সিলেটটুডে ডেস্ক | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত, ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্দুল মুন্তাকিম চৌধুরী মারা গেছেন।
বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭।
মুন্তাকিম চৌধুরীর জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে। তার বাবা তজম্মল আলী চৌধুরী। তিনি রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বিভিন্ন সময়ে। তার রাজনৈতিক জীবন জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে। পাকিস্তানের তৃতীয় জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলনসহ তৎকালীন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুন্তাকিম চৌধুরী।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটিরও সদস্য। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিলেট-১৩ (কুলাউড়া- বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কুলাউড়ার প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন এই রাজনীতিক।
রাজনীতির পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশ স্বাধীনের পর জাপান এবং জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনেও একজন ব্যারিস্টার হিসেবে আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী আইএ পাস করেন। এছাড়া তিনি শান্তি নিকেতন, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের লিংকনস ইনে পড়াশোনা করেছেন।
আব্দুল মুন্তাকিম চৌধুরীর জামাতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী খ্যাতিমান জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। মেলবোর্নে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।’