সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তবে এ ঘটনার পরে তিনি আরেকটি অঙ্গরাজ্যে যেতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রটোকল ও নিরাপত্তা পেয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্র আগমনের বিষয়টি আগে থেকে অবগত না থাকায় বিমানবন্দরে প্রটোকলের কিছুটা ঘাটতি ছিল, যার সুযোগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার কাছে বার্তা পাঠান, যাতে মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়।’
পরে কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক নিজে গাড়ি চালিয়ে ড. ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীকে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেতে চেয়েছিন সেখানে পৌঁছে দেন। যাত্রাপথে দুটি গাড়ির একটিতে কনস্যুলেটের ভাড়া করা বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী ও প্রটোকল কর্মকর্তারা নিয়োজিত ছিলেন।
সোমবার বিকালে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইল চেয়ারে বের হওয়ার সময় মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন মুহম্মদ ইউনূসের সামনে দাঁড়িয়ে যান। তখন হুইল চেয়ার ঘুরিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় হেনস্তাকারীরা তার পেছনে ছুটতে থাকেন এবং নানাবিধ আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। ওই ঘটনার সময় ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়াশিংটন মিশন ও নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেট যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব ফরেন মিশনস’ (ওএফএম), স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এবং ডিপ্লোম্যাটিক পুলিশের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ ও সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে তারা বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে জড়িত এবং চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ মিশন।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা ফুটেজগুলো আমরা তাদের পাঠিয়েছি। আরও যদি কিছু দরকার হয়, আমরা ওই ক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত, এটা আমরা তাদের জানিয়েছি।’