলেছিলেন, অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে রাজনীতিক বলে আর পরিচয় দিতে ইচ্ছে করে না। বড্ড অবমাননাকর হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতিক শব্দটি। তিনি আরও বলেছিলেন, আজ রাজনীতিতে আসছে কারা ? মূলত: সরকারি দল বা বৃহৎ পৈত্রিক বা বংশগত সূত্রে রাজনীতির আসছেন, এম.পি মন্ত্রীও হচ্ছেন। পেশা ব্যবসায় অথবা অজ্ঞাত কিন্তু অঢেল সম্পদের মালিক। গাড়ী, বাড়ী, ব্যাংক ব্যাল্যান্স কোন কিছুরই অভাব নেই। দেশের জনগণের কোন কাজে এদের কোন অবদান নেই-নেই মল-মূত্র ছাড়া সামান্যতম ত্যাগ। নির্বাচন এলে টাকার বিনিময়ে এঁরাই দলীয় মনোনয়ন পান এবং একই সম্পদে সম্পদশালী হওয়ায় দিব্যি ভোটে জিতেও আসেন। মাস কয়েক তাঁরা দলে দলে কর্মী গাড়ীতে নিয়ে বিশাল বিশাল সভা সমাবেশ করে নানাবিধ দাবী পূরণের আশ্বাস দিয়ে সহস্রকণ্ঠে “জিন্দাবাদ,” মুর্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে এমন আবহ তৈরি করেন এলাকা জুড়ে যে মনে হয় এঁকেই ভোট দিলে দেশের ও মানুষের উন্নয়ন ঘটবে। এই ভাবনা থেকে সাধারণ মানুষগুলি দিব্যি তাঁদেরকে ভোট দিয়েও দেন। আবার সাঙ্গা-পাঙ্গারা হুমকিও দেন, অমুক মার্কায় ভোট না দিলে খবর আছে। আর যায় কোথায়। ভোটের বাক্স তিন ঘণ্টার মধ্যেই বোঝাই। প্রার্থীটি বিজয়ী এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর পরাজয়ই শুধু ঘটেনি জামানত ও বাজেয়াপ্ত।”

এমন মহান ব্যক্তিদেরকেই আমরা নির্বিবাদে রাজনীতিক হিসেবে সুমহান মর্যাদা দিই, অভিহিত করি, ভোটে নির্বাচিত করি।

যাঁদেরকে কদাপি (ছাত্রাবস্থায়) শিক্ষা সংক্রান্ত কোন সমস্যা সমাধানের দাবীতে স্কুলে, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেখিনি তাঁরা পিতৃত্ব অর্জন ও শিক্ষাজীবন সমাপনান্তে ছাত্র নেতার পদে অধিষ্ঠিত হতে দিব্যি দেখছি। আর দেখছি তাঁরা দিব্যি সরকারি বা বৃহৎ বিরোধী দলগুলির দামী দামী পদে মনোনীত (কদাপি নির্বাচিত হয়ে নয়) হচ্ছেন, দেশের নানা অংশের রাজা বনে যাচ্ছেন-ভর্তি বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্য প্রভৃতির মাধ্যমে লাখো-কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন।

এর পরবর্তী ধাপে, অবশ্য বেশ কিছু বছর পরে এম.পি বিপুল টাকা ব্যয়ে। ২/৩ বার পরপর নির্বাচিত হলে আবার ২/৩ বার মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা।

এর সাথে বিবেচনা করা যাক ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের কথা। কেমন ঘরের সন্তান ছিলেন তাঁরা ? কেমন পোশাকই বা দেখা যেত তাঁদের পরনে। কারও বা পরনে একটি লুঙ্গি মাত্র কারও বা পায়জামা কমদামী কাপড়ের ও একটি সার্ট। জুতা বা স্যান্ডেল ? না তা কিনবার বা ব্যবহারের সাধ্য শক্তি তাঁদের কারও ছিল না। ঐ অবস্থাতেই তাঁরা মাতৃভাষা বাংলার অপরাপর মাতৃভাষার সমমর্যাদা অর্থাৎ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার মর্যাদার জন্য লড়াই করতে করতে জীবন দিলেন। জীবন কিন্তু আকস্মিক দেন নি। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবানে সমগ্র ঢাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাঁরা ঐ দাবীতে মিছিল নিয়ে নিকটবর্তী প্রাদেশিক সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেবেন-এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হাজারে হাজারে তাঁরা এগুচ্ছিলেন।

এই আন্দোলন, এই মিছিল, এই মৃত্যুদানের খবর যখন সারা পূর্ববাংলায় ছড়িয়ে পড়লো তখন সরব হয়ে উঠলো ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকারা। না, ব্যক্তিগতভাবে কিছু পাবার আশায় না। তাঁদের একমাত্র দাবী ছিল “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”, “খুনি নূরুল আমিনের বিচার চাই।” সর্বত্র একদিনের হরতাল ঢাকায় ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে। সঙ্গে মিছিল।

কোথাও কাউকে কিন্তু ভয় দেখাতে হয় নি। কোন দোকানদার, কোন পরিবহন মালিক চালককে পিস্তল দেখানো হয় নি। কিন্তু সে কী হরতাল। দোকান-পাট গাড়ী-ঘোড়া-স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়- সব কিছু বন্ধ। বন্ধই না শুধু। কয়েকশত ছাত্র-ছাত্রীর বের করা ঐ মিছিলে সব কিছু বন্ধ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা যোগ দিয়েছেন হাজারে, হাজারে। শ্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেছেন-প্রকম্পিত করেছেন সারাটি দেশ।

সমাজ থেকে পাকিস্তানী জোশ তখনও যায়নি তথাকথিত আলেমরা সশস্ত্র গুণ্ডা লাগিয়ে দিয়েছেন মিছিল ভাঙ্গার জন্য পুলিশি প্রহরায়। কিন্তু ঐ গুণ্ডা বাহিনীর সাহস কোথায় কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্র জনতাকে লাঠি-পেটা করে ? উল্টো দাপড় খেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ তো ছিল তাদের নিরাপত্তা বিধানে-মারার হুকুম দিতে কেউ সাহস পায়নি-ঢাকার ছাত্র হত্যা এবং অত:পর দেশব্যাপী পরিলক্ষিত তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে। মিছিলকারীরাও সেদিন আর ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা মানেনি। বলা চলে এক বিপ্লব ঘটেছিল সেদিন।

এটা আমি লিখছি পাবনা শহরের অভিজ্ঞতা থেকে। একুশ ফেব্রুয়ারি ঢাকাতে গুলির খবর বাংলাদেশের (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) রেডিও টেলিভিশন থেকে প্রচার করতে দেওয়া হয় নি। সবই তখন ছিল সরকারি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলো।

কিন্তু ঐদিন সন্ধ্যার বুলেটিনে কলকাতার আকাশবাণী থেকে ভাষা আন্দোলনকারীদের অনেককে মিছিলে পুলিশ গুলি করে মারার খবর শুনার সাথে সাথে দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। আমরা ছাত্র প্রতিনিধিরা যৌথ বৈঠকে পরদিন হরতালের সিদ্ধান্ত নিয়ে টিনের চোঙা দিয়ে তা প্রচার করেছিলাম। তাতেই অমন হরতাল।

এলো যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। গঠিত হলো সর্বদলীয় ছাত্র-কর্মী শিবির। হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত ঐ যুক্তফ্রন্টের সপক্ষে ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রলীগ নেতাদের সমবায়ে গঠিত হলো সর্বদলীয় ছাত্রকর্মী শিবির। হতদরিদ্র ঘরের সন্তানরাই এলেন যুক্তফ্রন্টকে জেতানোর লক্ষ্যে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্রকর্ম শিবিরে। তাঁদের গ্রামে গ্রামান্তরে ছুটে মুসলিম লিগকে হারানো এবং যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীদের বিজয়ী করার সঠিক কাহিনী সার্বিকভাবে আজও লিখিত হয় নি।

যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনোনীত হলেন কারা ? তখনও দেশব্যাপী আওয়ামীলীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি প্রভৃতি গঠিত হয়েছে মাত্র। কাদেরকে নিয়ে দলগুলি গঠিত হলো ? তাঁরা নি¤œমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। কিন্তু তাঁরা সততা, নিষ্ঠা ও দেশ প্রেমের তাবৎ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। কেউ কেউ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন আবার কেউ কেউ নানাভাবে ভাষা আন্দোলনের সাথে সহায়তা করেছেন।

পেশাতে বেশীর ভাগই শিক্ষক যারা ক্লাসে ভাল পড়ান কিন্তু ২/১টি ক্ষেত্র ছাড়া বাড়ীতে কাউকে পড়াতেন না। কোচিং সেন্টার শব্দটি তখন পুরোপুরি অজানা ছিল। দরিদ্র পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি দিতে না পারলে অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে তার বেতন দিয়ে দিতেন যাতে ছেলেটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে না পারে।

তেমনই মনোনয়ন পেতেন কিছু সমাজকর্মী-যারা অবসর পেলেই নানাবিধ সমাজকল্যাণমূলক কাজে বিনাবেতনে লিপ্ত হতেন। তেমনই কিছু সৎ ব্যবসায়ী ও পেতেন যদিও সংখ্যায় কম। তবে তাঁরা খদ্দের ঠকানো, দ্রব্যমূল্য বেশী নিয়ে বেশী মুনাফা করা-এগুলি ভাবতেই পারতেন না।

রাজনীতি কিন্তু এঁরাই করতেন। তৃণমূল পর্যায়ে এঁরাই দলের শাখা গড়ে তুলতেন এবং সংগঠনের বিস্তার ঘটাতেন। সবই নিজের পকেটের পয়সা খরব করে কারণ তাঁরা ভাবতেন অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে রেহাই পেতে হলে বা জাতিকে বাঁচাতে হলে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

এমন ধরণের মানুষগুলিকে বলা হতো আপনারা নির্বাচনে দাঁড়ান। প্রার্থীরা তখন ততটা ভিড় ছিল না। তবে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে সামান্য কিছুটা ভিন্ন চিত্র ছিল। যেহেতু আওয়ামীলীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি ও নেজামে ইসলাম ছিল যুক্তফ্রন্টের প্রধান দল-সেই হেতু ফ্রন্ট নেতৃত্বের কাছে বেশ ভাল সংখ্যক দরখাস্ত এসেছিল। কিন্তু মনোনয়নের মাপকাঠি ছিল আন্দোলনের সহযোগী কিনা, সৎ কিনা, মানুষের প্রতি অখণ্ড ভালোবাসা আছে কিনা এবং কোন দুর্নীতিমূলক কাজের সাথে লিপ্ত আছেন বা কখনও ছিলেন কিনা, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি কিনা প্রভৃতি। এই গুণাবলীতে পাশ করলেই মনোনয়ন পাওয়া যেত মনোনয়নের দরখাস্তের ফি বড় বড় দলের ছিল ১০০ টাকা (যত টুকু মনে পড়ে)। নির্বাচন কমিশনকেও জামানত ফিও প্রায় একই রকম ছিল।

নির্বাচনী প্রচারণা: মাইক তখন পাওয়া যেত না মফস্বল এলাকায়-জেলা শহর থানা শহরেও না। টিনের চোঙা দিয়ে জনসভার প্রচার, গুটি কতক পোষ্টার আর কিছু সংখ্যক লিফলেট। এই দিয়ে প্রচার করে ইউনিয়নগুলিতে জনসভা করার চেষ্টা করা হতো। প্রার্থীও কর্মীরা অনেকেই হেঁটে জনসভায় যেতেন এবং রাতের বেলায় ফিরতেন। জেরা বোর্ডের রাস্তার ধারে হলে অবশ্য গাড়ীর সময় অনুষ্ঠান সভা শুরুতে ও শেষ করতে হতো।

এমন প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে জিততেন। তাঁরা সংসদে জন গণের স্বার্থে কথা বলতেন। অসততার অভিযোগ বড় একটা উঠতো না কারও বিরুদ্ধে।

মহিলারা তো তখন বেশী একটা বাড়ী থেকে বের হতেন না। ভাষা আন্দোলনের সময় মেয়ে কর্মীদেরকে বাড়ী বাড়ী পাঠানো হতো রশিদ ও কৌটা দিয়ে। বাড়ীর মহিলারা অকাতরে টাকা পয়সা তো দিয়েছেনই অনেকে আবার নিজের গলা বা হাত থেকে সোনার হার ও চুরি আংটি প্রভৃতি দিয়ে দিতেন। এ দেখে আন্দোলন করাটাই অবাক হতেন।

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় ও এমন কিছু ঘটনার কথা শুনেছিলাম।

এক কথায়, নারী পুরুষ পৃথকভাবে হলেও, যেন জোট বেঁধেছিলেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে

ছাত্র-ছাত্রীরা অবশ্য মিলিত ভাবেই কর্মী শিবির গঠন করে অসংখ্য টিমে বিভক্ত হয়ে প্রায় এক মাস গ্রাম গঞ্জ ব্যাপী প্রচার কার্য, জনসভা, কর্মীসভা করেন। তাঁরা শহর থেকে গেলেও নির্বাচনকালীন সময় অর্থাৎ নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্রামেই একটি ঘড়ের বিছানা পেতে জামা কাপড় গামছা দিয়ে বালিশ বানিয়ে রাতে ঘুমিয়েছেন- অনেকে পেঁয়াজ পান্তাই ছিল তাঁদের নিয়মিত খাদ্য। বেশীর ভাগ প্রার্থীও তাদের সাথে বসে একত্রে একই খাবার খেতেন।

এরাই ছিলেন সমাজের নেতা-রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী। বিজয়ী হওয়ার পর মাসিক ভাতা হিসেবে যে ২৫০/- আড়াই শত টাকা করে পেতেন এলাকার গরীব মানুষের মধ্যে তা তাদের বিপদ আপদে বিলিয়ে দিতেন।

১৯৭০ এর নির্বাচনও ছিল প্রায় অনুরূপ। ইতোমধ্যে অবশ্য ছাত্র সংগঠন-রাজনৈতিক দলগুলি অনেক বৃহদাকার হয়েছে। স্কুল-কলেজের সংখ্যা, ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যাও যথেষ্ট বেড়েছে। বেড়েছ শিক্ষকদের সংখ্যাও।

এই নির্বাচনে কোন ফ্রন্ট হয় নি। নির্বাচনে মনোনয়ন যাঁদেরকে দেওয়া হয় তাঁরাও প্রায় সমাজের একই স্তরের। আইনজীবী শিক্ষক-সাবেক ছাত্র নেতারা (যারা ৫২ তে ভাগা আন্দোলন করেছেন) যারা সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কাজ করেছেন খেটেছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন এমন প্রার্থীদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে-সে পুরাটাই হোক বা নারীই হোক। তাঁরা ভোটে বিপুল ভাবে জিতেছেন কারণ কি ১৯৫৪ কি ১৯৭০ এই উভয় নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ব্যাপক গণ আন্দোলনের পটভূমিতে। আর্মি জেনারেলের প্রার্থীরাও ভোটে কুপোকাত।

তখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারও গঠন করতে হয় নি। প্রতিষ্ঠিত সরকার ও নির্বাচন কমিশন দিব্যি নিরপেক্ষভাবে বিতর্কিতভাবে নির্বাচন কার্য পরিচালনা করেছেন।

আজ প্রধানত: গণ আন্দোলনের ভয়ানক অভাব যদিও দরিদ্র মানুষদের সমস্যার অন্ত নেই। ছাত্র যুব নেতারা কি কাজে দিনরাত ব্যস্ত থাকেন তার উল্লেখ করেছি। নেতাদের দায়িত্ব দাঁড়িয়েছে ১৫ মিনিটের বক্তৃতায় অন্তত: ১০ বার নেতা নেত্রীর নাম উল্লেখ করে বক্তৃতা করার-দল বাজির ভিত্তিতে রিলিফ প্রভৃতি বিতরণ যার ফলে খুব কম ক্ষেত্রেই উপযুক্ত ব্যক্তির সেগুলি পেয়ে থাকেন।

রাজনীতির এই হাল ব্যাপক মানুষকে হতাশ করেছে। এই অবস্থা দূর করতে না পারলে দেশের ও মানুষের দুরবস্থা কাটানোও দুরূহ হয়ে পড়বে।

এখন আন্দোলন গড়ে তোলার মত একক দল নেই-যারা আছেন তারা অনেকেই অসততার ফাঁদে পা দিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতা করে আত্মরক্ষার পথ খুঁজছেন। যুব সমাজকে কলুষিত করছেন। সকল কুকর্ম ঢাকার জন্য কেউ মাদ্রাসা/মসজিদ গড়ে দিয়ে ‘সওয়াব’ আদায়ের চেষ্টা করছেন মূলত: অসৎপথে অর্জিত টাকায়। সরকার ও প্রধান বিরোধী দলকেও ধর্মের নামে অনেক কিছু করার প্রবণতা দৃশ্যমান। যেমন জামায়াতে ইসলামী ও ধর্মাশ্রয়ী দলগুলিকে নিষিদ্ধ না করা, হেফাজতে ইসলামের সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলা, রাষ্ট্রধর্ম বজায় রাখা প্রভৃতি।

অপরদিকে জামায়াতের কোন প্রতীক না থাকায় তাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে জীবন্ত রাখা। ২০ দলীয় জোটে বহু সংখ্যক ধর্মাশ্রয়ী সাম্প্রদায়িক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে রাখা প্রভৃতি।

কী বলবো এরা রাজনীতিক? তা হলে অতীতের যাঁদের কথা বললাম তাঁদের কি বলে অভিহিত করবো ? তাই তরুণ সমাজের উপর দায়িত্ব বর্তেছে আজ ৫২,৬২, ৬৯. ৭০, ৯০ এর মত আন্দোলন গড়ে তুলে দেশে প্রকৃত রাজনীতিকদের স্থান করে দেওয়া।

রণেশ মৈত্র, লেখক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ইমেইল : [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৪৯ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৫ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭১ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৪ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৫২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১০ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ৯৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ