সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে; প্রাণ গেছে দুজনের।
আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের দুইজন। আহত সিলেটের ফয়েজ আহমদ নাঈমের হাত-পা ও মাথায় কাচের টুকরো ঢোকায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া সিলেটের অপর আহত মোশাহিদ আহমেদ সৈকত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফেরত গেছেন।
আহতদের মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বাকিরা এখনো রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী ও ১৬ জন ওমরাহ যাত্রী।
স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। দূতাবাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন হন।
মারা যাওয়া দুই বাংলাদেশি একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি রিয়াদের ‘সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির’ জেদ্দা প্রজেক্টে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
আহতদের মধ্যে ১৫ বাংলাদেশি সৌদি আরবের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নওগাঁর সাফফাত রহমান। ওমরাহ যাত্রী সাফফাতের অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’। বর্তমানে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে তাকে। তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে এবং ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ওমরাহ যাত্রী কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলামও এ হাসপাতালে ভর্তি। তার ডান পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত, সুস্থ হতে সময় লাগবে।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে রয়েছেন ঢাকার মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভও ওমরাহ যাত্রী। তার অবস্থা গুরুতর। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তার বাম পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচার করে তা কেটে ফেলতে হয়েছে। ঢাকার আরেক বাসিন্দা আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দিনের দুই পায়ে ‘হালকা অস্ত্রোপচার’ করা হয়েছে। তিনি ‘মোটামুটি সুস্থ’ আছেন।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে রয়েছেন ঢাকার মো. আবদুল্লাহ এ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার দুই পা ভেঙে গেছে। ডান পায়ে রড লাগানো হয়েছে, বুকের ডান পাশে পুড়ে গেছে এবং মুখে নল দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তার গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হবে।
সুলাইমান আলহাবিব, তাখাসসুসি শাখা হাসপাতালে রয়েছেন ঢাকার আরমান হোসেনের পায়ে ও বাম হাতের কনুইতে কাচের টুকরো ঢুকেছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। তার অবস্থা উন্নতির দিকে। এ হাসপাতালে ভর্তি ময়মনসিংহের মো. মাসুদের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত মাংস ঝলসে গেছে। সফল অস্ত্রোপচার হলেও সুস্থ হতে সময় লাগবে।
সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন যশোরের নাজমা আক্তার। বুকের বাম পাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঙা অংশ ঢুকে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে। একই জেলার মাহফুজ মা নাজমা আক্তারের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়েছেন। তার হাত, বুক ও শরীরে হালকা আঘাত রয়েছে। তবে তিনি সুস্থ আছেন এবং আহত মায়ের পাশে রয়েছেন।
এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন গাজীপুরের মো. ইমাদুল ইসলাম উরুতে আঘাত পেয়েছেন। তার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে যাবেন। নড়াইলের মো. জামাল উদ্দিনের চোখের নিচে ক্ষেপণাস্ত্রের ছোট ভাঙা অংশ ঢুকে পড়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে যাবেন।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মেডিকেল সেন্টার ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নূরুল্লাহর ডান হাতের আঙুল ও দুই পা আগুনে ঝলসে গেলেও শরীরে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। নোয়াখালীর মো. ওমর ফারুকের দুই পা ও ডান হাতের মাংস খুলে পড়ার পর অস্ত্রোপচার ও সেলাই দেওয়া হয়েছে, তিনি আশঙ্কামুক্ত। সিলেটের ফয়েজ আহমদ নাঈমের মাথায়, হাতে ও পায়ে কাচের টুকরো ঢোকায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। গাইবান্ধার মো. রফিক মিঞা মাথায় আঘাত পেয়েছেন। সেলাইয়ের পর তার অবস্থা উন্নতির দিকে।
হামলায় আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাসা বা হোটেলে ১২ জন হলেন- হাফেজ হাসান (ঢাকা), মোহাম্মদ, ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক (ঢাকা), ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হিরক, মো. রায়হান ইসলাম (ভোলা), সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন (নোয়াখালী), মোশাহিদ আহমেদ সৈকত (সিলেট), জাহিদ আহমদ (নোয়াখালী), সোবহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার এবং উমায়ের (চাঁদপুর)।
ঘটনার পর আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে ম্যারিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু এবং ৪০ জনকে রিয়াদ প্রিমিয়ার ফান্ডাসিয়ালের ডরমিটরিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে দূতাবাস।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে (এসভি-৮০৪) প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব যাত্রীর পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছিল, তাদের জন্য জরুরি ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে।