Sylhet Today 24 PRINT

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিলবোর্ড থেকে ৬ যুদ্ধাপরাধীর ছবি সরাল রাবি প্রশাসন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসংবলিত বিতর্কিত একটি বিলবোর্ড অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার সকালে প্যারিস রোড থেকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে প্রদর্শিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক একটি বিলবোর্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ এবং কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারা আপত্তি জানান। বিলবোর্ডটি ‘নভো-কালচার’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল। সংগঠনটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।

বিলবোর্ডে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আবদুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং বিভিন্ন মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরমধ্যে যুদ্ধাপরাধী সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ অবস্থায় মারা যান।

রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবি জানান। প্রক্টর বিকেল পর্যন্ত সময় নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলবোর্ডটি অপসারণ না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল বিলবোর্ড অপসারণ, এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ করা।

পরে রাতে উপাচার্যের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর বলে চিহ্নিত ছবিগুলো সরিয়ে বা ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিলবোর্ডটি অপসারণ করে নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ছবি মুছে দেওয়া হবে। আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই ক্যাম্পাসে কোনো রাজাকারের ছবি প্রদর্শন মেনে নেওয়া হবে না।’

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘১৯৭১ বাংলাদেশের একটি মৌলিক ইস্যু। শেখ হাসিনা বা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনোটিকেই আড়াল করার সুযোগ নেই। কিন্তু ’২৪-এর আয়োজনকে কেন্দ্র করে খুব সুকৌশলে ’৭১-এর ঘাতক ও দালালদের স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে গোলাম আযমের মতো ব্যক্তিদের গৌরবান্বিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, ‘কয়েক দফা আলোচনার পর প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি।’

শুভ বলেন, ‘একাত্তরের ইস্যু অনেক আগেই মীমাংসিত হয়েছে। শহিদ ড. শামসুজ্জোহার কবরের পাশে রাজাকারের ছবি টানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নভো-কালচার নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি দিয়ে তাদের ১৯৭১ সালের অপরাধকে স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। রাজাকারদের প্রোমোট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পোস্টারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর যেসব ছবি নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.