আজ সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

স্মৃতিতে হুমায়ূন জননী

আলমগীর শাহরিয়ার  

বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম লেখক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। ১৯৪৮ সালের এমন এক দিনে রত্নগর্ভা এক জননীর কোল আলো করে এসেছিলেন কথাসাহিত্যের এই রাজপুত্র।

উল্লেখ্য, রাজপুত্র হুমায়ূন একা নন, আয়েশা-ফয়েজ দম্পতি পরিবারের সবাই তাদের জীবন ও কর্মে সোনা ফলিয়েছেন। সে অর্থে হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের অন্যতম আলোকিত এক পরিবারের সন্তান। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যের জীবন রাজকীয় হলেও একাত্তরে শহীদ বাবার অবর্তমানে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে তাদের পারিবারিক প্রারম্ভিক জীবন মোটেই সুখকর ছিল না। ছিল ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। সমস্যাসঙ্কুল উত্তাল সাগরে সম্ভাবনার জাহাজ সঠিক গন্তব্যে নির্ভুলভাবে নিয়ে যাওয়ার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়ে যে নাবিক নির্ভীকভাবে কাঙ্ক্ষিত বন্দরে সোনার জাহাজ পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি হুমায়ূন জননী আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে এ মহীয়সী রমণীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মৃতিকথা।

আগস্ট, ২০১২। মাসখানেক হলো মানবজমিন-এ রিপোর্টার হিসেবে জয়েন করেছি। প্রবেশনারী পিরিয়ড। ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। যথারীতি অফিস আওয়ার শেষে চীফ রিপোর্টার কাজল দা’র (কাজল ঘোষ) টেবিলে ডাক। দু’টো এ্যাসাইনমেন্ট দিলেন। শোকের মাস আগস্টে ধানমণ্ডি বত্রিশ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরে একটি প্রতিবেদন। আরেকটি রত্নগর্ভা মা হুমায়ূন জননী আয়েশা ফয়েজকে নিয়ে।

প্রিয় সন্তানের প্রয়াণে শোকাহত জননীর ঈদ। প্রিয় লেখক হুমায়ুন শোকে তখনো আচ্ছন্ন বাংলাদেশ। আয়েশা ফয়েজকে চিনি হুমায়ূন আহমেদ-এর বিভিন্ন লেখালেখি পড়ার সুবাদে। তাছাড়া আয়েশা ফয়েজ-এর নিজের লেখা বই ‘জীবন যখন যেরকম’ পড়েছি। এই সম্বল। কাজল দা’কে ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে বললেন, মিরপুরে কোথাও থাকেন ছোট ছেলে আহসান হাবীবের সঙ্গে থাকেন। খোঁজ নেন।