আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

মুক্তিযুদ্ধে পাবনা-৪

রণেশ মৈত্র  

পূর্ববর্তী অধ্যায়ে দীর্ঘ চার মাস পরে সহধর্মিণী পূরবী চারটি সন্তান নিয়ে নিরাপদে প্রায় দ’সপ্তাহ ধরে প্রধানত: পায়ে হেঁটে আবার কখনও বা নৌকায় নদী পার হয়ে অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে নদীয়া জেলার কেচুয়াপাড়ায় আওয়ামী লীগের রিক্রুটিং ক্যাম্পে পৌঁছালে সেখানে একজন আওয়ামী লীগ কর্মী তাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে আমাদের করিমপুরস্থ ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা রিক্রুটিং ক্যাম্প বা যুব শিবিরে পৌঁছে দিলে তাৎক্ষণিক যে দৃশ্যের অবতারণা হয় তা অতি সংক্ষেপে বলছি।

দুই পুত্র সন্তান প্রবীর (১১) এবং প্রলয় (৯) দুই কন্যা সন্তান মধুমিতা (৭) ও মালবিকা (১) বরাবর তার সাথে ছিল। দুধের শিশু কুমকুমকে নিয়ে পূরবীর সর্বাধিক দুশ্চিন্তার ও কষ্টে ভুগতে হয়েছে। কারণ সর্বত্র শান্ত কমিটি ও পাক-বাহিনী এবং তাদের সহযাত্রী জামায়াতে ইসলামীর তাণ্ডব চলছিল অবরুদ্ধ বাংলাদেশে।

তাই বিশেষ করে রাতের বেলায় টুঁ শব্দটিও যাতে মালাবিকা বা কুমকুম না করে তার জন্যে নিজের ঘুম হারাম করে তাকে সামলাতে হয়েছে। কারণ লুকিয়ে থাকাবস্থায় রাতের ঐ শব্দ শত্রুদেরকে বাড়ী চিনতে সাহায্য করে এবং যদি সেই সুবাদে তারা আক্রমণ করে তবে বাড়ী কারওই রেহাই থাকবে না। এমন অবস্থার মধ্যে আরও অনেক পরিবারকেই পড়তে হয়েছিল। পশ্চিমবাংলায় আমার সময় আমি যে গ্রামে সকলকে রেখে এসেছিলাম সেখানে অল্পদিনের মধ্যেই আর কারও পক্ষে থাকা সম্ভব হলো না কিছু দিনের মধ্যেই শান্তি কমিটি গঠিত হওয়ায় তাদের দৌরাত্ম্যে।

তখন ঐ গ্রাম ছেড়ে পূরবীকে অজানা উদ্দেশ্যে নানা সময় নানা গ্রামে নানা বাড়ীতে আশ্রয় নিতে নিতে শেষ পর্যন্ত নিজের ভগ্নীপতির বাড়ীতে সুজানগর থানার নাজিরগঞ্জে গিয়ে থাকতে হয়। তুলনামূলকভাবে ঐ গ্রামের পরিস্থিতি ভাল ছিল। গ্রামটাও পদ্মা-তীরবর্তী। নদী পার হলেই রাজবাড়ী। যাহোক সেখানকার যুবকরা মুক্তিযুদ্ধে নেবে বলে গোপনে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিল। ইতোমধ্যে আবার ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা প্রথম ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধারাও ঐ গ্রামে অবস্থান গ্রহণ করতে সুরু করে। এরা কেউ কেউ তার ভগ্নীপতির বাড়ীতেও আশ্রয় নেয়। তাদের দেখাশুনা নিরাপত্তা বিধান করা এগুলিও পূরবীর নৈমিত্তিক দায়িত্বে পরিণত হয়। এই কাজ প্রথম দফায় যে গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম সেখানেও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য (খাবার রান্না করে পাঠানো) করতে হয়েছে বেশ কিছু দিন আরও কয়েকজন মহিলার সাথে। ফলে পূরবী ঐ সব মুক্তিযোদ্ধাদের একজন জনপ্রিয় কাকীমায় পরিণত হয়েছিলো।

কিন্তু দিনকাল তো ভিন্নরকমের। বাঙালি হওয়াই যেখানে অপরাধ সেখানে হিন্দু পরিবারগুলির অবস্থা কি দাঁড়িয়েছিল তা অনুমান করা আদৌ কঠিন নয়। বাস্তবে ঘটলোও তাই। বাঙালিদের ঐক্যে ফাটল ধরানো এবং বিভেদ সৃষ্টি করে পাকিস্তানীরা মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিতে পারবে ভেবে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে শান্তি কমিটির সহযোগিতায়। ফলে প্রায় এক কোটি হিন্দু নর-নারী সহায় সম্বলহীন অবস্থায় পশ্চিম বঙ্গে চলে যেতে বাধ্য হন। তাই ভগ্নীপতির বাড়ী থেকে পালিয়ে সাতবাড়িয়ার এক কলেজের অধ্যাপকের বাসায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অধ্যাপকটিও পরিচয় জেনে সসম্মানে আশ্রয় দেন। এই অবস্থায় একটিদল হঠাৎ করে পাক-বাহিনী বিপুল অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাতবাড়িয়ার বাসিন্দাদেরকে পদ্মার তীরে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে বলে এবং দাঁড়ানোর পর সকলকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। মুহূর্তে শহীদ হন প্রায় ১২০০ শত মানুষ।

এমতাবস্থায় সকলের প্রাণরক্ষার নিমিত্তে পূরবী সন্তানদের নিয়ে অধ্যাপকের বাসার পার্শ্ববর্তী ঝোপের মধ্যে গিয়ে একটি কর্দমাক্ত জলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। শিশুকন্যা মালবিকা যাতে কোন শব্দ না করতে পারে-তার জন্যে তার মুখ চেপে ধরে রাখা হয়। সন্ধ্যায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি নামল। বৃষ্টিকে বড্ড ভয় করতো পাক-সেনারা। তারা দ্রুত ট্রাক নিয়ে পাবনাতে পালিয়ে গেলে পূরবী সন্তানদের নিয়ে ঝোপ থেকে বের হন। সর্বত্র শোকাচ্ছন্ন মানুষের আহাজারি সবার মনে আতংক। যাবার সময় সৈন্যরা পাউডার ছিটিয়ে সাতবাড়িয়ার বহু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। এবারে এ গ্রামটিও ছাড়তে হলো। অনেকেই ভারতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিল। সঙ্গে সামান্য যে গহনা ও এক ব্যান্ডের ট্রানজিষ্টার ছিল জলের দামে তা বেচে দিয়ে কয়েকদিন ধরে অনাহারে অর্ধাহারে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে কেচুয়াডাঙ্গা হয়ে করিমপুর ক্যাম্পে পৌঁছানোর গল্পটা সংক্ষেপে এ রকমই বললেন পূরবী।

ক্যাম্পে অবস্থানকারী তরুণেরা ও প্রতিবেশীরা কথাগুলি শুনে দেশের অভ্যন্তরের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেলেন আবার সকলকে সুস্থ করে তোলার জন্যে কি করা যায় তা ভেবে স্থির সিদ্ধান্তে আমার আগেই প্রতিবেশী একজন তাঁর বাসায় সকলকে নিয়ে গিয়ে একটি রুম তাদেরকে দিয়ে বিশ্রাম নিতে বললেন। আমি তাতে সম্মত জানালাম যদিও ভাবছিলাম তাদেরকে নিয়ে কলকাতা গিয়ে সকলকে রেখে আসি। যা হোক, ঐ বাড়ীর মেয়েরা অত্যন্ত সম্মানের সাথে পূরবীকেও স্নেহের সাথে সন্তানদের পরিচর্যা করায় তাদের সুস্থ স্বাভাবিক হতে বেশী দিন লাগে নি। পূরবী তো বলেই ফেললেন, “তোমাকে আর কোনদিন পাব এমনটা তো ভাবতেই পারিনি কারণ পাবনার সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে তুমি নেই”। বললাম, “এ গুজব পরিবারের ও নিকটজনদেরকে কষ্ট দিলেও অপরদিকে তার ফল ভাল। হয়তো সে কারণেই কষ্ট করে হলেও তোমরা বেঁচে থাকতে পেরেছ এবং এখানে সাক্ষাত সম্ভব হল।”

প্রায় ঐ একই সময়ে পাবনার আরও অন্তত: একটি জায়গায় বড় ধরণের গণহত্যা অনুষ্ঠিত হয় অন্যরূপ কায়দায়। সেটি হলো ফরিদপুর উপজেলার ডেমরাতে। সেখানে সাতবাড়িয়ার মতই প্রচুর হিন্দু-বসতি ছিল। ডেমরা অত্যন্ত প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পাক সেনাদের যাতায়াত সহজ ছিল না কিন্তু স্থানীয় শান্তি-কমিটি রাজাকারেরা পাবনা থেকে এসে সৈন্যদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। শুধুমাত্র হিন্দুদেরকেই সাতবাড়িয়ায় ও ডেমরায় হত্যা করা হয়েছিল তা ঠিক নয়-মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ভাল সংখ্যক মুসলিমকেও একই ভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। পাকিস্তান বাঙালি মুসলমানদেরকে কখনও “মুসলমান” বলে স্বীকারই করে নি-বলেছে তারাও হিন্দু এবং পাকিস্তান ও ইসলাম রক্ষার জন্যেই তারা বাঙালি নিধন করছে। এগুলি তারা প্রকাশ্যেই বলতো। এমনকি, বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলাকেও তারা হিন্দুর ভাষা ইসলাম-বিরোধী ভাষা ইত্যাদি অভিধায় মূর্খের মত অভিহিত করতে পরোয়া করে নি। বস্তুত: ইতিহাস-ঐতিহ্য কোন কিছুরই বোধ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠর মনে কদাপি ছিল না এবং যতদূর উপলব্ধি করি আজও নেই। আজও তাদের শিক্ষা হয় নি কারণ সভ্যতার আলো সে দেশে আজও পৌঁছায় নি।

যা হোক এছাড়াও সাঁথিয়া উপজেলার আলেকদিয়ার এবং নানা গণহত্যা সংঘটিত হয় যদিও নিহতের সংখ্যা সেই স্থানগুলিতে সাতবাড়িয়া ও ডেমরার চাইতে অনেক কম ছিল। সদর থানায় নকশালদের তরফ থেকেও ভয়াবহ নিধন যজ্ঞ চালানো হয়। প্রবীর তখন ১১/১২ বছরের শিশু। কিন্তু দিব্যি মিশে গেল ক্যাম্পের ছেলেদের সাথে। যোগ দিল তাদের সাথে ক্যাম্পের কাজ কর্মেও। দূরে রেশনের দোকান থেকে তাদের সাথে মাথায় করে রেশনের চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, লাকড়ি প্রভৃতি প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে মাথায় করে ক্যাম্পে বয়ে আনতো। পূরবীও ক্যাম্পের ছেলেদেরকে দেখাশুনা করা, স্বেচ্ছায় তাদেরকে রান্না করে খাওয়ানো ইত্যাদি করা শুরু করলো।

তবে দিন কয়েকের মধ্যে তাদেরকে সাময়িক ভাবে কলকাতার ছোট ভাইয়ের বাসায় রেখে আসি। আত্মীয়-স্বজনেরা তাদেরকে দেখতে ব্যাকুল প্রতীক্ষায় ছিলেন এই কারণে। পরবর্তীতে কমরেড প্রসাদ রায় ক্যাম্প পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে এলেও কলকাতা থেকে কিছুদিন পর পূরবীকে করিমপুর এসে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর বাড়ীতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়-ক্যাম্পের কাজে তার সহযোগিতা যথেষ্ট প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ায়। প্রবীরও মাঝে মাঝে আসতো একই উদ্দেশ্য। পূরবীর সার্টিফিকেটে উল্লেখিত নাম গীতা তালুকদার।

সম্ভবত: দিন দিন তো ক্যাম্পের রিক্রুটমেন্টের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল ফলে নানাবিধ কাজের পরিধিও বেড়ে যাচ্ছিল বাড়তি লোকেরও একই কারণে প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের রিক্রুটিং ক্যাম্পগুলি (যুব শিবির) আওয়ামী লীগ পরিচালিত যুব শিবির গুলির মত ঠিক একই টাইপে পরিচালিত হতো-তা নয়। যতদূর দেখেছি ঐ ক্যাম্পগুলিতে quantity (পরিমাণ) quality বা তাদের গুনের বা মানরে উপর নয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা যেমন প্রতিদিন তরুণদেরকে সকালে এক ঘণ্টা এবং সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিতাম বাধ্যতামূলকভাবে, তাদের ক্যাম্পের ডিসিপ্লিন মানতে শিক্ষা দিতাম কাজ কর্ম যেমন ক্যাম্প পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, হাট-বাজার করা, রেশন আনা, রান্না করা, অবসর দু’এক ঘণ্টা পালন করা এবং তখন তারা কে বিলাসী-মন নিয়ে কেনাকাটা সিনেমা দেখা প্রভৃতির প্রতি আকৃষ্ট হতো সেগুলির প্রতি কড়া নজর রাখা এগুলির বালাই আওয়ামী লীগের ক্যাম্পগুলিতে তেমন একটা ছিল না। এমন কি রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রেও আমরা যথেষ্ট সতর্ক থাকতাম যাতে কোন রাজাকারের ছেলেপুলে বা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী বা সাম্প্রদায়িক চিন্তায় আচ্ছন্ন কেউ আমাদের ক্যাম্পে ঠাঁই না পায়।

এমন কি, সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ একজন কমিউনিস্ট নেতার সুপারিশ স্বত্বেও কমরেড তোয়াহার সাম্যবাদী দলের অনুসারী হওয়ার ফলে তাঁর নিজের একটি সন্তানকেও আমরা ক্যাম্পে স্থান দিই নি প্রশিক্ষণেও পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। কারণ তোয়াহা সাহেবের তৎকালীন তত্ত্ব ছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে “দুই কুকুরের লড়াই” বলে দলীয় কাগজপত্রে স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করে ঐ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তেমনি অপর কোন নকশাল পন্থী দলেরও কাউকে স্থান দিই নি।

এই কড়াকড়ির ফলে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের অনেকগুলি ক্যাম্প (প্রতিটি জেলার একাধিক সংখ্যায়) গঠন ও তাতে রিক্রুট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা স্বত্বেও আমাদের গেরিলা-মুক্তিযোদ্ধাদের মোট সংখ্যা আওয়ামী লীগের তুলনায় অনেক কম ছিল। পরবর্তীতে সরকারী গেজেটেও তার স্বাক্ষর মেলে যদিও কয়েক হাজার ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা-মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বশেষ ২০১৩ সালে প্রকাশিত গেজেটকে বে-আইনীভাবে এক বছর পর সরকারীভাবে বাতিল ঘোষণা করলে হাইকোর্টে রিট করতে আমাদের বাহিনীর তৎকালীন ডেপুটি কম্যান্ডার ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বাধ্য হন এবং তাতে হাইকোর্টের রায়ে বিজয়ী হন।

যা হোক, ঐ কড়াকড়ির সর্বাপেক্ষা বড় সুফল ছিল ন্যাপ-সিপিবির মুক্তিযোদ্ধারা দেশের ভেতরে ঢুকে অন্য কোন কোন মুক্তিযোদ্ধার মত কোন প্রকার অন্যায় কাজ যেমন কারও বাড়ী ঘর দখল করা লুটপাট করা, মেয়ে বের করে নেওয়ার মত কোনপ্রকার সমাজ-বিরোধী কাজে লিপ্ত হয় নি বা কারও বিরুদ্ধে এ জাতীয় কোন অভিযোগও পাওয়া যায় নি। তবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তারা নানা ফ্রন্টে যুদ্ধ করেছে এবং সর্বদা গরীবের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে। এ গৌরব কম গর্বের ছিল না বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দল কটিতে।

তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ছয় মাস ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা রিক্রুটিং ক্যাম্পগুলিকে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। কারণ ঐ সময়কাল পর্যন্ত আমাদের ক্যাম্পগুলি ভারত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ছিল না। ফলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রেশন, ক্যাম্প-ভাড়া ও অন্যান্য ভাতাদি যা আওয়ামী লীগের ক্যাম্পগুলি পেত তা আমাদের ক্যাম্পগুলি পেত না-সেগুলি আমাদের পার্টিকেই তাদের সীমিত শক্তির মধ্যে বরাদ্দ দিতে হতো। তবে ভারত সরকার প্রথম থেকেই আমাদের ছেলেদেরকে সামরিক/গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়।

করিমপুর ক্যাম্পে বর্ষাকালে সেবার পদ্মা নদীতে যে মারাত্মক বন্যা দেখা দেয় তার ফলে অনেকাংশেই ডুবে যায়। কাঁচা বাড়ীর ঐ রুমগুলি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় আমরা ওয়াটার প্রুফ শিট প্রভৃতি কিনে ঐ কাদার উপরে পেতে ইট মাথায় দিয়ে রাতের বেলায় ঘুমাতাম। ছেলেরা ও পরিচালকবৃন্দ সবাইকেই তা করতে হতো কারণ আমাদের ক্যাম্পগুলিতে সবাইকে সমান বলে গণ্য করা হতো সকল বিষয়েই।

ভারত সরকারের স্বীকৃতি আমরা পেলাম যতদূর মনে পড়ে অক্টোবর মাসে। তখন যুদ্ধ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে করিমপুরের ঐ ক্যাম্পটি বদল করে উন্নততর বাড়ী ভাড়া নেওয়ার আর সময় ছিল না। নজর ছিল প্রশিক্ষণে বেশী করে পাঠানো দেশে প্রশিক্ষিতদেরকে অস্ত্র সজ্জিত করে যুদ্ধ করতে পাঠানো খবরাখবর আদান-প্রদান ইত্যাদি। তবে বাদ-বাকী সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা হওয়ায় আমরা অনেকটা স্বস্তি অনুভব করি।
ক্রমশ...

রণেশ মৈত্র, লেখক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ইমেইল : [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫৩ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ২১ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৬ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১১৪ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৮ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১৩১ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ