Sylhet Today 24 PRINT

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মঞ্চে শায়েস্তাগঞ্জ থিয়েটারের ‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’

শাকিলা ববি  |  ২৭ এপ্রিল, ২০১৬

আগামী ২৯ এপ্রিল, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে শায়েস্তাগঞ্জ থিয়েটারের ‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’।

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘এ মিড সামার নাইট’স ড্রিম’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’ অনুসৃত  এই নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. মুকিদ চৌধুরী। ‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’ নাটকটি বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হবে।  

‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’ মঞ্চনাটকটির কাহিনী : মণিপুর-রাজ্য জুড়ে চলেছে উৎসবের আমজ। রাজকুমারী চিত্রাঙ্গদা ও মহাবীর অর্জুনের বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তখনই উজির মনু অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন। উজির মনুর ইচ্ছে আদিত্য নামের মণিপুর রাজ্যের এক সম্ভ্রান্তবংশীয় যুবককে বিয়ে করুক। কিন্তু মেঘবন ভালবাসে লিন্দুচন্দ্রকে, সেও আদিত্যের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। তাই মেঘবন তার পিতার আদেশ অমান্য করে। ন্যায়বিচার চেয়ে উজির মনু তখন এলেন মণিপুরের রাজকুমারী চিত্রাঙ্গদার কাছে। দাবি করলেন, চিরদিনের জন্য দেবদাসীর দণ্ডে দণ্ডিত করার রাজাদেশ প্রয়োগ করার জন্য তার মেয়ের উপর। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে মেঘবন জানাল, আদিত্য তার সখী বিন্দুকে ভালবাসে। বিন্দুও তাকে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালবাসে। কিন্তু এমন অসম্মানজনক কারণও উজির মনুকে টলাতে পারল না। তখন বাধ্য হয়ে চিত্রাঙ্গদা মাত্র একটি রাতের জন্য সময় দিলেন। তাকে জানিয়ে দেওয়া হল, কাল সকালে যদি মেঘবন আদিত্যকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তাকে চিরদিনের জন্য দেবদাসীর দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এই রাজাদেশ শুনে, লিন্দুচন্দ্র ও মেঘবন মণিপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ঠিক হয় বনের মধ্যে, যেখানে ভাঙা মন্দির আছে সেখানে, রাতে মিলিত হয়ে তারা এই রাজ্য ত্যাগ করবে। তবে এই পালানোর কথা মেঘবন বলে দেয় বিন্দুকে। আর বিন্দু জানিয়ে দেয় আদিত্যকে। যেখানে মেঘবন ও লিন্দুচন্দ্র মিলিত হওয়ার কথা সেই স্থানটি ছিল পরীদের প্রিয় বিচরণক্ষেত্র। এসব পরীদেরও একজন রাজা ও রানী আছে। তারা মনোরম বনের ছায়াঘেরা চন্দ্রালোকিত পথে বিহার না করে, নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করছে। পরীরানীর পরিত্যাগে পরীরাজের মেজাজ যখন তুঙ্গে তখন সে ডেকে পাঠাল তার প্রিয় অনুচর তথা প্রধান পার্ষদ কৃষ্ণপরীকে।

আদেশ দিল কৃষ্ণপরীকে অসল-ফুল তুলে আনার জন্য, যার প্রেমসুধা দিয়ে পরীরানীকে শায়েস্তা করবে। কিন্তু তখন বনের মধ্যে ছুটে আসে আদিত্য ও বিন্দু। তাদের ব্যর্থ প্রেমের ঘটনা দেখে পরীরাজ আদেশ দেয় আদিত্যের চোখেও যেন এই অলস-ফুলের প্রেমসুধা ঢেলে দেয়। কারণ, যখন আদিত্য চোখ খুলে বিন্দুকে দেখতে পাবে তখন সে তার প্রেমে পুলকিত হবে। এরই মধ্যে লিন্দুচন্দ্র ও মেঘবন বনে এসে পৌঁছে, অনেকক্ষণ ছুটাছুটির পর তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই তারা ঘুমোতে যায়। তখনই কৃষ্ণপরী আদিত্য মনে করে লিন্দুচন্দ্রের চোখে অলস-ফুলের প্রেমসুধা ঢেলে দেয়।

অন্যদিকে, বিন্দু পথ ভুলে এসে পৌঁছে লিন্দুচন্দ্রের সামনে, তাকে চিনতে পেরে ডেকে তুলে, শুরু হয় বিন্দুর প্রতি লিন্দুচন্দ্রের প্রেম। ত্রিভুজ-প্রেম হয়ে ওঠে নাটকের মূল সমস্যা। অবশেষে সবকিছুরই সমাধান মিলে।

নাটকটির কুশীলবরা হলেন নূরজাহান আক্তার মণি, আল-আমিন ইমরান, মো. শামসুল হক, রাজু আহমেদ, শতাব্দী চৌধুরী রিয়া, মুক্তাদির সোহেল, ফাতেমা তুজ জহুরা নিপা, মোঃ. রুবেল মিয়া, মোতাব্বির হোসেন সাইফুল, সন্তোষ পাল, হৃদয় তরফদার, রাব্বি আরমান রনি, ভূষণ চন্দ্র দাশ, আবুল কাশেম বিজয়, অয়ন, হৃদয়, রানা প্রমুখ। ‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’ মঞ্চনাটকটি সহ-নির্দেশক মুক্তাদির সোহেল, সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জালাল উদ্দিন রুমি, সংগীত-সম্পাত বাবুল মল্লিক ও আলোক-সম্পাত কাজ করেছেন পলাশ হেনরি সেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.