সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি আঁকা ও সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির জেরে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে একদফা সংঘর্ষের পর বিকেলে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে কলেজের ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্সের পরীক্ষা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের ভবনের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি রয়েছে, যার নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’।
গতকাল সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। এর পরিবর্তে ওপরে লিখে দেন ‘গুপ্ত’। বিষয়টি নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিতণ্ডার জেরে আজ সকালে প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ান উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় ডটকমকে বলেন, কলেজে আমরা কিছু গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। সেগুলোতে ছাত্রদল বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কথাবার্তা লিখে নষ্ট করে দিয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে সিটি কলেজের দুই ছাত্রের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। যেটা কলেজ কর্তৃপক্ষ মিটমাট করে দিতে পারত। কিন্তু শিবির পরিকল্পিতভাবে জমায়েত দিয়ে বহিরাগত নিয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সকালে গ্রাফিতির ওপর লেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।’
সকালের সংঘর্ষের পর বিকেল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তাঁদের অনেকটা নির্বিকার অবস্থায় ছিল। সংঘর্ষে হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’