Sylhet Today 24 PRINT

২৮ বছরের অচলাবস্থা কাটছে, শাকসু নির্বাচনের খবরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি |  ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দীর্ঘ ২৮ বছর অচল থাকার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজন করা হবে এ নির্বাচন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাসের আমেজ।

শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন সরব আলোচনা। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন আয়োজনের খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দীপনা, প্রত্যাশা আর স্বপ্ন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শাকসু নির্বাচন তাদের মতামত ও নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। দীর্ঘ সময় পর ভোটের সুযোগ আসায় তারা ক্যাম্পাসজুড়ে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত। কে আসবেন প্রার্থী হিসেবে, কোন সংগঠন কাকে সমর্থন দেবে, কারা নেতৃত্বে আসতে পারেন—এসব প্রশ্ন এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানাতে শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্যাম্পাসের টঙের আড্ডা থেকে শুরু করে ক্লাসরুম—সব জায়গাতেই এখন শাকসু নির্বাচন নিয়ে চলছে প্রাণবন্ত আলোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী আব্বাস শাহিন বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কন্ঠস্বর। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হচ্ছে ছাত্র সংসদ, কিন্তু গত ২৮ বছর ধরে আমরা শাকসু থেকে বঞ্চিত ছিলাম।‌ আমাদের ভিসি স্যার ইতোমধ্যে শাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন।ডাকসু, জাকসু এবং রাকসু'র মতো আমাদের ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছাস উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। শাকসুর আলোচনা ক্যাম্পাসের প্রতিটি অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমরা আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিবেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, শাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের ভিসি মহোদয়ের ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আলোচনা, আড্ডা, আলাপনে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সবাই এখন পর্যন্ত সহনশীল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রেখেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, প্রশাসন যাতে কোনভাবে শাকসু নিয়ে কোন প্রকার পক্ষপাতিত্ব কিংবা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কোন ষড়যন্ত্র না করে।

ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, শাকসু নির্বাচনের ঘোষণায় ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিতে যাচ্ছি এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। আমরা চাই এই নির্বাচন হোক স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও শিক্ষার্থীবান্ধব, যাতে সবাই আস্থার সঙ্গে অংশ নিতে পারে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের কথা বলবে, ভাবনাগুলো যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করবে সেই প্রত্যাশা রাখি।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার লুবনা বলেন, শাকসু শিক্ষার্থীদের বহুদিনের অধিকার আদায়ের দাবী ছিলো৷ আজ যখন শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার আদায়ের সুযোগ পাচ্ছে, তখন চারপাশে উৎসবমুখর পরিস্থিতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই উচ্ছ্বাসে আমরা যেনো ভুলে না যাই, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আমরা যেনো দান-খয়রাতের রাজনীতি ফিরিয়ে না আনি ক্যাম্পাসে। পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় চলে পাব্লিকের ট্যাক্সে, সেই জায়গায় আমাদের প্রাপ্যটুকু না মিললে আমরা যেনো জবাবদিহিতা চাইতে পারি, প্রাপ্যটা বুঝে নিতি শিখি। কারো দান খয়রাতের মধ্যে দিয়ে নিজেদের লড়াইটা যেনো ভুলে না যাই৷

শাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, দীর্ঘ দিন পর শাকসু নির্বাচনের ঘোষণা করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম আবার চালু হবে শুনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আমেজ বিরাজমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমাদেরকে দাবি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনে সকল প্রস্তুতি যাতে সম্পন্ন হয় এবং দল মতের উর্ধ্বে উঠে যাতে শাকসু আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করে পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেনো যোগ্য প্রার্থীকেই নেতৃত্বের আসনে বসার সুযোগ করে দেয়।

শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, শাকসু নির্বাচনকে আমি দেখি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্বের পরীক্ষাগার হিসেবে। এটা শুধু সংগঠন নয়, বরং ভবিষ্যতের সমাজ-রাষ্ট্র গড়ার অনুশীলন। তাই প্রত্যাশা করবো শিক্ষার্থীরা নিজেদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব বেছে নেবে এবং প্রশাসন যেন সবার জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় যদি হয় জ্ঞানের আঁতুড়ঘর, তবে শাকসু হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাঠশালা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.