শাবিপ্রবি প্রতিনিধি | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
নানা আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া এবং প্রথমবারের মতো বিভাগভিত্তিক প্রীতিভোজের (ফিস্ট) আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা করা হয়।
বুধবার (৫আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গোলচত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেনসহ সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। বিগত ১৭ বছরের প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সশরীরে যুক্ত ছিলাম। এই সিলেট অঞ্চল নিয়েও আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ১৮ জুলাই 'শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ' দেওয়া হবে। এর প্রাথমিক তহবিল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট থেকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। এছাড়া শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিভিল ও আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
উপচার্য বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এই প্রথম বিভাগভিত্তিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে প্রতিটি বিভাগে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫ জন করে শিক্ষার্থীকে টিএ-শিপ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
এছাড়া লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে শহীদদের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।