শাবিপ্রবি প্রতিনিধি | ০৭ আগস্ট, ২০২৫
দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক সহায়িত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চশিক্ষা বেগবান ও রূপান্তর হিট প্রকল্পে প্রজেক্ট নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল শিক্ষক।
তাঁদের দাবি, প্রকল্প নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। ফলে প্রকৃত গবেষকরা অবমূল্যায়িত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ‘বিক্ষুব্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁরা।
সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান, নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশের গবেষকদের গবেষণাকর্মের মান অত্যন্ত নিচু, এমনকি অনেকের সাইটেশন ১০০-এর নিচে। এছাড়াও অতীতে বিতর্কিত ও ব্ল্যাকলিস্টেড হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রজেক্টও এই বাছাইয়ে স্থান পেয়েছে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এক একাডেমিক ফিল্ডের শিক্ষক দিয়ে ভিন্ন ফিল্ডের প্রজেক্ট মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা গবেষণার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁরা আরও বলেন, প্রকল্প নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং ব্যক্তিগত পরিচিতির ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্লাইন্ড পিয়ার রিভিউ’ নামে যে প্রক্রিয়া চালু ছিল, তা ছিল নিছক কাগজে-কলমে। প্রেজেন্টেশন ও রিভিউ পর্বেও নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে।বিভাগ ও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি অবহেলা, প্রকল্পের অনুমোদনে শিল্প সহযোগীর অনুপস্থিতি, এবং হিট প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অর্থের অপচয় হয়েছে। করোনা মহামারিকালে যারা জাতীয়ভাবে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা তিনটি দাবির কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচিত সব প্রজেক্ট বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হিট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং পরামর্শক অধ্যাপক মোজাহার আলীকে জবাবদিহির আওতায় এনে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, নতুন করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রজেক্ট নির্বাচন করতে হবে।
শিক্ষকরা জানান, তাঁদের দাবিগুলো অগ্রাহ্য করা হলে তাঁরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক এবং অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন।