আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

সন্ত্রাসবাদ কেবলমাত্র আত্মঘাতী প্রবণতাই নয়, জ্ঞানকাণ্ডও বটে

গোঁসাই পাহ্‌লভী  

আমরা আপনাদের, এই বুঝদারওয়ালাদের বলছি, আপনারা প্রায় সময় অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন, কথায় কথায় বঙ্গে সূফীদের মাধ্যমে ইসলাম আসার কথা বলেন, বাউল ফকিরদের কথা বলেন, এইগুলো কেন বলেন? আপনারা এইসব বলে ইসলামী রাজনীতিকে (সে রাজনীতি যে অবস্থায় থাক কিনা) মোকাবেলা করতে চান, তাহলে ইসলামী রাজনীতি কি কেবল সূফীদের ভাবনা চিন্তার বিপক্ষে দাঁড়ানো কিছু?

আপনাদেরকে আরো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বঙ্গে সূফি ইসলাম এখন খুব নিভুনিভু অবস্থায় আছে, যার বিপরীতে আপনারা যাদের দেখছেন, এই যে পোলার অপজিট ভাবনা এইটা বেখাপ্পা। ইসলামি রাজনীতি সূফিধারার কাঠামো থেকে অনেক বেশি বিস্তৃত, অর্থময়তার পরিমণ্ডলে ইসলামী রাজনীতির ভূমিকা খেয়াল করলে বাঙলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অর্থনীতির হাতে জিম্মি। জামায়াতের সাথে পলিটিক্যাল ইসলামকে যুক্ত করলে বাস্তবতা আরো বেশি ধারণাতীত অবস্থায় আছে। ফলে আপনারা সূফিদেরকে ঠিক যে জায়গা থেকে ইসলামী রাজনীতির বিপরীতে দাঁড় করাচ্ছেন, কাঠামোটি শুরুতেই প্রতিযোগিতার জন্যে বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আপনারা অসাম্প্রদায়িক বাঙলাদেশের রেফারেন্স নিচ্ছেন কোথা থেকে? হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের সব থেকে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ চর্যাপদ এবং শ্রী কৃষ্ণকীর্তন, এই দুটি গ্রন্থ কি অসাম্প্রদায়িক গ্রন্থ। আমরা সম্প্রদায় এবং সাম্প্রদায়িকতা কিংবা সম্প্রদান শব্দগুলিকে নিয়ে এখনও তেমন আওয়াজ তুলি নাই।

বঙ্গে সূফীদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রচার এই কথা সত্য, তবে সর্বাংশে নয়। যদি সর্বাংশেও সত্য ধরে নেই তাহলে এর ব্যর্থতা হচ্ছে এই যে, বঙ্গে সুফিরা কোনও প্রকার রাষ্ট্র কাঠামো গঠন করতে পারে নাই। বঙ্গে পলিটিক্যাল ইসলামের সাফল্য, এককভাবে যে কোনো পলিটিক্যাল থিওরির থেকে আগানো।

বিষয়টির বাস্তবতা কয়েকটা ক্ষেত্রে মোটাদাগে চোখে পড়ে। এবার আসেন, পহেলা বৈশাখ বা দোলে পার্বণে বাঙালি এবং বাউলকে সমার্থক করে তোলা হয়, অথচ বাউলরা বা ফকিরেরা ইসলাম বলতে কি বোঝে, রাষ্ট্র বলতে কি বোঝে, সমাজ এবং তন্ত্র সম্পর্কে এদের ধারণা কি এ বিষয়ে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ থিসিস কিংবা ব্লগিং বা তৎপরতা হয়েছে?

এসব তৎপরতা ইতিহাসকে ধরে নেবার খেসারত ব্যতিত অন্য কিছু নয়। আপনি ইতিহাসকে ‘ধরে নিতে’ পারেন না, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবধর্ম এগুলো তো আপনি ‘ধরে নিতে’ পারেন না! এভাবে এই ‘ধরে নেওয়া’র চর্চার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষ তিন টুকরা হলো। বাংলাদেশেরও এই ‘ধরে নেওয়া’র মধ্যে দিয়ে জন্ম।

ভারত তার স্বাধীনতার মূল্য আজও দিয়ে যাচ্ছে, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশও। আফগানিস্তান কিংবা ইরাকে বিদেশি সৈন্য দিয়ে হত্যা হচ্ছে এমন নয় বাংলাদেশে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের ক্যাডার, প্রশাসন নিজের দেশের মানুষই নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করছে। এই হত্যার মূল কারণ কি? কারণ দেখবেন ‘ধরে নেওয়া’। যে জাতি একটি সশস্ত্র লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন হতে হলো সেই দেশকেও ‘ধরে নিয়ে’ সারভাইভ করতে হবে এটাই হচ্ছে সামষ্টিক মানুষের বড় ব্যর্থতা।

‘ধরে নেওয়া’র সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হতে হবে, সম্প্রদায় এবং সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতাগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পাঠ করতে হবে। মনে রাখতে হবে সন্ত্রাসবাদ কেবলমাত্র একটি আত্মঘাতি প্রবণতাই নয়, একটি জ্ঞানকাণ্ডও বটে।

গোঁসাই পাহ্‌লভী, ভাস্কর, লেখক।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ