সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট এবং তা সরিয়ে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশী প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি আদালত। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কুয়েতের ফৌজদারি আদালত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে ওই বাংলাদেশীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দেশটির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গলফ নিউজ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির এক বন্ধু তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বারবার অনুরোধ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বরং আরো কিছু ছবি প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, বিরোধের এক পর্যায়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। কর্মস্থলের একটি স্থানে তার বন্ধু অবস্থান করছেন- এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ছুরি নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে বন্ধু সেখান থেকে বের হলে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আদালতে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে হত্যার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তিনি জানান, বিরোধ শুরুর আগে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
অভিযুক্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাড়িতে বেড়াতে এসে অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর ছবি তোলেন ওই বন্ধু। পরে সেসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিগুলো নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করলে তিনি বন্ধুকে সেগুলো সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান। তবে তার বন্ধু ছবি সরাতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো আরো ছবি পোস্ট করেন। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, এ বিরোধ থেকেই প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একপর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সে অনুযায়ী তার ওপর হামলা করেন।
সব তথ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত তাকে পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।