আজ রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং

কমরেড ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কোনও মৃত্যু নেই

চিররঞ্জন সরকার  

বিপ্লব হল আমৃত্যু সংগ্রাম৷ অতীত থেকে ভবিষ্যতের পথে যার নিরন্তর যাত্রাপথ৷ পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার মুখের উপর এ কথা শুনিয়ে দিতে পেরেছিলেন তিনি৷ জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিপ্লব গোলাপের শয্যা নয়৷ ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মুখে তিনি যেন ছিলেন শেষ উদ্ধত অহঙ্কার৷ অবজ্ঞাভরে যিনি বলতে পারতেন, পুঁজিবাদ টাকা ব্যবহার করে৷ আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিই৷ বিশ্ব জুড়ে বিপ্লবের শামিয়ানা টাঙিয়ে রেখে ৯০ বছর বয়সে চলে গেলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো৷

কিউবার পূর্বাঞ্চলে বিরান জেলায় জন্ম ক্যাস্ট্রোর৷ বাবা ছিলেন নিতান্তই কৃষক৷ দারিদ্র্যের মধ্যেই কেটেছে ছোটবেলা৷ আর তাই ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কীভাবে দরিদ্রকে শোষণ করে তা ছোটবেলাতেই উপলব্ধি হয়েছিল তাঁর৷ সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো ভবিষ্যতে বিপ্লবের পথে প্রণোদিত করেছিল তাঁকে৷ স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন সেই কৈশোরকাল থেকেই৷ তবে শুধু স্বপ্নেই আটকে থাকেননি৷ তা কাজেও করে দেখিয়েছেন৷ পুঁজির মোহে বিবশ বিশ্বের মধ্যে উদ্ধত বিপ্লবের প্রতিনিধি হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন তিনিই৷ ১৯৫৫ সালে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় চে গুয়েভারার৷ দুজনেই হাত ধরে হাঁটা শুরু হয় সাম্রাজ্যবাদ মুক্ত বিশ্বের স্বপ্নের৷ বাতিস্তার স্বৈরশাসনের উপর ছুঁড়ে দেন তীব্র প্রত্যাঘাত৷ আঘাতও পান চূড়ান্ত৷ কিন্তু বিপ্লব যে আমৃত্যু সংগ্রাম, তা তাঁর থেকে ভাল আর কে জানে৷ আর তাই একদিন মুক্ত করতে পেরেছিলেন কিউবাকে৷ পরে হয়েছিলেন প্রেসিডেন্টও৷

বিতর্ক থেকে প্রশস্তি-এই বর্ণময় জীবনে জুটেছে দু’টিই। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে, বাংলাদেশ, ভারত, নেপালে ক্যাস্ট্রো হিরো। ধনতন্ত্রের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামী। কিন্তু আমেরিকার নির্বাসিত কিউবানদের চোখে তিনি ‘হিটলার’। মানবাধিকার সংগঠনগুলির রিপোর্টও তাঁর প্রতি সদয় নয়। বিপুল বৈপরীত্য নিয়ে ফিদেল ক্যাস্ট্রোর জীবন। যে জীবনের অনেকটাই আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত। বিপুল শক্তিশালী আমেরিকার সঙ্গে ক্ষুদ্র দ্বীপ কিউবার স্মরণীয় টক্কর। যে টক্করের পরতে পরতে নানা ওঠা-পড়া।

১৯৫৯ সালের ১৫-২৬ এপ্রিল আমেরিকা এসেছিলেন ক্যাস্ট্রো। ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে বৈঠকও করেন। কিন্তু দেশে ফিরেই একে একে ব্যবসা ও কৃষিক্ষেত্রের জাতীয়করণ শুরু করেন। কিউবায় মার্কিন বিনিয়োগে বড়সড় আগাত লাগল। সম্পর্কের অবনতির সেই শুরু। একের পরে এক ব্যবসা ও কৃষি খামারের জাতীয়করণ হয়েছে, মার্কিন সরকার একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। কিউবার প্রধান উৎপাদন চিনি কেনা বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। বন্ধ করে দিয়েছে কিউবায় তেল বিক্রিও। জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে যায় কিউবা। যা ক্রমেই কিউবাকে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরতে এগিয়ে দিয়েছে।

একের পর এক টানাপড়েনের পর ১৯৬১ সালে দুদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তার আগে, আইজেনহাওয়ারের আমলেই সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিকে (সিআইএ) নির্দেশ দেওয়া হয় ক্যাস্ট্রোকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য। এই চেষ্টাগুলোর বেশির ভাগই করা হয়েছিল ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে। পাশাপাশি তাঁকে গদিচ্যুত করতে ‘অপারেশন মঙ্গুজ’ নামে একটি ছক কষেছিল আমেরিকা। এই চেষ্টাগুলোর বেশিরভাগকেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন ক্যাস্ট্রোর নিরাপত্তারক্ষী ফ্যাবিয়ান এসকালান্তে। তিনি জানিয়েছিলেন, কখনও ক্যাস্ট্রোর চুরুটের মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখা হয়েছে। কখনও ‘স্লো পয়েজনিং’ করতে তাঁর জুতো ও চুরুটের মধ্যে বিষ রাখা হয়েছে। খাবারে বিষ মেশানোর চেষ্টা তো অজস্রবার করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত কলমে বিষযুক্ত সূচ রেখে এবং পোষাকে জীবাণু ছড়িয়েও তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে সিআইএ।

তবে সবচেয়ে মারাত্মক পরিকল্পনা হিসেবে ফ্যাবিয়ানো যেটাকে উল্লেখ করেছিলেন, সেই চেষ্টার অংশ ছিলেন ক্যাস্ট্রোর স্ত্রী মিরতা। কোল্ডক্রিমের কৌটোয় বিষাক্ত ক্যাপসুল। কিন্তু এ ষড়যন্ত্রের কথা জেনে ফেলেন ক্যাস্ট্রো। তিনি মিরতার হাতে পিস্তল তুলে দিয়ে তাঁকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করতে বলেন। মিরতা তা পারেননি। ২০০০ সালে পানামা সফরে গিয়েছিলেন ক্যাস্ট্রো। সেখানেও তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। যে মঞ্চে তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে ৯০ কেজি বিস্ফোরক রাখা হয়। সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। সাধে কি আর ক্যাস্ট্রো বলেছেন, ‘হত্যার চেষ্টা এড়িয়ে যাওয়ার যদি কোনও অলিম্পিক ইভেন্ট থাকত, তাহলে নির্ঘাত তাতে সোনা জিততাম আমি।’

আমেরিকা ও কিউবার সম্পর্ক বরাবরই বিদ্বেষের সুরেই বাঁধা ছিল। এসেছে অর্থনৈতিক অবরোধ। ফলে কিউবার অর্থনীতি দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সোভিয়েত সাহায্যে কোনও ক্রমে টিকে গিয়েছে। কিন্তু কিউবার মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। ১৯৮০-এর এপ্রিলে সেই ক্ষুব্ধদের একাংশ হাভানায় পেরুর দূতাবাসে গিয়ে ভিড় করেন আশ্রয়ের জন্য। সংখ্যাটি প্রায় ১০ হাজার। ক্যাস্ট্রো জানান, যাঁরা চাইছেন কিউবা ছেড়ে চলে যেতে পারেন। সেই বছরে এ ভাবে প্রায় এক লক্ষ ২৫ হাজার কিউবার বাসিন্দা আমেরিকা চলে আসেন। প্রেসিডেন্ট রোলান্ড রিগান সরকার নিষেধাজ্ঞা আরও তীব্র করে। শুধু কিউবায় প্রচার চালানোর জন্য আলাদা রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেল খোলা হয়। কিন্তু ক্যাস্ট্রোকে সরানো সম্ভব হয়নি।

১৯৯১-এ সোভিয়েতের পতনের পরে প্রায় একা হয়ে পড়ে কিউবা। কিউবার অর্থনীতি চরম দুর্যোগের সামনে পড়ে। অনেক কষ্টে তা সামলানোর চেষ্টা করেছেন ক্যাস্ট্রো। যদিও তা নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছে। ক্রমে অবশ্য কিউবার আর্থিক নীতিও বদলেছে। এখন কিউবাতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাইভেট ক্যাপিটালিজম স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ছোট হোটেল, ছোট দোকান ইত্যাদি। তিন থেকে পাঁচ জন কর্মচারী নিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দারিদ্র্য থেকে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেখানে ক্যাস্ট্রো তেমন ভালো কিছু করতে পারেননি।

সমালোচনা আছে। থাকবেও। কিন্তু ক্যাস্ট্রো অনন্য হয়েছেন আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে লড়াই করে। সারা বিশ্বে এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। তিনি কিউবাকে রেখে গেলেন বিনা খরচে চিকিৎসা ও শিক্ষার দেশ হিসেবে। এত বড় একজন নায়ক অথচ নিজের নামে একটিও রাস্তা বা মূর্তি নেই। এটাই যেন প্রকৃত নায়কের বৈশিষ্ট্য! তাঁর পার্থিব যাত্রা শেষ হল৷ কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, বিপ্লবের আগুন কখনও নেভে না৷ ক্যাস্ট্রোও তাই কোনও মৃত্যু নেই৷ বিপ্লব কী? তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে বলতেন, শাসকের উপর শোষিতের কর্তৃত্ব স্থাপনই বিপ্লব৷ তবে তা করতে পারেন অল্প কয়েকজনই৷ যেমন, ক্যাস্ট্রো৷ সময়ই তাঁকে তৈরি করেছে, নাকি তিনিই সময়কে তৈরি করেছেন নিজের আদর্শে- সে প্রশ্নের মীমাংসা কঠিন। তিনি নিজে যদিও বলতেন, নিয়তিই এক একটি সময়ের জন্য একজন মানুষকে তৈরি করে দেয়৷ সন্দেহ নেই, জাঁকিয়ে বসা ধনতন্ত্রের মারের মুখের উপর দিয়ে কমিউনিজমের জন্য ফুল তুলে আনা মানুষটি ছিলেন তিনিই৷

শুধু কিউবার বিপ্লবের অন্যতম নেতা নন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসাবেও গোটা বিশ্বের সংগ্রামী মানুষের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কমরেড ফিদেল ক্যাস্ট্রো। গোটা দুনিয়া, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা জুড়ে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দম্ভকে চুরমার করে দিয়েছিলেন তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যে মানুষটিকে চিরতরে শেষ করে দিতে চেয়েও বারে বারে ব্যর্থ হয়েছে তাঁর নাম কমরেড ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

ফিদেল ক্যাস্ট্রো নেতা ছিলেন সন্দেহ নেই। খুবই বড় নেতা ছিলেন। কিন্তু দূরদৃষ্টি? তার যথেষ্ট প্রমাণ রেখে যেতে পেরেছেন কী? এই প্রশ্ন অনেকেই করছেন। আসলে ক্যাস্ট্রো তো শুধু একটা নাম ছিল না। একটা স্বপ্ন ছিল। সাম্রাজ্যবাদী হিংসার বিরুদ্ধে একটা নীল আকাশের নাম। ১৯৯১-এ সোভিয়েতের পতনের পর সেই স্বপ্ন আর সে ভাবে বেঁচে নেই। সেই নীল আকাশ কালো মেঘে ছেয়েছে। আমেরিকার সিআইএ ক্যাস্ট্রোকে খুন করার চেষ্টা করেছে বহু বার। পারেনি। আর পারবেও না। মরে গিয়েও কাস্ত্রো আরও এক বার আমেরিকাকে হারিয়ে দিলেন।

কিন্তু ক্যাস্ট্রোও কি জিতলেন? সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ক্যাস্ট্রো?

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৪৯ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৬ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭১ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৫ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৫৩ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১১ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ৯৮ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ