সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩০ জুলাই, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ আখ্যা দিয়ে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশে এমন হামলা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তাদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশাল মিছিলে হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও জড়িতদের বিচার করতে হবে। জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা, সাতটি হলে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগসহ জুলাই-পরবর্তী সব অমীমাংসিত ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া প্রক্টর অফিসে কর্তব্যরতদের উপস্থিতিতে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশি, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং পরবর্তী সময়ে মব ভায়োলেন্সের সুযোগ সৃষ্টি করার ঘটনায় দায়ী প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধের তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা প্রক্টরিয়াল বডির। কিন্তু ঘটনার দিন কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাকসুর জিএস ও এজিএস এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডির নিষ্ক্রিয়তা ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও দাবি করা হয়।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ভাষ্য, ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয়ের অভিযোগ তুলে তিন শিক্ষার্থীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে, যা ফৌজদারি অপরাধ। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ২৭ মে 'চিহ্নিত রাজাকার' এ টি এম আজহারের দায়মুক্তির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশাল মিছিলে ছাত্রশিবির হামলা চালায়। এ ঘটনায় ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ প্রক্টরিয়াল বডির কাছে জমা দেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা বিচার হয়নি। এ ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে বলে দাবি সংগঠনটির।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেছেন, মব ভায়োলেন্স প্রশাসনের ধারাবাহিক বিচারহীনতারই পরিণতি। ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেছে। মশাল মিছিলে হামলার ঘটনায়ও আমরা প্রমাণসহ অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের এই প্রশ্রয়ই সন্ত্রাসের বর্তমান বাস্তবতা তৈরি করেছে।