আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

নারী নয়, পুরুষরাই ধোয়া তুলশী পাতা!

আবু সাঈদ আহমেদ  

বাংলা ট্রিবিউনের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত জব্বার হোসেনের 'মেয়েরা কি ধোয়া তুলশী পাতা?" লেখাটি পড়ে বিস্মিত হয়েছি। প্রায় সমগ্র লেখাটি উদ্দেশ্যমূলক, ভুল ধারণা ও খন্ডিত সত্যে পরিপূর্ণ এবং উপস্থাপনে অশ্লীল। লেখক নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করতে অদ্ভুত ও বিচ্ছিন্ন উদাহরণ টেনে এনেছেন। তিনি মূল বিষয়ের গভীরে যান নি বা ইচ্ছাকৃতভাবেই গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি। 



সরলীকরণের সমালোচনা দিয়ে শুরু করলেও তার পুরো লেখাটি সরলীকরণ দোষে দুষ্ট। লেখার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একের ভুল/অপরাধকে অন্যের ভুল/অপরাধ দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা বিদ্যমান রয়েছে। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন পুরুষেরা ধোয়া তুলশীপাতা, নারী এবং পুরুষ উভয়ে সমান অপরাধী আর পুরুষতান্ত্রিকতার জন্য প্রকৃতপক্ষে নারীই দায়ী।



"কখনও কখনও তো আমার মনেই হয় নারী, পুরুষের চেয়েও অনেক বেশি পুরুষতান্ত্রিক। হীনতায়, তৃণতায় সমানে-সমান, কখনও-কখনও আরও অনেক বেশি বরং পুরুষের চেয়ে।"- এই যুক্তিহীন সরলীকরণ হাস্যকর। এই নারী এবং পুরুষ কোন সমাজের প্রতিনিধি! নারীদের নারীবাদী করে তোলার, নারী এবং পুরুষের মাঝে বিদ্বেষ প্রতিষ্ঠা এবং চলমান রাখার দায় এককভাবে নারী বা পুরুষের নয়।



তবে এই বিদ্বেষ প্রতিষ্ঠায় পুরুষের প্রধান দায়- এটা অস্বীকার করার সৎ সাহস থাকা উচিত। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোই নারীকে নারী করে তুলেছে, নারীকে পণ্যে পরিণত করেছে, শতকের পরে শতক ধরে ধারাবাহিক নারী মানসিকতা সৃষ্টি করেছে। সচেতন বা অচেতনভাবে পুরুষের এই ধারাবাহিক কর্মকান্ডে নারী নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে।



পুরুষের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে নারী করে তুলেছে। আজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হর্তাকর্তারা নারীর স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে আগ্রহী হন, সোচ্চার হন- সেটা নিজের স্বার্থেই হন। এখানেও তাদের টার্গেট গ্রুপ সাধারণ নারী আর পুরুষ। নারী আর পুরুষের মাঝে সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সমঝোতার আড়ালে বিদ্বেষ বহমান রাখতে হবে। নারী ও পুরুষকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াইরত রাখতে হবে। পূঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজ এই শত্রু শত্রু খেলার মাধ্যমে নারী আর পুরুষকে পূঁজিবাদের অন্ধ ভোক্তায় পরিণত করেছে, পণ্যদাসে রূপান্তর করেছে।



"কখনও কখনও নারী পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি পুরুষতান্ত্রিক আচরণ করে। বাধ্য করে পুরুষকে পুরুষতান্ত্রিক হতে। সে চায় পুরুষতান্ত্রিকতা, পুরুষের অবাধ্যতা, অসভ্যতা অথচ ভেতরে-ভেতরে লালন করে পুরুষ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।"- নারীর এই মানস লেখক কোথায় আবিষ্কার করেছেন!



পুরুষ জন্মগতভাবেই পুরুষতান্ত্রিকতা ধারণ করে এবং নারী নারীতান্ত্রিকতা। সমাজ কাঠামোর কারণে পুরুষ দিনে দিনে পুরুষতান্ত্রিক হয়ে ওঠে আর নারী পুরুষতান্ত্রিকতাকে মেনে নেতে শিখে- এটাই বাস্তব চিত্র। তিনি যদি তার চারপাশ দেখে এই বক্তব্য প্রকাশ করেন তবে তবে তিনি ভুল দেখেছেন বা যা দেখেছেন তার ভুল অনুবাদ করেছেন।



তিনি যদি নিজের চারপাশেই এই চিত্র চাক্ষুষ করে থাকেন তবে বিনয়ের সাথে জানাতে চাই লেখক অসুস্থ বৃত্তে আটকে আছেন। তার চারপাশের এহ বৃত্তটা আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র, এহ বৃত্তের বাইরে বিশাল একটা পৃথিবী রয়েছে। বিশাল পৃথিবীর পরিবর্তে খন্ডিত অংশকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন যুক্তিগ্রাহ্য নয়। তবে লেখক বর্ণিত নারী মানসিকতার সাথে হিন্দি সিরিয়ালের নারী মানসিকতা পুরোপুরি মিলে যায়। হিন্দি সিরিয়ালের চরিত্র কখনই বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে প্রয়োগযোগ্য হতে পারেনা, হওয়া উচিত নয়। এই সকল সিরিয়ালে নারী পুরুষের অবাধ একাধিক প্রেম ও সম্ভোগ শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যে যেয়ে পুরুষতান্ত্রিকতার স্তবই পাঠ করা হয়- অনাচারী পুরুষ গা-ঝাড়া দিয়ে সকল কালিমা ফেলে হয়ে যায় সফেদ রাজহ্ংস আর নারী ফিরে আসে চার দেয়ালের বৃত্তে।



পরকীয়ার জন্য পুরুষকে দোষারোপ করার সরলীকরণে লেখক অসুন্তষ্ট হয়েছেন। পরকীয়ার জন্য নারীকে দায়ী করে অশ্লীলভাবে লিখেছেন- "এমন মেয়ে আমার অনেক দেখা, ডাবল সিম। ত্রিপল ফেসবুক আইডি। একাধিক উপপতি। ডাবল, ট্রিপল প্লেজার। একটা ঘরে, অন্যগুলো বাইরে। লাভ কী কেবল পুরুষের দোষ দিয়ে? বহুগামী কেবল পুরুষ নয়, বহুগামী নারীও হয়।"

লেখক পরকীয়ার কারণ অনুসন্ধান না করেই উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করে পুরুষের দোষকে নারীর দোষ দিয়ে জাস্টিফাই করে দিয়েছেন। তিনি হয়তো জানেন না সমাজে অধিকাংশের মানসিকতা আজও এমন যে পুরুষ একটু আধটু পরকীয়া করতেই পারে কিন্তু নারী নৈব: নৈব: চ।



প্রকৃতপক্ষে, গত প্রায় দেড় দশকে মধ্যবিত্ত সমাজে পরকীয়ার বীজ মহিরুহে পরিণত হয়েছে। নিম্নবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত সমাজে বহু আগে থেকেই পরকীয়া প্রবাহমান রয়েছে। এই পরকীয়াকে তারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু মধ্যবিত্ত সমা্জে পরকীয়াকে সহজভাবে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি হয় নি।



গত তিন দশক ধরেই মধ্যবিত্ত সমাজ এক নীরব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকে এই অস্থিরতা প্রকটতর হয়েছে। মধ্যবিত্ত না পারছে নিম্নবিত্তের মত সহজ জীবন যাপন করতে, না পারছে উচ্চবিত্তের মত স্বস্তির জীবন যাপন করতে। মধ্যবিত্ত তার বৃত্ত ভেঙ্গে স্বস্তি, কাঙ্খিত অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং ভবিষ্যত জীবনের নিশ্চয়তা অর্জনের জন্য, কাঙ্খিত স্বপ্নের লক্ষ্য অর্জনের আশায় রেসের ঘোড়ার মত ছুটছে। কোথাও তার দুদন্ড শান্তি নেই- না ঘরে, না বাইরে। একক পরিবার কাঠামোতে এক ছাদের নিচে থেকেও অধিকাংশ মধ্যবিত্ত নারী-পুরুষ একাকীত্বে আক্রান্ত হয়।



পুরুষতান্ত্রিকতা বা নারীতান্ত্রিকতা নয়, বর্তমানে অধিকাংশ সংসারেই চলছে আয়তান্ত্রিকতা। অর্থাৎ যার আয়ে সংসার চলে তিনি সংসারের কর্তা, সর্বক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আয় করা ব্যাক্তিটি স্বেচ্ছাচারি হলে সংসারের সদস্যরা উপেক্ষিত হয়, হীনমন্যতায় ভোগে। এই আয়তান্ত্রিকতা পারিবারিক অশান্তির অন্যতম কারণ। হিন্দি আর বাংলা সিরিয়ালের ধারাবাহিক ব্রেনওয়াশ পারিবারিক সম্পর্ককে সন্দেহের বিষে প্রতিদিন সফলভাবে নিষিক্ত করছে। স্বামী-স্ত্রীর ইগো সমস্যা, ভুল বোঝাবুঝি, একে অন্যকে সময় না দেওয়া আর মতের অমিলকে হাসি ও অভিনয় দিয়ে ঢেকে রাখা যায়- কিন্তু ভিতরের ফাটলটা ধীরে ধীরে গভীর হয়। এই ফাটলের কারণেই সামান্য সুখ বা ক্ষণিকের স্বস্তির আশায় জড়িয়ে পড়ে পরকীয়ায়। এখানে নারী বা পুরুষকে এককভাবে দোষী করার, একের দোষ দিয়ে অন্যের দোষ জাস্টিফাই করার অবকাশ নেই, অথচ লেখায় তাই করা হয়েছে।



মেয়েদের হাই হিল আর পেনসিল দেখে লেখক আতংকিত হয়েছেন। লেখকের অহেতুক ভীতি দেখে আতংক বোধ করছি। হাই হিল বা পেনসিল হিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যে কারণে তৈরী করেছিল আর নারী মনে হীনমন্যতা সৃষ্টি করে পরতে বাধ্য করেছিল- বর্তমানে হাই হিল বা পেনসিল হিল ব্যবহারের জন্য সে ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। যেমন, আধুনিকতা ও স্মার্টনেসের দোহাই দিয়ে আশির দশকে ব্লেজারের ফ্যাশন আমদানি করা হয়েছিল- লেখকের ব্লেজার পরিহিত ছবি দেখে আজ যদি কেউ অভিযোগ করে নিজেকে আধুনিক ও স্মার্ট প্রমাণের জন্য লেখক ব্লেজার পরেছেন তবে সেটা নিরেট আহাম্মকী। পুরুষতান্ত্রিকতার কাজই হচ্ছে নারীকে বারবার সমালোচনার মাধ্যমে হীনমন্য করা, নারীকে প্রতিনিয়ত তার হীনমন্যতা মনে করিয়ে দেয়া। অথচ, জুতোর দোকানে শুধু পাঁচ ইঞ্চি হিলের মহিলাদের জুতোই পাওয়া যায় না, পুরুষের হিল জুতোও পাওয়া যায়।



"মেয়েরা আসলে প্রকৃতিকে ভয় পায়। তাই অস্বীকারও করতে চায় প্রকৃতিকে। তা না হলে ৫০ ঊর্ধ্ব নারীদেরও ফেসবুকে ৩৫ বছরের ছবি কেন? সামান্য বলিরেখায়, ত্বকে ভাঁজ পড়ায়, ঝুলে পড়ার তাদের অন্ত নেই দুশ্চিন্তার।"- লেখক কি জানেন না শতাব্দীর পরে শতাব্দী ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর মানস গঠন করেছে, নারীকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে তার সকল সৌন্দর্য্য প্রদর্শনের জন্য, যতক্ষণ সে সুন্দর ততক্ষণই সে সকলের কাছে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। আজও নারী মানসে এই অসুস্থতা প্রতিদিন প্রকট ও গভীরতর করেছে মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং কর্পোরেট ফ্যাশন ও প্রসাধনী প্রতিষ্টানসমূহ। শুধু নারীকে কেন, পুরুষ মানসেও ঢুকিয়ে দিচ্ছে অসুস্থ বিশ্বাস- যতক্ষণ নারী সুন্দর ততক্ষণ সে তোমার আরধ্য, যখন সে সুন্দর নয় তখন সে পরিত্যক্ত। শুধু কি তাই? বিজ্ঞাপন পুরুষকেও নারীর পণ্যে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের যে কোন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনসমূহ দেখলেই অনুধাবন করা যায় প্রতিদিন নারী পুরুষের মনে কি বিশাল পরিমাণ বিষ ঢেলে চলেছে।



নিবন্ধের প্রায় শেষে এসে লেখক ইউ টার্ন নিয়ে লিখেছেন -"ভণ্ডামি, শঠতা, প্রতারণা, অসততা আসলে নারী বা পুরুষের নয়; নেহাত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে বলে মনে করি আমি। কেউ পুরুষ হলেই ‘ঠিক’ এমন হবে এ যেমন ঠিক নয়। তেমনি ‘নারী’ মানেই ‘এমন’ এ ধারণাটিও ভুল। কখনও-কখনও সস্তা, মেধাহীন, নিম্ন মানের নারীবাদ ঢালাওভাবে, নির্বোধভাবে, ধারাবাহিকভাবে। পুরুষকে শ্লীলতাহানি করতে চায়। ঠিক নয়। অভিযোগের আঙুল কেবল পুরুষ কেন, নারীর দিকে তোলারও অনেক সুযোগ থাকে ও আছে।" - এই যদি হয় লেখকের বক্তব্য তবে আগের বক্তব্যগুলোর কোন ভিত্তি থাকেনা, গ্রহনযোগ্যতা থাকেনা। শেষে এসে লেখক সুচতুরভাবে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করেছেন। অথচ অশ্লীল আক্রমনে নারীকে অসম্মান করতে ছাড়েন নাই।



উপসংহারে লেখক মুক্তচিন্তার কথা বলেছেন। অথচ লেখাজুড়ে সস্তা পুরুষবাদিতার ফেরী করেছেন। সামান্য চিন্তা করলেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারতেন- পুরুষের দোষকে নারীর দোষ দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা কাজিয়া বিশেষ। কাজিয়া অপেক্ষা মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা আর সে বিষয়ে আলোকপাত করা অধিক কার্যকর। যেমন, নারীবাদীরা সর্বক্ষেত্রে নারীর সমাধিকার দাবী করে, এটা সম্পূর্ণ ভুল দাবী। এই দাবী নারী স্বাধীনতা অর্জনে কার্যকর নয়, যতটা কার্যকর এনজিও, মিডিয়া, কর্পোরেট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নারী অধিকার ব্যবসা পরিচালনায় আর বাণিজ্যিক প্রয়োজনানুযায়ী নারীকে ব্যাবহারে। এ গোষ্ঠী নারীবাদিতা, নারীস্বাধীনতা, নারী অধিকার, নারী ক্ষমতায়নের আন্দোলনকে বস্তুত বাণিজ্যিক প্রডাক্টে পরিণত করেছে- নিজেদের অজান্তেই এই পণ্যের ক্রেতা সাধারণ নারীরা।



সর্বক্ষেত্রে নারীর সমাধিকারের দাবী এক স্থুলদাবী। আর সবকিছু বাদ দিলেও শুধু পুরুষে-নারীতেই নয়, পুরুষে-পুরুষে, নারীতে-নারীতেও শারিরীক সক্ষমতার ব্যাপারটিকে তুচ্ছ করার অবকাশ নেই। পুরুষের সমকক্ষ হওয়া নয়, নিজের নারীসত্বাকে অক্ষুন্ন রেখেই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। নারীর স্বাধীনতা ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সমানাধিকার নয়, প্রয়োজন পরিবার হতে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নীতি নির্ধারণে (Policy making) ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে (Decision Making) এবং শিক্ষা অর্জনে নারীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। এ দুটো প্রধান ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী অনেক পিছিয়ে আছে, অগ্রাধিকারের মাধ্যমে তাদের এগিয়ে আনলেই প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে নারীর সমাধিকার নিশ্চিত হবে।



অন্যথায় নারী স্বাধীনতা, নারী ক্ষমতায়ন আর সমাধিকারের আন্দোলন এনজিও, মিডিয়া এবং কর্পোরেট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাভজনক বাণিজ্যিক বৃত্তের রংচংয়ে বলয়ে ঘুরপাক খাবে, নারীর সমানাধিকার অর্জনের উপাদান হিসেবে ত্বকের রং ফর্সাকারী ক্রিম, শ্যাম্পু, স্যানিটারী ন্যাপকিনের মত পণ্যকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারীকেও পণ্যে পরিণত করেই রাখবে। যে অধিকারের দাবী ব্যক্তিকে পণ্যে পরিণত করে, ব্যক্তিকে পণ্যদাসে পরিণত করে-সে অধিকার অর্জন অপেক্ষা অধিকারহীন থাকা অধিক শ্রেয়।



মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখেই অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি বাংলা ট্রিবিউনের মত প্রগতিশীল একটি পত্রিকার "প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।"-যুক্তিতে এমন একপেশে বাস্তবতা বিবর্জিত উদ্দেশ্যমূলক লেখা প্রকাশের দায় নীতিগতভাবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত কি?


বাংলা ট্রিবিউনে জব্বার হোসেনের 'মেয়েরা কি ধোয়া তুলশী পাতা? লেখার লিংক:
http://www.banglatribune.com/tribune/single/105499

 

আবু সাঈদ আহমেদ, লেখক, কলামিস্ট, অনলাইন এক্টিভিস্ট।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৮ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ