আজ রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

‘Genocide Denial Law’ কেন চাই, কিভাবে চাই

আরিফ রহমান  

গত বছর (২০১৫) মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিতর্কিত বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই একাত্তরে ১৪ ডিসেম্বর নিহত বুদ্ধিজীবীদের শহীদ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।  জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর যেসব বুদ্ধিজীবী নিহত হয়েছেন, তারা পাকিস্তানিদের হামলা ও বর্বরতা সম্পর্কে জানতো। এমনকি শেষদিন পর্যন্ত তারা পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করেছেন, অফিসে গিয়েছেন এবং নিয়মিত বেতন নিয়েছেন। তাহলে তারা শহীদ হন কীভাবে?’

সত্যি কথা বলতে এসবের বিপরীতে এখন আর মন্তব্য জানাতেও ইচ্ছা করে না বিন্দুমাত্র। এসব দেশদ্রোহীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের এহেন অবমাননার মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্ম আর জীবিত মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনাদের এখন দাবী একটাই, একটি পূর্ণাঙ্গ Bangladesh Genocide Denial Law।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক Genocide Denial আসলে কী?
Genocide Denial অর্থাৎ গণহত্যা অস্বীকার। বক্তব্য, সাহিত্য, বই, লিফলেট, পোস্টার, সমাবেশ, পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন, ইন্টারনেট কিংবা যেকোনো মাধ্যমে, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত প্রমাণিত এবং স্বীকৃত গণহত্যাকে অস্বীকার করা কিংবা ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে বলাকে Genocide Denial বলে। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হতে পারে হিটলারের করা নাৎসি নিধনকে অস্বীকার করা অর্থাৎ Holocaust Denial, আর তুর্কিদের হাতে ১৫ লাখ আর্মেনিয়ান নিধনকে অস্বীকার করা অর্থাৎ Armenian Genocide denial।
 
Genocide Denial আসলে একটা আইন যার মাধ্যমে এরকম প্রমাণিত বিষয় অস্বীকারকারীদের জেল-জরিমানা করা হয়। মজার বিষয় হচ্ছে এই আইন শুধু যে জার্মান আর আর্মেনিয়ায় প্রযোজ্য তা কিন্তু নয়। পৃথিবীর বহু দেশেই ‘হিটলার ভালো মানুষ’, ‘তুর্কীদের হাতে গণহত্যা হয়নি’ এ ধরনের কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই আইনের কয়েকটি উদাহরণ:
National Socialism Prohibition Law অনুসারে অস্ট্রিয়ায় ন্যাশনাল সোশ্যালিস্টদের গণহত্যার ইতিহাস অস্বীকার বা তাদের অপরাধ হালকা করা চেষ্টা, অন্য কারো করা এ জাতীয় কাজ সমর্থন অথবা ন্যাশনাল সোশ্যালিস্টদের কোনো কাজের বৈধতা খোঁজার কোনো চেষ্টা কোনো ধরনের মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবে না। যদি কেউ করে তাকে দেয়া হয় ১ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড।

এছাড়া বেলজিয়ামের Negationism Law অনুসারে জার্মানির ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট আমলের গণহত্যার ব্যাপ্তি হালকা করা চেষ্টা, সমর্থন বা বৈধতাদানের সকল চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনে শাস্তির মেয়াদ ৮ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সেইসঙ্গে ৫ থেকে ২৬ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা।