Sylhet Today 24 PRINT

সুইমিংপুলে কীভাবে মারা গেলেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী, যা জানা গেলো

​শাবিপ্রবি প্রতিনিধি |  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে’ সাঁতার কাটতে নেমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইনঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম দিপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)।

​মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

​জানা যায়, তার পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তবে তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, আমরা তিন বন্ধু নিয়মিতই সেখানে সাঁতার কাটতে যেতাম। আজকে প্রিয়মও আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য বলে এবং আমাদের জানায় সে সাঁতার জানে।

​তিনি আরও বলেন, আমাদের বিকেল ৫টার দিকে সাঁতার কাটা শুরু হয়। সাঁতার কাটতে নেমে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর পানিতে যায়, আবার ফিরেও আসে। আমরা সকলে যখন সাঁতারে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সে কখন আবারো ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যায় তা আমরা কেউই খেয়াল করিনি। হঠাৎ ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে ৯ ফুট গভীর পানি থেকে সুইমিংপুলের স্টাফরা তুলেন। তৎক্ষণাৎ শরীরে ঝাঁকুনি দেয়। তখন সে বমি করে এবং নিশ্বাস নিচ্ছিল। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে তার ইসিজি করা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।

​তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানকার এক কর্মী তাকে পানির কিছুটা নিচে চিত হয়ে ভেসে থাকতে দেখে আমাকে জানালে, আমি তাকে উদ্ধার করে ঝাঁকুনি দিতে থাকি। তখন সে বমি করে এবং হালকা নিশ্বাসও নিচ্ছিল। পরে তাকে সিএনজিতে করে নগরীর দরগাহ গেট সংলগ্ন নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে আসি।'

​এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা আসছেন। আপাতত তার মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে।

​তিনি আরও বলেন, সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেটের বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান। পরবর্তীতে ডুবন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে নূরজাহান হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাসিম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায়ই আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.