আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

একজন প্রিয়ভাষিণী কিংবা একটা প্রকাণ্ড লাল টিপের গল্প

আরিফ রহমান  

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে কি লোকে চেনে? মানুষ কি জানে যে এই মহিলাকে আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে? কে এই মহিলা যাকে পথে ঘাটের প্রতিবাদী জনসভায় যুগের পর যুগ দেখা যায়? কে এই মহিলা যিনি একটা লাল সবুজ শাড়ি আর প্রকাণ্ড লাল টিপ পরে জীবন সায়াহ্নে এসে মৌলবাদের বিরুদ্ধে এত শক্ত আওয়াজ তোলেন? কি তার শক্তির উৎস?

আজ (১১ আগস্ট) ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। একজন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দিতে বাংলা নামের দেশটার ৪৫ বছর সময় লেগে গেলো।

আচ্ছা এই স্বীকৃতি দিয়ে প্রিয়ভাষিণী কি করবেন? ঐ যে একটা কোটা আছে না 'মুক্তিযোদ্ধা কোটা', যেই কোটাকে সকাল বিকাল দুইবেলা করে গালি দ্যান, আপনাদের সেই কোটার সুযোগ এই মহিলা পাবেন না। জীবনে কোনদিন কোনকিছু দাবিও করেন নাই রাষ্ট্রের কাছ থেকে। চেয়েছিলেন নিজের ত্যাগের স্বীকৃতি। আর এই স্বীকৃতিটুকু পেতে পেতে এতোটা সময় লেগে গেলো। যাক দেরি হলো তবু পাওয়া তো গেলো।

জীবনের শেষ ভাগে এসে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আজ মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা নিয়ে কিছুই করতে পারবেন না। ছয় লক্ষ বীরাঙ্গনাদের মধ্যে জীবিত কারোই কিছু করার মত বয়সে নাই আর, সবারই জীবন-বাতি আজ নিভুনিভু।

এই স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে যদি কারো কিছু হয়ে থাকে তাহলে সেটা আমাদের হয়েছে। দীর্ঘ জীবন অবজ্ঞা, লাঞ্ছনা, অপমান নিয়ে বেঁচে থাকা একজন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমাদের সাহস দেন, প্রেরণা দেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি দেন। প্রায় সত্তুর বছর বয়স্ক একজন প্রিয়ভাষিণীর কপালে একটা ইয়া বড় টকটকে লাল টিপ দেখতে পান না? পান তো? ঐ টিপটার কত শক্তি সেটা কোনদিন বুঝতে পেরেছেন? কখনো বোঝার চেষ্টা করেছেন?

আপনারা কি জানেন লক্ষ বীরাঙ্গনাদের মাঝে প্রথম যেই বীরাঙ্গনা পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতন সম্পর্কে মুখ খোলেন পৃথিবীর সামনে তার নাম ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তিনি বড় আশা করেছিলেন তার দেখা দেখি হয়তো অনেকেই মুখ খুলবেন কিন্তু তিনি তেমন কাউকেই আজও পাশে পাননি। এই মহিলার সাহস কল্পনা করতে পারেন একবার?