আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

সাংবাদিক মীর্জা : শেষ দেখাটা হলোই না

রণেশ মৈত্র  

৩ অক্টোবর; প্রায় দুই দশক আগে পাবনা হারিয়েছে তার হাল আমলের শ্রেষ্ঠ ও কর্মঠ সাংবাদিক মীর্জাকে। মীর্জা শামসুল ইসলাম দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদক হওয়ায় দৈনিক বাংলা তাঁকে জেলা সংবাদদাতা থেকে স্টাফ রিপোর্টার পদে উন্নীত করেছিল।  মীর্জাই প্রথম পাবনা জেলায় ঢাকার কোন প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার পদে উন্নীত হতে পেরেছিলেন। পেশাদার বেতনভুক্ত সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।

পাকিস্তান আমল। তদুপরি আইয়ুব সামরিক শাসকের দৌরাত্ম্যে সংবাদপত্র আর সাংবাদিকদের জীবন বিপর্যস্ত। তাদের স্বাধীনতা অন্তর্হিত। এই সময়কালে সাংবাদিক জীবনের যাত্রা শুরু মীর্জা শামসুল ইসলামের।পাবনা শহরের পশ্চিম প্রান্তে ইছামতির তীরে এডওয়ার্ড কলেজের তৎকালীন রসায়ন শাস্ত্রের প্রফেসর সাহিত্যানুরাগী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ কর্তৃক প্রকাশিত ও সম্পাদিত সাপ্তাহিক আমাদের দেশ পত্রিকাতেই তার হাতেখড়ি। লজিং থাকতেন মীর্জা শামসুল ইসলাম ঐ বাড়িতেই। অধ্যাপক তাকে তাঁর পত্রিকাতেই কাজ করার সুযোগ দেন। সেই থেকেই শুরু।

মীর্জা শামসুল ইসলামের বাড়ি বেড়া উপজেলার আমিনপুর গ্রামে। সেখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে পাবনা এসেছিলেন উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের তাগিদে। ভর্তি হয়েছিলেন এডওয়ার্ড কলেজে। লজিং থেকে পড়াকালেই মীর্জা শামসুল ইসলাম পৌরসভার স্কুল ইন্সপেক্টর পদে চাকুরী নেন। ঐ চাকুরী, সাংবাদিকতা ও লেখাপড়া  একসাথেই তিনটি দায়িত্বই  পালন করতেন তিনি।

এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর হঠাৎ খবর পেলেন পাকিস্তান সরকার গঠিত প্রেস ট্রাষ্ট থেকে দৈনিক পাকিস্তান নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ হতে চলেছে ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। মীর্জা ঐ পত্রিকায় দরখাস্ত করে বসলেন পত্রিকার  পাবনাস্থ সংবাদদাতা হিসেবে  নিয়োগ দেয়ার আহবান জানিয়ে। বার্তা বিভাগ জানালো পরীক্ষামূলকভাবে নিয়মিত খবর পাঠাতে হবে।

খবর সংগ্রহ করা, খবর তৈরি করা, খবর লেখার ক্ষেত্রে নৈপুণ্য দেখাতে সামর্থ্য হওয়ায় পেয়ে গেলেন দৈনিক পাকিস্তানের পাবনাস্থ নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগপত্র। সেই যে শুরু আর কখনোই পেছনে তাকাতে হয়নি মীর্জা শামসুল ইসলামকে– তার সাংবাদিকতা জীবনে প্রতিষ্ঠিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে।

রেডিও পাকিস্তানের পাবনাস্থ সংবাদদাতা হিসেবেও নিয়োগ পেলেন তিনি। তখনও পূর্ব বাংলায় টেলিভিশনের প্রচলন হয়নি। সংবাদ পিপাসু সকলকেই তখন টাটকা খবরের জন্য বেতারের উপর নির্ভর করতে হতো। দৈনিক পত্রিকাগুলো এখন যেমন যেদিনের পত্রিকা সেই দিন সকালেই নিজ নিজবাড়িতে পাওয়া যায়-তখন তা পাওয়া যেতনা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো আসতো একদিন পর। কারণ তখনো যমুনা সেতু নির্মিত না হওয়াতে রাজধানী থেকে পত্রিকাগুলি আসতে একদিন বিলম্ব হতো। আসতে হতো ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সিরাজগঞ্জের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট দিয়ে।