আজ সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

দানব ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ও দেবী আইসিস

শেখ মো. নাজমুল হাসান  

ফ্রাঙ্কেনস্টাইন মেরি উল্‌স্টোনক্রফট শেলি রচিত ফ্রাঙ্কেনস্টাইন: অর দ্য মডার্ন প্রমিথিউস উপন্যাসের একটি বিখ্যাত চরিত্র। উপন্যাসটি ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নামেই সমধিক পরিচিত। মেরি শেলি উনিশ শতকের ইংরেজ সাহিত্যিক। তিনি একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, জীবনীকার এবং ভ্রমণকাহিনী লেখিকা হলেও রোমান্টিক এবং গথিক ধারার উপন্যাস রচনায় বেশি খ্যাতি অর্জন করেন। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এর রচনাকাল ১৮১৮।

মূল গল্পটা এরকম- ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নামক এক জার্মান গবেষক নিরলস গবেষণার মাধ্যমে একটি বিশেষ ধরনের বিজ্ঞান আয়ত্ত করতে সমর্থ হয়, যার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির মধ্যে প্রাণসঞ্চার করা সম্ভব। সে তার এই পরীক্ষাটি এক মৃত ব্যক্তির উপর করলে মৃত ব্যক্তি ঠিকই বেঁচে উঠে, কিন্তু পরিণত হয় এক ভয়ঙ্কর দানবে। প্রচণ্ড শক্তিশালী এই দানবটি দেখতে কুৎসিত। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ভয় পেয়ে এই দানবের প্রতি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করলে দানবটি হিংস্র হয়ে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণের সংকল্প করে । তার প্রতিশোধ সে শুরু করে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এর সহকারী ড. নীল ও একজন আয়া হত্যার মাধ্যমে। এরপর সে হত্যা করে তার সৃষ্টিকর্তার ভাইকে। তখন সে বনে আশ্রয় নেয় এবং শত শত সাধারণ লোক হত্যা করে। ফ্রাংকেন এর বিয়ের রাতে সে আবারো হত্যা করে তার স্ত্রীসহ তার পরিবারের বাকী সদস্যদের। এমনকি সে এক পর্যায়ে স্বয়ং তার সৃষ্টিকর্তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকে ও হত্যা করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে দানবটির মৃত্যু হয়!

আইসিস একইসাথে ইসলামি উম্মাহর জন্য একটি বিতর্কিত ও সমর্থিত নাম। বিতর্কের বিষয়টি তেমন প্রচারিত নয় বরং সমর্থনের বিষয়টি বহুল প্রচারিত। কোন ইসলামি দেশ বা সম্প্রদায় বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পক্ষ থেকে এর কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে অনৈসলামিক বলে বিরোধিতার নজির খুব একটা দৃশ্যমান নয়। উপরন্তু যারা এটার বিরোধিতা করে তারা পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে চলার জন্য অনেকটা মিনমিনেয়ে বিরোধিতা করে, যার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, তারা আসলে বিরোধিতা করে না বরং তলে তলে সমর্থনই করে এবং এদের সাফল্যে মনে মনে সন্দেশ খায়। তুরস্ক এবং সৌদি আরব মার্কিন পা চাটক হিসেবে এর প্রত্যক্ষ সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। মার্কিন কৌশলগতভাবে ইজরাইলের দ্বারা এটাকে পরিচালনা করে।

আইসিসের পুরো নামের অর্থ কী সেটাও একটা কনফিউশনের ব্যাপার। কোথাও বলা হচ্ছে এর অর্থ ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া। আবার কোথাও বলা হচ্ছে এর অর্থ ইজরাইলি সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস। ইজরাইলি সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস মোসাদের দ্বারা পরিচালিত হবার কারণে হয়তবা দ্বিতীয় নামকরণ করা হয়েছে।

তবে নাম হিসেবে আইসিস শব্দটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন বিতর্ক নেই। আইসিস একজন গ্রীক দেবীর নামের গ্রীক সংস্করণের ইংরেজি প্রতিরূপ। প্রাচীন মিশরীয় ধর্মবিশ্বাসে আইসিস হচ্ছেন মাতৃত্ব, যাদু এবং উর্বরতার দেবী। লিখিত ভাবে দেবী আইসিসের উপাসনার উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ এর অল্প কিছু কাল পরেই, পঞ্চম রাজবংশের সময়ে। শুরুর দিকে, মিশরীয় পুরাণ অনুসারে আইসিস হলেন নুট ও গেবের প্রথমা কন্যা এবং হোরাসের মা। দেবী আইসিসের ওসাইরিস নামে একজন ভাই ছিলেন যিনি পরে তাঁর স্বামী হন এবং হোরাস নামে এক সন্তানের জন্ম দেন।

সেতের নামক এক দেবতার হাতে দেবী আইসিসের স্বামী তথা ভাই ওসাইরিসের মৃত্যু হয়। দেবী আইসিস নিজের যাদু ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সেই মৃতদেহের সমস্ত বিচ্ছিন্ন অংশ গুলো জড়ো করেন এবং তাতে প্রাণ সঞ্চালন করেন। পরবর্তীতে পুরাণের এই ঘটনা মিশরীয়দের ধর্মবিশ্বাসের উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। পরের দিকে মিশরীয় পুরাণে এই বিশ্বাস দেখা যায় যে, স্বামী ওসাইরিসকে হারানোর শোকে ক্রন্দনরতা দেবী আইসিসের অশ্রু থেকেই নীল নদ প্লাবিত হয়। প্রাচীন মিশরীয় ধর্মবিশ্বাসে প্রতি বছর ওসাইরিসের মৃত্যু এবং পুনর্জাগরণকে বিভিন্ন রকম আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হত।