Sylhet Today 24 PRINT

শ্রাবণসন্ধ্যায় গানে-কবিতায় রবীন্দ্রস্মরণ

৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে সিলেটে নানা আয়োজন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৮ আগস্ট, ২০২৬

শ্রাবণসন্ধ্যায় গানে-কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, সিলেট ও রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনন্দলোক। কবিগুরুর ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, সিলেটের সভাপতি ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রানা কুমার সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমনা আজিজ। জয়তী ঘোষ লুনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, কবিগুরুর রচিত গান বাঙালির দৈনন্দিন জীবন ও সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২২ শ্রাবণ এলেই রবীন্দ্রসৃষ্টির আলোয় কবিগুরুকে নতুন করে আবিষ্কার করে বাঙালি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন আজও মানুষের জীবন, মানবতা, প্রকৃতি ও স্বাধীনচেতা চিন্তার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তাঁর গান ও কবিতা বাঙালির আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ ও উৎসবের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।

মুখ্য আলোচক অধ্যাপক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, বিশ্বকবির প্রয়াণের ৮৫ বছর পরও তাঁর সৃষ্টি ও চিন্তার আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ আরও গভীরভাবে বাঙালির হৃদয় ও মননে স্থান করে নিয়েছেন। শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন।

তিনি আরো বলেন, ২২ শ্রাবণ কেবল একজন কবির মৃত্যুদিন নয়; এটি বাঙালির চিরন্তন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনে মানবতাবাদ, প্রকৃতিপ্রেম, স্বাধীনচেতা মনন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বার্তা রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছেও মানবতা, সৌন্দর্য ও মুক্তচিন্তার কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের আবেদন অটুট।

রুবী বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মেলক ও একক কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন আনন্দলোক, গীতবিতান বাংলাদেশ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ ও বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য ও সুকান্ত গুপ্ত।

মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, কবি তুষার কর, সমাজসেবী জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, রবীন্দ্রগবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, চলচ্চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, নাট্যকর্মী হুমায়ুন জুয়েলসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিজয় দাস, রবিকিরণ সিংহ রাজেশ, মৃণাল বৈষ্ণব, পলাশ দাস ও বিপ্রেস দাস বায়রন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.