আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

‘স্বঘোষিত ঈশ্বর’ একবার মানুষের কাতারে দাঁড়ান!

জুয়েল রাজ  

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনাবাহিনী নিজেদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে তাঁদের দিকে কখনো কোন বিষয়ে আঙুল তোলা যাবেনা। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আমাদের অহংকার আমাদের গর্ব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জাতির জনক, জাতীয় সংসদ, আদালত, বিচার ব্যবস্থা সব নিয়ে বাক স্বাধীনতা আছে। ইচ্ছামত বিতর্ক হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনভাবেই সেনাবাহিনী নিয়ে নয়।

আর সেই সুযোগে বারবার বাংলাদেশের কাঁধে সওয়ার হয়েছে জলপাই রঙের ভূত। জাতির জনকের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান এর ক্ষমতা দখল। মুক্তিযুদ্ধের মূল স্তম্ভকে ভেঙ্গে দিয়ে পাকিস্তানিকরণের দিকে যাত্রা। স্বৈরাচার এরশাদ এসে সেটাকে পাকাপোক্ত করে দিয়ে সংবিধানের মাথায় টুপি পরিয়ে দিলেন রাষ্ট্রধর্মকে।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, আবেগ ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন অফিসার। বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সে পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনী,  সাধারণ মানুষ এদের  ভয় পায়। শ্রদ্ধা করেনা। কিন্তু তাঁরা মনে করে মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা করে। তাঁরা নিজেদেরকে ‘স্বঘোষিত ঈশ্বর’ সাজিয়ে বসে আছেন। আমরা সেই ঈশ্বরকে ভয়ে পূজা দেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তিকামী কৃষক শ্রমিক জনতার অর্জন। ৩০ লাখ শহীদের  কতো লাখ সরকারী বাহিনীর কেউ জানতে চায়নি কোনদিন। কিন্তু যুদ্ধ শেষে যাবতীয় অর্জন পদক সব চলে গেছে তাঁদের দখলে।

বাংলাদেশের আজকের অগ্রযাত্রায় ৭১ এর সেই খেটে খাওয়া মানুষেরাই রক্ত পানি করা পরিশ্রম করে চাকাকে সচল রেখেছে। অথচ বাংলাদেশের বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্দটি সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র একটি দেশের রাজকুমার আমাদের সেনাবাহিনী আমরা কোন প্রশ্ন তুলিনি কোনদিন। আমরা বলিনি আমাদের গরীব দেশে এমন ব্যয়বহুল বাহিনী আমাদের প্রয়োজন নেই। বর্তমান বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞানের বিশ্ব।

সেনাবাহিনীর তাঁদের ইমেজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চান। তাই তাঁদের কোর্ট মার্শাল নিয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনা। তাঁদের অপরাধ সাধারণ মানুষ জানলে তাঁদেরকে  ভয় পাবেনা বা শ্রদ্ধা করবে না এই ভয় থেকে হয়তো গোপনীয়তা করেন।  বঙ্গবন্ধুর খুনি কারা ছিল, জাতি জানে। জিয়াউর রহমান কতজন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন জাতি জানে। মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড সহ এরশাদের কাহিনী ও জানে। মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বুঝি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার জন্যই মুখিয়ে থাকে।  এক-এগারো তাঁর উজ্জ্বল প্রমাণ।

হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকে, দেশ , দেশের মানুষ কে রক্ষা করার জন্য। হাতের অস্ত্র ঘুম পাড়িয়ে রেখে শরীরের অস্ত্র  নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরেন যদি দেশের মানুষের উপর। হায় স্বঘোষিত ঈশ্বর! মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?

জাতিসংঘ মিশন মিশন বলে আমরা গলা ফাটিয়েছি, আমাদের সেনাবাহিনী সেখানে ফাটিয়ে দিয়েছে। ফলাফল? বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর ধর্ষণের অভিযোগ। পার্বত্য অঞ্চলে শুধুমাত্র গত বছর ৮৫ জন আদিবাসী নারী ধর্ষিত হয়েছেন, অভিযোগের তীর সেনাবাহিনীর দিকে। সর্বশেষ সোহাগী জাহান তনু। সেনাবাহিনীর হৃৎপিণ্ড, সেনাছাউনীর  ভিতরে কালভার্টের  নীচে পাওয়া গেল তাঁর ধর্ষিত মৃতদেহটি। কুমিল্লা সেনানিবাস কি এর দায়  কোনভাবে এড়িয়ে যেতে পারে? অবশ্যই না। সারা দেশের মানুষ আজ প্রতিবাদ মুখর। তনুর হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবীতে।

কুমিল্লা সেনানিবাস এখনো মুখে কলুপ দিয়ে বসে আছেন ধ্যানমগ্ন হয়ে, নিজেদের  ইমেজ ধরে রাখতে। মানুষ বলছে বিচার চাই, বিচার চাই, কিন্তু ভয়ে সেনাসদস্যদের কথা মুখে বলছেনা। মাননীয় স্বঘোষিত ঈশ্বর কি তা বুঝেন?

৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাত থেকে আমার দেশের নারী, কারো কন্যা, জায়া, জননী, ধর্ষিত হয়ে আসছে। লক্ষ লক্ষ বীরাঙ্গনার চোখের জলে ধুঁয়া পবিত্র মাটিতে আর কোন  নারী ধর্ষিত হবেনা, এমনটাই তো স্বপ্ন ছিল আমাদের।

পাহাড়ে ধর্ষিত ৮৫ জন নারী এই মাটির সন্তান, লাশ হয়ে যাওয়া সোহাগী জাহান তনু এই মাটির সন্তান আমাদের কন্যা কিংবা বোন। প্রতিটা ধর্ষণের বিচার চাই। মুখ বুঝে থাকা নয়। বন্ধুকের নলের ভয় নয়। মানুষ জেগে উঠলে সব ভোয় বাণের জলে ভেসে যায়। বাংলাদেশ বারবার তা প্রমাণ করেছে। সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্বেষ নয়। সেনাবাহিনীকে আমরা ভয় পেতে চাইনা; শ্রদ্ধা করতে চাই, ভালবাসতে চাই। সেই ক্ষেত্রটা তাঁদেরকেই তৈরি করতে হবে। নিজেদের ঈশ্বর না ভেবে মানুষ ভাবুন। মানুষের কাতারে একবার এসে দাঁড়ান।

দুই একজন সদস্যের অপকর্মের দায় যেন পুরো সেনাবাহিনীকে কলঙ্কিত না করে।

জুয়েল রাজ, ব্রিটেন প্রবাসী সাংবাদিক

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫১ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৪ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১১৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ