আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

১৯৮৬ থেকে ২০১৪ : বিশ্লেষণ এবং বাস্তবতা

এনামুল হক এনাম  

শুরুতেই বলে রাখি, 'রাজনীতি' বা 'ইতিহাস' আমার কাছে কোনো শখের বিষয় না, আমি ইতিহাস ঘাটাই অস্তিত্বের প্রয়োজনে আর রাজনীতি সচেতন থাকি নিজের তথা দেশ ও দশের অধিকার আদায়ের স্বার্থে। আমি মনে করি ব্যক্তি, দল, জাতি, দেশ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রাজনীতি এবং ইতিহাসের সঠিক চর্চা হওয়া বাঞ্ছনীয়, আর ইতিহাস বা গণতন্ত্র বিকৃতি করে যারা ক্ষমতার রাস্তা পাকাপোক্ত করতে চান তাদেরই ইতিহাস বার বার ছুড়ে ফেলেছে আস্তাকুড়ে।



লিখাটি যখন লিখছি তখন আওয়ামী ঘরানার সব দল, কিছু বাম এবং জাতীয়-পার্টি সংশোধিত সংবিধানের আলোকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে দেশ পরিচালনা করছে। বিএনপি এবং জামায়াত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কের সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচন রুখে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আন্দোলনে অসফল বিএনপিকে আপাতদৃষ্টিতে বেশ অসুবিধাজনক অবস্থানে মনে হচ্ছে। সময়ই বলে দেবে নির্বাচন বর্জন তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো কি না!



২০১৪'তে এরশাদ হাত মিলিয়েছেন শেখ হাসিনার সাথে, এটা এরশাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত (নাকি বাচা-মরার প্রশ্ন) কিন্তু আমার ফেইসবুক বন্ধু অনেকেই দেখলাম ব্যাপারটাকে ব্যাখ্যা করেছেন ৮৬'র নির্বাচনের প্রতিদান হিসেবে। ঐ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সহ ডান-বাম-জামাত স্বতন্ত্রসহ সবাই অংশগ্রহণ করেছিলো, শুধু আপোষহীন নেত্রী বেগম জিয়া ব্যতিত। যেহেতু শেখ হাসিনা ৮৬'র ঐ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এরশাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছিলেন সেহেতু এরশাদ ২০১৪ এর নির্বাচনে শেখ হাসিনার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সহায়তা করবেন ব্যাপারটা তেমনই তারা ব্যাখ্যা করেছেন।

এবার দেখার চেষ্টা করি জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর দেশের অবস্থা কেমন ছিলো...


এরশাদ ক্ষমতার দখল করেন জিয়া হত্যার পর। তিনি সামরিক শাসনের আদলে তৈরি করেছিলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাস্টার প্ল্যান। তারই ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তখন চলতো প্রশাসন।



জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের কঠিন বেড়াজালের মধ্য দিয়ে তৈরি সংসদের মূল কাজ ছিলো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একক ক্ষমতায় দেশ চালানোর আদেশ নির্দেশকে বাস্তবায়ন।



সংবিধান সংশোধন করে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ছাত্তারকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান এরশাদ। এরপর একের পর এক নাটকের জন্ম দিয়ে কিছুদিন পর সামরিক শাসন জারি করেন তিনি।



এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ে তখন জাসদ-বাসদ-ছাত্র ইউনিয়ন আর বামদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ছাত্রদলের নামগন্ধ নেই আর বিএনপির বড় বড় নেতা যোগ দিয়েছেন এরশাদের সঙ্গে।



বেগম জিয়াকে ধন্যবাদ দিতে হবে, দলের ভঙ্গুর অবস্থায় দল সংগঠিত করার জন্য নিজের ধ্যান জ্ঞান নিয়োগ করেন। সৎ নেতা হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সুনাম ছিলো আর সেই ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বেগম জিয়া অনেকটাই সফল হন। আর আজ প্রবীণ নেতা যারা বেগম জিয়ার চারপাশে ঘুর-ঘুর করছেন তাদের প্রায় সবাই ছিলেন এরশাদের তোষামোদকারী।



এরশাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল বর্জন করে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুককে এরশাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাড় করিয়ে ২য় স্থান পাইয়ে দেন। রাজনৈতিক দলগুলো তখন দুইটি ভাগে বিভক্ত ছিলো। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ১৫ দল ( যা মূলত বামপন্থীদের নিয়ে গঠিত) আর বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল ( যেখানে বিএনপি ছাড়া অন্যদলগুলো মধ্যে ছিলো কাজী জাফরের নেতৃত্বে ইউপিপি - পরে অবশ্য কাজী জাফর দলবল নিয়ে এরশাদের দলে যোগ দিয়ে ‘চিনি চোর’ হিসাবে কুখ্যাত হন)



একক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করেন এরশাদ । রাজনৈতিক দলগুলো কাছে পরিষ্কার হয়ে যে প্রেসিডেন্টশিয়াল পদ্ধতিতে এরশাদকে বিদায় করা কঠিন হবে। আর তাই দাবী উঠে সংসদীয় গণতন্ত্রের । প্রথম দিকে বেগম জিয়া সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন না পরবর্তীতে একমত হন। তখন শুরু হয় সংসদ নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন।



বার বার সেই আন্দোলন বেগবান হয়েও মুখ থুবড়ে পড়েছিলো এরশাদের কূটকৌশলের কাছে। প্রশাসন, বিভিন্ন দল, মিডিয়ায় এর টাকা আর ক্ষমতার জোরে তৈরি করেছিলেন একদল বেঈমান আর দালাল। তাদের সহায়তায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন চরম ক্ষমতাবান।



তীব্র আন্দোলনের মুখে এরশাদ যখন সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেন - তখন শুরু হলো নানান ঝামেলা । এরশাদকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে - নাকি এরশাদকে বিদায় করে যাওয়া ঠিক হবে। তৎকালে রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড ফরহাদ দুই নেত্রীকে ১৫০ করে আসনে দাড়িয়ে নির্বাচন করে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন বেগবান করার প্রস্তাব দেন এবং সেই প্রস্তাব ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। কিন্তু উর্বর মস্তিষ্কের অধিকারী এরশাদ নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন করে ৫ টি আসনে নির্বাচন করার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেন।



আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে এরশাদ ক্ষমতা লোভে অস্থির হয়ে উঠেন। জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে এরশাদ ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন নির্বাচনে যাওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। পরিস্থিতি বিবেচনার জন্যে শুরু হয় ১৫ দল আর ৭ দলের মিটিং।



প্রথম দিন পার হয় - ১৫ দল নীতিগতভাবে নির্বাচন করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিস্তারিত পরিকল্পনার তৈরি জন্যে আরো মিটিং চলতে থাকে। ২য় দিনের সন্ধ্যায় শোনা যায় ৭ দলও আন্দোলনের অংশ হিসাবে নির্বাচনে যাবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।



"সর্বশেষ মিটিং শুরু হলো জাসদের কার্যালয়ে। জিপিও উল্টোদিকের রাস্তায় বসে আছে উদ্বিগ্ন জনতা। তারমধ্যে ঢাকসুর নির্বাচিত নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে পরিচিত একটা মুখ - ঝাঁকড়া চুলের লম্বা মতো একজন অন্যান্যদের সাথে ভিতরের খবরের জন্যে বসে আছে। উনি হলেন মোজাম্মেল বাবু। সদস্য পাশ করা প্রকৌশলী - যদিও সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন।"



ভিতরে মিটিং করছে লিয়াঁজো কমিটি। তাতে বিএনপির ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম, নুরুল ইসলাম আর আব্দুল মতিন চৌধুরী উপস্থিত।



রাত তখন প্রায় ২ টা বাজে। বেরিয়ে এলেন নেতারা। হাসি মুখে লিয়াঁজো কমিটির সদস্যরা জানালেন - ৭ দল ও ১৫ দল সম্মিলিত ভাবে নির্বাচনে যাবে। সবাই সারাদিনের হরতালের পিকেটিং করার পর অনেকটা স্বস্তি নিয়ে চলে গেল।



কিন্তু সকালে খবরের কাগজে দেখা গেল - বিএনপিসহ ৭ দল নির্বাচনে যাবে না। পরদিন রাশেদ খান মেনন সহ আরো কয়েকটা দল ১৫ দল থেকে বেরিয়ে গেল। এরাও নির্বাচনের বিপক্ষে।



পরদিন থেকে বামপন্থী আর বিএনপি মিলে প্রচার শুরু করলো - যারা নির্বাচনে যাবে তারা "জাতীয় বেঈমান।" বিষয়টাকে আরো দারুণভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করলো বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ আর জাসদের অংশ বিশেষ।



এদিকে দুইদিন পর লিয়াঁজো কমিটির ৭ দলের দুই সদস্য আবদুল হালিম আর নুরুল ইসলাম চলে গেলেন এরশাদের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে - পিছনে রেখে গেলো খালেদা জিয়াকে - যিনি ইতোমধ্যে নিজেকে আপোষহীন হিসাবে পরিচিত করে ফেলেছেন।



পুরো আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলা দরকার। পুরো সময়ে জামায়াত শুধু বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে মগবাজার পর্যন্ত মিছিল করলেও গিয়াস কামাল চৌধুরীর বদৌলতে ১৫ দল আর ৭ দলের পাশাপাশি সমানভাবে প্রচার পেতে থাকলো।



এখানে উল্লেখ করা দরকার যে - দেশের একমাত্র রেডিও টিভি সরকারের দখলে আর পত্রিকাগুলো উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে এরা 'হরতাল"কে লিখতো "কর্মসূচী"। এই কাজটি করতে এরশাদকে সহায়তা করেন আনোয়ার জাহিদ নামের একজন দালাল - যিনি পরে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাও হয়েছিলেন।



ছাত্ররা দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ব্যস্ত থাকার সুযোগে শিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এদের শক্তি বৃদ্ধি করতে লাগলো - কিন্তু কোন দিন হরতালে বা পিকেটিং এ শিবিরের কোন কর্মী আহত পর্যন্ত হয়নি।



ধারণা করা হয় লিয়াঁজো কমিটির মতিন চৌধুরী - যিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় রাজাকার ছিলো - জামায়াতের এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছে। যোগাযোগের অভাবেই হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক - ৮৬ নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিলো। মজার কথা হলো, বর্তমানে '৮৬র নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কর্মীদেরও দেখি জাতীয় বেঈমান হিসাবে আওয়ামীলীগকে নিয়ে কথা বলতে।



যাই হোক - নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা আর মিডিয়া ক্যু করে এরশাদ প্রকৃত ফলাফল বদলে দেয়। এখনও অনেকের হয়তো মনে আছে নির্বাচনের ফলাফলে এরশাদ বিরোধীরা এগিয়ে যাচ্ছিলো - একসময় টানা তিনটা বাংলা সিনেমা দেখানো হয় টিভিতে - পরে ফলাফল ঘোষণা করা হয় যাতে এরশাদের দল বিজয়ী হয়। এখন মনে হয় - যদি সেইদিন সব দল মিলে নির্বাচনে যেত তবে হয়তো নির্বাচনের দিনেই এরশাদের শেষ দিন হতো। কারণ নির্বাচন নিয়ে এতো বড় জোচ্চুরি সহ্য করা কঠিন ছিলো। পরে আওয়ামীলীগসহ সবাই ‘৮৭ সালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে আবারো আন্দোলন বেগবান হয় - সেই সময় আওয়ামীলীগের নুর হোসেন শহীদ হন।



অবশ্য এরশাদ আরেকটা নির্বাচন করে ‘৮৮ সালে - তাতে শুধু আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জাসদ আর কর্নেল ফারুকের ফ্রিডম পার্টি যোগ দেয় এবং একসময়ের বিপ্লবী ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা হন।



আন্দোলনের সফলতা আসে ১৯৯০ সালে - যখন মওদুদ আহমেদ উপরাষ্ট্রপতি আর কাজী জাফর প্রধানমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় ছাত্ররা ১০ দফা দাবী সহ আগামী রাজনীতির বিষয়ে কিছু সুপারিশ শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার কাছে উপস্থাপন করে। যার মধ্যে শিক্ষা বিষয়ক দাবী দাওয়া সহ রাজনীতিকে বেশ কিছু লোককে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবী ছিলো। দুই নেত্রীই সেই দাবী মানার অঙ্গীকার করেন।



১৯৯১ এর নির্বাচনের মনোনয়ন দেবার সময় প্রথম দেখা গেল আপোষহীন নেত্রী প্রথম আপোষ করলেন - এম কে আনোয়ার নামের একজন চাকুরী হারানো সচিবকে মনোনয়ন দিয়ে। এম কে আনোয়ার এরশাদের শাসনামলে মন্ত্রীপরিষদের সচিব হিসাবে এরশাদের স্বৈরশাসনকে সহায়তা করেছে - যার ফলে শাহাবুদ্দিন এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে চাকুরী থেকে অবসরে পাঠায়। এই ভদ্রলোক আর কেরামত আলী (আরেক সচিব) প্রথমে আওয়ামীলীগের নমিনেশেনের জন্যে ধর্ণা দিলে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চাপে তাকে নমিনেশন দেয়া হয়নি। পরদিনই খালেদা জিয়া এই দুই ভদ্রলোককে নমিনেশন দিয়ে স্বৈরশাসকের পতিতদের সাথে আপোষ করে সবাইকে অবাক করে দেন - বিশেষ করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রতি ছিলো সেইটা একটা বজ্রপাত।



তারপর জামায়াতের সাথে আপোষ, দুর্নীতির সাথে আপোষসহ সব রকম আপোষই করেছেন খালেদা জিয়া। তারপরও কর্মী সমর্থকদের কাছে উনি আপোষহীন নেত্রী আর তাদের ভাষায় শেখ হাসিনা জাতীয় বেঈমান।



১৯৮৬ সালের নির্বাচন বয়কট করে বেগম জিয়া হয়েছিলেন ‘আপোষহীন নেত্রী’, আসুন দেখা যাক সে নির্বাচন বয়কটের পরিণামটি কি হয়েছিল। ওরকম ভয়াবহ পরিবেশে নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি মাত্র ১৫৩টি আসন লাভ করে আর আওয়ামী লীগসহ বামও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে পায় ১৪৭টি আসন। যদি বিএনপি সে নির্বাচনে অংশ নিত তাহলে জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই কমত, সে ব্যাপারে কারও সন্দেহ আছে কি? এরশাদ কি পারতেন আরও ৫ বছর দখল করে শাসন চালাতে? কিন্তু আমরা দেখেছি এরশাদ আমলের শেষ ৫ বছর আসলে প্রচণ্ড রক্তক্ষয় আর অর্থনীতি ধ্বংসের কাল। আর এর শিকার কতটা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আর কতটা বিএনপি নেতৃবৃন্দ তার খতিয়ান নিয়ে এখন আলোচনা হওয়া দরকার; কারণ আপোষহীন নেত্রীর তকমা শরীরে সেঁটে রেখেছেন কিন্তু বেগম জিয়াই। অথচ আওয়ামীলীগের পদত্যাগের মাধ্যমে ৮৬’র সংসদ এক বছর পরেই বিলুপ্ত হয় এবং ৮৮’র একক নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এর কোনটাই ভাল কিছু বয়ে আনেনি। জানি না, বেগম জিয়া ও তাঁর দল এ বিষয়টি নিয়ে ভাবেন কি না।



আর যারা '৮৬র নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন তারাও পুরো ব্যাপারটা যুক্তি দিয়ে বিচার করবেন আশা করি।



পরিশেষে ২০১৪ এর নির্বাচনের কথা বলি।
জিয়া-এরশাদ-খালেদার মতো আওয়ামীলীগের ইতিহাসে কখনো একক নির্বাচনের কালিমা নেই। আশা করি আওয়ামীলীগ এই ভুল কখনো করেনি। শেখ হাসিনা ভালো করেই জানতেন বিএনপি এবং বড় দলবিহীন একটি নির্বাচনে জয়লাভ করে সেই ক্ষমতা যতটা না সুখকর হবে তারচেয়ে অনেক বেশি কলঙ্কের। তাই তিনি যতদূর সম্ভব চেষ্টা করেছেন সব দলকে নিয়ে নির্বাচনে আনার। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেগম জিয়াকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দেয়ার কথাও বলেছেন। লাল টেলিফোনে শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার ফোনালাপ এখনও মাঝেমধ্যে ইউটিউবে শুনি।



নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি এবং তার সমমনা দলগুলো "কঠিন রাজপথ" বেছে নিয়েছে।

তবে বিএনপি সামনে অস্তিত্বের প্রশ্ন, তারা কি আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচন করবে নাকি আপোষহীন নেত্রী আপোষ রফার মাধ্যমে সমঝোতা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খোলাসা করার চেষ্টা করে ২০১৯ সালের নির্বাচনের দিকে এগোবেন সেটাই দেখার বিষয়।



আর দর্শক হিসেবে আমরা তো আছিই, দেখাই তো আমাদের কাজ!



তথ্যসূত্র সাহায্য এবং কৃতজ্ঞতা:
১। ৮৬'র নির্বাচন ও একজন নেত্রী আপোষহীন হয়ে উঠা - এস্কিমো
২। নির্বাচন বয়কটের ফসল কাটতে তৈরি অরাজনৈতিক বেপারিগণ- মাসুদা ভাট্টি

এনামুল হক এনাম, প্রভাষক, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬১ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১১০ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ