Sylhet Today 24 PRINT

শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চা বিক্রি করে ১৫ বছরের হামজা

নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি  |  ০১ নভেম্বর, ২০২৫

বিকেলের নরম রোদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আড্ডা জমে উঠে। কেউ গোলচত্ত্বরে, কেউ ফুচকা টংয়ে আবার কেউ গিফারি চত্ত্বরে আড্ডা দিচ্ছে। এই সময়টায় একটি সরু কণ্ঠ ভেসে আসে ‘ভাই, চা নিবেন? আদা লেবু রং চা।’

কথাগুলো একটু অস্পষ্ট, কিন্তু মুখের হাসিটা স্বচ্ছ। ছেলেটির নাম আমির হামজা, বয়স মাত্র ১৫। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোনালী আবাসিক এলাকায় মা-বাবা, এক ছোট ভাই ও এক ছোট বোনকে নিয়ে থাকে সে। প্রায় এক বছর ধরে প্রতিদিন শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চা বিক্রি করে এই কিশোর।

হামজার বাবা মানিক মিয়া পেশায় সিএনজি চালক, মা নাজমিন বেগম গৃহিণী। সংসারের আয়-রোজগার খুবই সীমিত। পরিবারের ভরনপোষণ চালাতে কষ্টে পড়েন তার বাবা।

হামজার ভাষ্যমতে, “আব্বায় একলা সংসার চালাইতে কষ্ট হয়, এরলাগি আমি চা বেচি”। স্কুলে কখনো যায়নি সে। জীবনের প্রথম পাঠটা তার শুরু হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই।

প্রতিদিন দুপুরে মা বানিয়ে দেন আদা-লেবু দিয়ে রং চা। সেই চা ফ্লাস্কে ভরে ক্যাম্পাসে আসে হামজা। ক্যাম্পাসের সব জায়গাতেই দেখা মেলে তার। দিনে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো চা বিক্রি হয়। রাত হলে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে যায় সে।

হামজার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ ফরিদ বলেন, ‘হামজার কথা ঠিকভাবে বোঝা যায় না সবসময়। ক্যাম্পাসে আড্ডায় বসলে প্রায়ই তার চা খাওয়া হয়। ওর মতো বয়সী ছেলেরা যখন স্কুলে যায়, তখন ও জীবনযুদ্ধ লড়ছে। এটা আসলে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।’

সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হামজাকে দেখলে আসলেই খারাপ লাগে। এই বয়সে একটা ছেলে চা বিক্রি করছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় হেঁটে হেঁটে। আর আমাদের জীবন নিয়ে কত অভিযোগ। আমি তার থেকে প্রায়ই চা পান করি সহমর্মিতার জায়গা থেকে।’

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলে ক্যাম্পাসের রাস্তা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়। আর সেই ফাঁকা পথ ধরে হাতে খালি ফ্লাক্স নিয়ে হামজা হাঁটতে থাকে সোনালী আবাসিক এলাকার দিকে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.