আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার বিরুদ্ধে ছিল আ.লীগ, বিএনপি এমনকি জামায়াতও

ইয়ামেন এম হক  

১৯৮৮ সালের ৭ই জুন। মিলিটারি স্বৈরশাসক লে: জে: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল। তৎকালীন সংসদে পাশ করা হলো বাংলাদেশের সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বিল। এই সংশোধনী দিয়ে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ইসলাম এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল আছে। কিছুদিন আগে এই অষ্টম সংশোধনীকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটা রিটের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

এখন যেই সংবিধানে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে দেশের চার মূল স্তম্ভের একটা বলে দাবী করা হয় সেখানে রাষ্ট্রধর্মেরও উপস্থিতি ঠিক কতোটা যৌক্তিক এ নিয়ে বিশাল আলোচনা করা যেতে পারে এবং ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় হয়েছে। আমার লক্ষ্য সেটা না। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হলো ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হবার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কি হয়েছিল পরের দিনগুলোতে, আর এই সাম্প্রতিক রিট আদালতে যাওয়ার আগে কি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল, সেটা তুলে ধরা। কন্সিস্টেন্সির জন্য নীচের সব স্ক্রিনশটগুলো দৈনিক ইত্তেফাক থেকেই নেয়া।

প্রথমেই দেখা যাক ৮ই জুনের প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম কি ছিল:



এখন দেখা যাক তৎকালীন বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কি ছিল:




দেখা যাচ্ছে বিরোধী দলগুলোর সিংহভাগ এই সংশোধনী বিল পাশের বিষয়ে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দাবী করেন এই বিল পাশ 'ধর্মের নামে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা', অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন আরেক বিরোধী দলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও দাবী করেন 'সংবিধানের সংশোধনী জনগণ মানিবে না'। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দল রাস্তায় মিছিল করে, এবং যানবাহন ভাংচুর/অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। বুঝা যাচ্ছে যে এই সংশোধনী বিল দেশের সব বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছিল।

পরের দিন, মানে ৯ই জুনের ইত্তেফাকের দিকে চোখ বোলানো যাক। প্রথমেই, তৎকালীন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি এরশাদের এ ব্যাপারে মন্তব্য, যা তিনি করেছিলেন আটরশীর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে গিয়ে, আটরশীর পীর এবং তার মুরিদদের সাথে সাক্ষাৎকারে:




সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতারা যেভাবে হেফাজতে ইসলামীর শফি হুজুরের পাশে ঘুরঘুর করে তার সাথে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় কি? যাই হোক, একই দিন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া জারি ছিল:




এবং একই খবরের বাকি অংশ সেদিনের কাগজের দ্বিতীয় পাতায়: