নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
প্রকৃতিতে হাজির বর্ষার বিদায়ক্ষণ। হাতছানি দিচ্ছে শরৎ। এমনই মাহেন্দ্রক্ষণে বর্ষার বন্দনায় মেতেছেন একদল শিল্পীরা৷
সবুজ শুদ্ধ ধরনীর আহ্বানে সিলেটে প্রথমবারের মত একক সঙ্গীতায়োজন করেছে গীতিনন্দন। 'মেঘের খেয়া' শীর্ষক এই আয়োজনের উদ্বোধনী পর্বেই ছিল বৃক্ষদান। মঞ্চে ছোট্ট শিশুরা গাছের চারা উপহার তুলে দেন অতিথিদের হাতে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষনা করেন। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায়বর্ষার মহিমা বর্ণনা করে বিদগ্ধজনেরা।
সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুটা হয়, তৃষ্ণার শান্তি সুন্দর কান্তি গানের সাথে ছন্দনৃত্যালয়ের নাচের মাধ্যমে। এরপর, শিশু শিল্পীদের গান ছড়া বাড়িয়ে দেয় উৎসবময়তা। একক সঙ্গীতে দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রাখেন মমিতা সিনহাসহ গীতিনন্দনের শিক্ষার্থীরা। ছিলো সম্মেলক গানের পরিবেশনা। এসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ পঞ্চকবির সৃষ্টিকর্ম সুরে ও ছন্দে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়।
সিলেট সংস্কৃতির উর্বরভূমি। এই অঞ্চলের মরমি সাধক, কবি ও শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করতে হবে। সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে তরুণদের পাশে থাকবে, বলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটের সংস্কৃতিচর্চার রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এ অঞ্চলের হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, দুর্বিন শাহ ও সৈয়দ শাহনুরসহ বহু সাধক, কবি ও শিল্পী বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা শুধু গান, নৃত্য কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজকে আলোকিত ও মানবিক করে। সমাজ সংস্কার এবং একটি সুন্দর, সম্প্রীতির সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মেঘের খেয়া’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গীতিনন্দন সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মমিতা সিনহা। বক্তব্য দেন গীতবিতান বাংলাদেশের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু এবং গীতিনন্দন সিলেটের উপদেষ্টা নন্দলাল গোপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রত্যুষ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাচিতা ও উচ্ছ্বাস।অন্যদিকে, এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে ‘সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যাঙ্গনের’ পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘নৃত্য অর্ঘ্য’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অসিত বরণ দাশ। বক্তব্য দেন সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যাঙ্গন সিলেটের মহাপরিচালক শচীন চন্দ্র দীপংকর। অনুষ্ঠানে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের শিল্পীরা।
সুরছন্দের মিলনমেলা ভাঙে সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে, দর্শকরা ঘরে ফেরেন প্রকৃতি বন্দনার মুগ্ধতা সাথে নিয়ে।