নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারি, ২০১৫ ২৩:৫৪

নমনীয় হচ্ছে বিএনপি, দলীয় সরকারের অধীনেও নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত

সরকার সংলাপ ডাকলে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে- একথা জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এখন সমাবেশের অনুমতি পেলেই কর্মসূচি প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি ।

সরকার যখন হার্ডলাইনে তখন বিএনপিকে সফটলাইনে আসা ছাড়া উপায় ছিল না। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নমনীয় হচ্ছে এমন আভাষ পাওয়া যাচ্ছে তাদের নেতাদের কথায়। প্রথমে এম এমাজউদ্দিন আহমেদকে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদের কথায় সে সুর স্পষ্ট হলো। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ যখন ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ করার সমালোচনা করেন, তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ঢাকায় জনসভার অনুমতি দিলে কি বিএনপি অবরোধ প্রত্যাহার করবে? “এটি ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আমাদের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখতে পাবেন,” উত্তরে বলেন হাফিজউদ্দিন।  

তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে মনোবল দৃঢ় রয়েছে খালেদার। “তিনি দেশবাসীকে জানাতে বলেছেন, অবরোধ চলবে। যতদিন না দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্দোলন সংগ্রামে ২০ দল থাকবে।”

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে খালেদা জিয়াকে ‘সন্ত্রাস আর জঙ্গির নেত্রী’ আখ্যায়িত করে অবরোধ ঠেকাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বিএনপি নেতা হাফিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের সভানেত্রী, আমাদের সকলের সম্মানের পাত্রী। আমরা আশা করব, তিনি দেশে আর আগুন জ্বালাবেন না।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় গত ৫ জানুয়ারি লাগাতার অবরোধ ডাকে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবার আন্দোলনের মাঠ না ছাড়ার ঘোষণাও এসেছিল বিএনপি নেতাদের মুখ থেকে। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন খালেদাও।

এর মধ্যে রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে প্রথম দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের তিন সদস্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর বেরিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সরকার সংলাপ ডাকলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমান সঙ্কটের জন্য আওয়ামী লীগের ‘একগুয়েমি’ মনোভাবকে দায়ী করেন হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখন দেশে যেসব ঘটনা ঘটছে, এর জন্য বর্তমান সরকারের অনমনীয় মনোভাব ও কয়েকজন মন্ত্রীর বেসামাল কথা-বার্তাই দায়ী। তারা তাদের নেতা-কর্মীদের বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণের জন্য উস্কে দিচ্ছে।”

খালেদা জিয়াকে জঙ্গিদের নেত্রী বলায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে হাফিজউদ্দিন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া তিন তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আবার নির্বাচন হলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন।

খালেদা ‘অবরুদ্ধ নন’ বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এটা শুনে দেশের প্রতিটি লোক মনে ব্যথা পেয়েছে। এত উচ্চ পদ প্রধানমন্ত্রী চেয়ার থেকে আমরা অসত্য ভাষণ আশা করি না। বেগম জিয়া যদি মুক্তই থাকতেন, তাহলে এখানে এত পুলিশ কেন?”

“এভাবে গ্রেপ্তার করে, হামলা-মামলা করে কেউ অতীতে টিকে থাকতে পারেনি, উনারাও পারবেন না,” সরকারকে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত