Sylhet Today 24 PRINT

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ অক্টোবর, ২০১৭

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে নড়াইলে সুলতান সংগ্রহশালায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। নড়াইল জেলা প্রশাসন এবং এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তার পুরো নাম ছিল শেখ মোহাম্মদ সুলতান। পরিবারের সকলের কাছে তিনি লাল মিয়া নামেও পরিচিত ছিলেন।

বিশেষ ঢং আর প্রেক্ষাপটে আঁকা চিত্রকর্মের জন্যই সবার কাছে সুপরিচিত তিনি। চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সুর সাধকও। বাঁশি বাজানো ছিল তার নেশা। ১৯৮২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ‘এশিয়ার ব্যক্তিত্ব’ ঘোষণা করে।

১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব বাংলায় নড়াইলের মাসিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। তার মায়ের নাম মোছাম্মত মেহেরুননেসা। তার বাবা শেখ মোহাম্মদ মেসের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তবে কৃষিকাজই ছিল তার বাবার মূল পেশা, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ঘরামীর কাজও করতেন।

বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তার পরিবারের না থাকলেও ১৯২৮ সালে নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট লাল মিয়াকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। তবে মাত্র পাঁচ বছর অধ্যয়নের পর সেই বিদ্যালয়ে ছেড়ে বাবার সহযোগী হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় বাবার ইমারত তৈরির কাজ সুলতানকে প্রভাবিত করে এবং তিনি রাজমিস্ত্রির কাজের ফাঁকে আঁকা-আঁকি শুরু করেন।

১৯৭৬ সালে তার আঁকা শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়েই নতুন করে সামনে আসে তার প্রতিভা। তেলরঙ এবং জলরঙ-এ ছবি আঁকতেন এই চিত্রশিল্পী। পাশাপাশি রেখাচিত্র আঁকতেন। আঁকার জন্য তিনি একেবারে সাধারণ কাগজ, রঙ এবং জটের ক্যানভাস ব্যবহার করতেন।

এজন্য তার অনেক ছবিরই রঙ নষ্ট হয়ে যায়। নড়াইলে থাকাকালীন সময়ে তিনি অনেক ছবি কয়লা দিয়ে এঁকেছিলেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যায়।

তার আঁকা চিত্রকর্মে গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি এই চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই শিল্পী। শিল্পীর মৃত্যুর পর নড়াইলে শিল্পীর সমাধিকে কেন্দ্র করে সুলতানের চিত্রকর্ম, ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে তোলা হয় সুলতান সংগ্রহশালা।

বর্তমানে শিল্পীর এই সংগ্রহশালায় নেই যথাযথ লোকবল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দুর্লভ ছবি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেশ কিছু চিত্রকর্মে ভাঁজ পড়েছে, ফাটল দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রতিনিধি দল গিয়ে একটি চিত্রকর্ম সংস্কার কাজ করেন তারপর আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিল্পী সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হয়েছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.