আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

শিশু: আমার হাতে তোমার ভয়ঙ্কর পৃথিবী

কবির য়াহমদ  

সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর খুলনায় পেটে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় রাকিবকে। এরপর মাছ চুরির অভিযোগে চোখ উপড়ে হত্যা করা হলো বরগুনার শিশু রবিউলকে। নাটোরে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা। ঢাকা মেডিকেলে স্যুটকেসের ভেতর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার, রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ছ্যাকা দিয়ে নির্যাতন সহ বিচিত্র ধরনের শিশু নির্যাতন ও হত্যা।  ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় শিশুকে না খাইয়ে রেখে নির্যাতন-  সীমাহীন এ নিষ্ঠুরতা চরিত্র ও প্রকৃতিতে একেক ঘটনা অন্য ঘটনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এ চিত্র যা বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে তার খুব ছোট্ট একটা উদাহরণ, এর বাইরে শিশু নির্যাতনের সংখ্যা অগণন এবং গ্রাফটাও উর্ধ্বমুখি। ফলে এটা বলা যায় আমরা দিন দিন অমানবিক হয়ে ওঠতে শুরু করেছি বিশেষত শিশু নির্যাতন আর নির্যাতন পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংঘটনের মাধ্যমে।

এসব দেখে মনে হতে পারে- এও কি সম্ভব? কিন্তু এরপর যখন অন্য উপায়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তখন আমরা খুব সহজেই ভুলে যাই ঠিক আগের ঘটনা। মেতে ওঠি নতুন ঘটনা নিয়ে।

এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, যে শিশুটি যত অমানবিকভাবে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় কেবল সে শিশুর জন্যেই আমরা প্রতিবাদি হই। এখানে আমাদের প্রতিবাদের মাত্রা নির্ভর করে ততখানি যতখানি নৃশংসতায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। সোশ্যাল সাইট নির্ভর আমাদের মানবিক বোধ জাগ্রত হয় যদি তা ভিডিও আকারে এখানে প্রকাশ পায়। এর বাইরে আমাদের মাথা ঘামানোর সুযোগ-সম্ভাবনা খুব কম। খুনীদের অমানবিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবাদি চরিত্রের উঠানামা কোন অংশেই কম নয়; বরং বলা যায় অনেকক্ষেত্রে সম্পর্কিত!

নির্যাতনের মাধ্যমে শিশু হত্যা হয় প্রধানত আর্থিকভাবে অনগ্রসর পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্যে। কারণ এ শিশুগুলো লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। খুব অল্প বয়সে তারা কাজে নিয়োজিত হয় বলে অন্যেরা বিশেষত আর্থিকভাবে সামর্থবান মানুষের খবরদারি ও শোষক মানসিকতার ফলানোর সুযোগ থাকে। ফলে খুব ছোট্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্যাতন শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে এসব নির্যাতন আরও অধিক নির্যাতনে রূপান্তর ঘটে। যার চুড়ান্ত পরিণতি মৃত্যু।

এ ধরনের শিশু হত্যা আমাদেরকে মানবিক হওয়ার পথ দেখায় কেবল নির্দিষ্ট সে শিশুর ক্ষেত্রে। সে ইস্যুতে দেশব্যাপি তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তা ক্রমে হারিয়ে যায়। মানবিকতার বুলিগুলো প্রতিবাদ হারিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো সযতনে শোকেসে সাজিয়ে রাখি। খুব সাধারণ জনগণ হিসেবে হয়ত এর বেশি কিছু আমাদের করার নাই।

আমাদের এ মানবিক হওয়া সর্বক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিশু পর্যন্তই বিস্তৃত, এর বাইরে আমরা যাই না, যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না। এরপর আবারও শিশু নির্যাতিত হয়, হত্যা করা হয়। ফি-বার আমরা মানবিকতার স্লোগান গলায় তুলি। এভাবে চলছে দীর্ঘদিন থেকে, কে জানে চলবে কি-না!

এসব ক্ষেত্রে যদি আমরা স্থায়িভাবে মানবিক হতে পারতাম তাহলে এভাবে একের পর এক শিশু নির্যাতন আর হত্যা হতো না। তবে মানবিক সবাই যে হবে সে গ্যারান্টি নিশ্চিতভাবে নাই। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর হতে হবে। আইনের যথাসময়ে যথাপ্রয়োগের মাধ্যমে এর রাশ টেনে ধরা সম্ভব; এর অন্যথা হলে নয়!

আমরা সবাই বলি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে শিশু নির্যাতন বন্ধ হতো। আমি নিশ্চিত না এটা সম্ভব কি-না, কারণ অনেক অপরাধেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। কিন্তু তারপরেও সে একই ধরনের অপরাধ হয়ে থাকে।

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয়, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা। যে কোন অপরাধের বিচারের জন্যে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে মানুষজন ভুলে যায় আসলে কী অপরাধ সংঘঠিত হয়েছিল, কীভাবে হয়েছিল এবং কারা কোন প্রক্রিয়ায় সে সব অপরাধ করেছিল। ফলে যে কোন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড হলেও তার সামাজিক প্রভাব সামান্যই।

এক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর অপরাধ আবার ভিন্নমাত্রা পায়, মানুষজন অনেকক্ষেত্রে মনে রাখে, মিডিয়া মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সব অপরাধ চাঞ্চল্যকর হয় না, এ হিসেবে নথিভুক্তও হয় না। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও অপরাধী আর অপরাধের শিকার পরিবারগুলো ছাড়া ক’জন আলোচনা করে, সমাজে কতটুকু প্রভাব পড়ে?

আমাদের মানবিকতার মাত্রা ক্ষণস্থায়ি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ইস্যুভিত্তিক বলে আমরা অনেক কিছু খুব সহজে ভুলে যাই।  

শিশু নির্যাতন আর হত্যা বন্ধ হবে আমাদের স্থায়িভাবে মানবিক হওয়া আর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে। বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসলে বলা যায় সব অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব না, তবে যে কোন শিশুর ওপর নির্যাতন ও হত্যাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছি।

সাম্প্রতিক সময়ের শিশু নির্যাতনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়- সিলেটের শেখ সামিউল আলম রাজনের শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই কিশোরকে চুরির অভিযোগে গত জুলাই মাসে পেটানোর সময় ভিডিওচিত্র ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই। নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত্যু হয় রাজনের। রাজনের বয়স ছিল ১৪ বছর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে স্যুটকেসের ভেতর থাকা ৯/১০ বছরের একটি ছেলেশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুকে ও কপালে ছ্যাঁকার দাগ ছিল। পিঠে ছিল পাঁচ ইঞ্চির মতো গভীর জখম। থুতনিতেও জখমের চিহ্ন ছিল।

খুলনায় নির্যাতনের শিকার হওয়া ১২/১৩ বছর বয়সী রাকিব গ্যারেজে কাজ করত। সে গ্যারেজ পরিবর্তন করলে আগের গ্যারেজ মালিক ও তার সহযোগী রাকিবকে ধরে মোটরসাইকেলের চাকাতে হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে দেয় তার মলদ্বার দিয়ে। এরপর চালু করে দেওয়া হয় কমপ্রেসর। নল দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকে শিশুটির দেহ ফুলে ওঠে। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি, ফেটে যায় ফুসফুসও। মারা যায় রাকিব।

বরগুনায় রবিউল আউয়াল নামে ১১/১২ বছরের এক শিশুকে চোখে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। মাছ চুরির ‘অপবাদে’ স্থানীয় এক ব্যক্তি এই বীভৎস কায়দায় তাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মা ও তাঁর পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তো দেশজুড়েই আলোচিত। গুলিটি মায়ের পেটে থাকা শিশুর বুক ভেদ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। শিশুটি বেঁচে যায় জন্মপূর্ব থেকে নৃশংসতাকে সঙ্গী করে।

এগুলো অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ। এর বাইরে দৃশ্যমান কিংবা দৃশ্যের অন্তরালে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এবং তার কিছুটা মিডিয়ায় আসছে। ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ সময়টা এমনই যে খুব বেশি হত্যাকাণ্ড আলোচনায় আসে না আবার আসলেও নিত্যনতুন ইস্যুর ভীড়ে সেগুলো হারিয়েও যায়।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সিলেটের কুমারাগাঁওয়ের শিশু রাজনের হত্যাকাণ্ড। খুনীরা নির্যাতনের সে দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল সাইট ফেসবুকে প্রচার করেছিল এবং সেখানে তুমুল আলোচিত হয়েছিল বলে জনমানুষের সচেতনতা দেখা গিয়েছিল। ফলে একে একে ১২জন আসামিকে স্থানীয় জনগণ নিজেরা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, পুলিশ যেখানে ব্যর্থ সেখানে জনগণ সাফল্যের সঙ্গে অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় মামলার অন্যতম আসামি কামরুল সৌদি আরব পালিয়ে যায়। এখানে অর্থের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ মিলিয়নের মতো, অনেকেই আবার বলে থাকেন এ পরিমাণ তারচেয়েও বেশি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে লোভের কিছু ছিলনা বলে তারা অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ তুলে দেওয়ার সময়েও কোন ধরনের গণপিটুনি হয়নি- যা অনেকটা ছিল সহজাত। সিলেটের স্থানীয় জনগণ এ ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছে। এটা অভূতপূর্ব!

রাজনের হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের যে স্ফূরণ ঘটেছিল তার বিপরিতে মানুষের সচেতনতা বাড়েনি। ফলে খুব কম সময়ের ব্যবধানে আরও কিছু হত্যাকাণ্ড সচেতন বিবেকবান মানুষদের নাড়া দিয়েছে। রবিউল, রাকিবের ঘটনা এত কম সময়ের মধ্যে যে ঘটবে সেটা কেউ ধারণা করেনি। এতে প্রমাণ হয় অনেকক্ষেত্রে খুন দেখে খুনীরা উৎসাহিত হয়, যদিও এক্ষেত্রে খুনে মানসিকতা পরিবর্তনের আশা করাটাই ছিল সঙ্গত।

বাংলাদেশের শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যানগত চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ৬৩ জন শিশু যৌন হয়রানি এবং ৩২২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৫ সালের সাত মাসে (জুলাই পর্যন্ত) সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে। এর বাইরে সাড়ে তিন বছরে দেশে ৯৬৮টি শিশুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। বছরওয়ারি এ হিসাবটা এরকম- ২০১২ সালে ২০৯, ২০১৩ সালে ২১৮ এবং ২০১৪ সালে ৩৫০ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। শিশু নির্যাতন ও হত্যার এ গ্রাফটা উর্ধ্বমুখি। এটাই আশঙ্কার। তবে যে কথা না বললেই নয় তা হলো পরিসংখ্যানে আসে যা তা দেশের প্রকৃত চিত্র নয়। কারণ সবগুলো হত্যা ও নির্যাতন মিডিয়ায় আসে না।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১২৬, ২০১৩ সালে ১২৮, ২০১৪ সালে ১২৭ আর এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ৫৬ শিশু হত্যা শিকার হয়। এদের মধ্যে জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ জনকে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ৬৯ জন শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, একেক সংস্থা একেক ধরনের পরিসংখ্যান দিচ্ছে। ফলে এটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না কোন পরিসংখ্যানই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। তবে শিশু হত্যার ভয়াবহতা ও মিডিয়ায় আসা সংবাদগুলো আমাদেরকে আতঙ্কিত করার জন্যে যথেষ্ট।

বিভিন্ন সংস্থা তাদের নিজস্ব সোর্স কিংবা তৃতীয় পক্ষ থেকে নির্যাতনের এসব তথ্য সংগ্রহ করে বলে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে তাদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে।  এই তারতম্য প্রমাণ করে এটা আসলে দেশের প্রকৃত চিত্র নয়, এর বাইরেও রয়েছে অগণন যা অনেকেরই চোখে পড়ছে না, মিডিয়ায় আসছে না।

শিশুদের ওপর নিত্যকার এ অমানবিকতা কিংবা নৃশংসতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নাই। কারণ অপরাধীরা এ ধরনের অপরাধের পরেও দিনের পর দিন পার পেয়ে যাচ্ছে বলে এই ঘটনাগুলো বেড়ে চলেছে। এসব ঘটনার পর অপরাধীদের মধ্যে কোন ধরনের অনুশোচনা দেখা যায় না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘বিশাল এক কাজ’ করা হয়ে গেছে বলে তারা প্রকাশ করতেই ভালোবাসে। সিলেটের রাজনের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের মধ্যে যদি সামান্যতম হলেও অনুশোচনা জাগত তাহলে তারা হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ফেসবুকে প্রকাশ করত না।  

কারা নির্যাতন করছে এবং  কারা নির্যাতিত হচ্ছে- এদিকে খেয়াল করলে দেখা যায়।  যারা নির্যাতন করছে এবং যারা নির্যাতিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ছোট্ট হলেও সামাজিক ব্যবধান রয়েছে। তুলনামূলক অনগ্রসর পরিবারের শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে এবং যারা নির্যাতন করছে তারা জানে যাকে নির্যাতন করা হচ্ছে তার বিচার চাওয়ার কিংবা বিচার পাওয়ার ক্ষমতা ও  সুযোগ খুব সীমিত। অনেকক্ষেত্রে বলা যায়,  বিচার পাবে না বলেই তারা প্রকাশ্যে এ ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে।

এর বাইরে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানকে এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের শিকার হতে সুযোগ তৈরি করে দেয়। স্বাভাবিক ভাবেই অপরাধীরা কৌশলগত কারণে মনে করে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানো হলে এক্ষেত্রে প্রতিকার কিংবা প্রতিরোধের সম্ভাবনা নাই। এ মানসিকতা অপরাধীদের পশু প্রবৃত্তিকে উস্কে দেয়।

এছাড়াও আছে, অতীত ইতিহাস। আমাদের অতীত ইতিহাস বলছে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকা বলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে দ্রুত বিচার জরুরি। তা না হলে শিশুদের জন্যে ভয়ঙ্কর এক পরিবেশ আমাদের হাতেই রচিত হবে, হচ্ছেও!

কবির য়াহমদ, প্রধান সম্পাদক, সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম; ইমেইল: [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬১ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৯ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ