আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

জ্ঞান বলে, সমৃদ্ধি এলেও শান্তি আসবে না

জহিরুল হক বাপি  

অনেকে বলেন, বলছেন শেখ হাসিনা তাঁর বাবাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। কথা কেউ নিজের যুক্তি থেকে বলেন, কেউ শুনে বলেন, কেউ তেল দেওয়ার জন্য বলেন। শেখ হাসিনা আজ নিজের প্রজ্ঞা আর মেধা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে উচ্চ আসনে বসেছেন। গত কয়েক বছরে বিদেশি যারা বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের প্রচারের কারণে বর্তমান সরকারের ঘোর বিরুদ্ধে, হাসিনার বিরুদ্ধে তারাও উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশকে সম্মান দিতে বাধ্য হয়েছে। এটা নি:সন্দেহে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ। কিন্তু তবুও বলতে পারছি না যে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ছাড়িয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু একটি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য তৈরি করেছেন, প্রাণ দিতে প্রস্তুত করেছেন মানসিকভাবে, তাদের জ্ঞান চক্ষু উন্মোচন করেছেন; ফলস্বরূপ ১৯৭১।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন আত্মিক ও আর্থিক উন্নয়ন। বাঙালিয়ানার বাংলাদেশ। স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। ১৯৭৫ পরবর্তী সময় থেকে এ দেশকে আর্থিক ভাবে যেমন দরিদ্র করা আন্তর্জাতিক চেষ্টা তেমনি খুবই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবে আমাদের আত্মাকে কলুষিত করা শুরু হয়েছিল। আর্থিক দুর্বল জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিন্তু আত্মিকভাবে দুর্বল, বিভ্রান্ত, নষ্ট জাতি কেবল নিজেরদের ধ্বংসই করে।

আমাদের বাঙালিয়ানার, মানবিকতা, সরলতা, উদারতার, অসাম্প্রদায়িকতার, ধার্মিকতার উপর তাদের পরিকল্পনা খুবই সূক্ষ্ম এবং সফল। তারা আমাদের যাত্রাপালায় অশ্লীলতা ঢুকিয়ে দিল। আমাদের দেশ মেলার দেশ। তারা মেলাগুলোতে হাউজি, অশ্লীল যাত্রাপালা ঢুকিয়ে দিল। তারই ফল এখনকার মেলায় মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া। আগের কবি, সাহিত্যিকদের বড় একটা অংশ দেশ, মানুষ, মানবিক প্রেমে মত্ত ছিলেন। তাদের এবং অন্যদের তখনকার প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প, কবিতায় আমরা শহুরে থেকে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামের মেলার বর্ণনা পাই। সেখানে তো নারী নিগ্রহের কোন বর্ণনা নাই। মোস্তাক-জিয়া-ভুট্টো-ফারুক-রশীদ-জামাত-পাকিস্তান মেলায়, পার্বণে অশ্লীলতা ঢুকিয়ে এবং আরও এমন সুচিন্তিত কাজ করে সামাজিক শিক্ষাকে প্রতারিত করার মাধ্যমে সফলভাবেই একটা বিভ্রান্ত জাতি তৈরির কাজ শুরু করলো।

খেয়াল করে দেখেন তখন জয় বাংলা স্লোগানকে চাপা দিল হিন্দুয়ানী শব্দ বলে অন্য দিকে জিয়া মদের দোকানের লাইসেন্স দিলেন। দেশে জামাতি মাওলানাদের ওয়াজের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেল, মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়তে থাকলো- অনিয়ন্ত্রিত বাচ্চা জন্ম- মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্রের অভাব হলো না। মাদ্রাসা শব্দটার অর্থই তারা পরিবর্তন করে দিল। ধর্মীয় শিক্ষার নামে বিভ্রান্তিকর, নিম্ন মান, আত্মিক অন্ধকার করার শিক্ষার সাথে সাথে তারা পতিতা পল্লীর অনুমতি দিল। সাথে ভারত বিরোধী প্রচার- শেখ মুজিবকে নাস্তিক- ইন্ডিয়ার দালাল ইত্যাদি প্রচারতো আছেই।

২০১৭ সালে এসেও অনেক বাঙালি জানে না “ইসলামি ফাউন্ডেশন” এর প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু। অনেকে জানে না তাদের গোলাম আযমের বুদ্ধিতে সৌদি আরব বাংলাদেশীদের হজ বন্ধ করে দিয়ে ছিল। অথচ হজ আল্লাহ প্রদত্ত মুসলমানদের অধিকার। যাই হোক বঙ্গবন্ধু যুক্তি ও অনুরোধের মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পেরেছিলেন। এরকম উদাহরণ আছে ভুরি ভুরি। ধর্মকে তারা অন্তর থেকে পোশাকে, বেশ-ভূষাতে-ঠোঁটের আগায় এনে ধর্ম পালন খুব সহজ করে দিল। বকধার্মিকের সফল কারখানা এখনও চলছে।

এ জাতির আত্মাকে নষ্ট করার জন্য '৭৫-এর পর থেকে এখন পর্যন্ত কর্মযজ্ঞ চলছে। তবুও এদেশের মানুষ অন্তরে পুরো মৌলবাদী হয় নি। বিএনপিকে বাদ দিয়ে জামাত একা নির্বাচন করলে আসলে কয়টা আসন পাবে? খুবই কম। তারা আছে ঠোঁটে। এ দেশের কয় জন মানুষ আন্তরিক জঙ্গি, জঙ্গিবাদ আছে ঠোঁটে। কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত। এটা এ ভূমির গুণ। প্রতিটি ভূখণ্ডের নিজস্ব একটা চরিত্র আছে। যা অধিবাসীদের উপর শারীরিক, মানসিক উভয় ক্ষেত্রে কঠিন ভাবেই প্রভাব ফেলে। এটাই “জাতীয়তাবাদ” । এ টানেই বাঙালির আত্মা এখনও নষ্ট হয় না, পুরোপুরি কুপথে যায় নি- তবে বেজায় বিভ্রান্ত।

পঁচাত্তরি, রেজাকার, পাকি, আমেরিকার মুখে ছেপ দিয়ে এ জাতি আর্থিক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আত্মা নষ্টের চেষ্টায় আত্মা পুরো নষ্ট না হলেও বিভ্রান্ত। একই জাতি নিজ পরিচয় ভুলে কয়েক পথে কয়েক বাড়িতে। কেই জিয়ার জাতীয়তাবাদ, কেউ জিয়ার স্রষ্টাদের ডাইরেক্ট মওদুদিবাদ, কেউ চীনাবাদ, কেউ শরীয়াবাদ। অথচ স্বভাবে, অভ্যাসে, হাঁটায়, খাবারে সব একই। গুটিকয়েক মানুষ আর লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকার প্রচার আমাদের এমন করেছে। বাঙালিয়ানার ভিত যদি মজবুত না হতো তবে আমরা ভেসে যেতাম।

শেখ হাসিনার এক যা করতে হবে পুরো জাতিকে আবার “বাঙালি” পরিচয় মনে করিয়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু পুরো জাতিকে এক করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য। এখন স্বাধীন দেশের এ বিভ্রান্ত মানুষগুলো শেখ হাসিনা এক করতে পারলে “বাঙালিয়ানার বৃক্ষ” তলে তবে আসল উন্নয়ন হবে। যোগ্য উত্তরসূরীর কাজ হবে সেটা, এবং তাকে করতে হবে সেটাই। এর অন্যথা হলে সাধারণ জ্ঞান বলে সমৃদ্ধি এলেও শান্তি আসবে না।

জহিরুল হক বাপি, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫৩ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৬ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০৫ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৬ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১২৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ