শাবি প্রতিনিধি | ২৫ জুলাই, ২০১৬
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্মরণে শোক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৫ জুলাই) বেলা এগারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ শোকসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোক সভায় রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেনের সঞ্চালনায় এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ করে ড. ছদরুদ্দিনের বড় ভাই বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. বদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
স্মৃতিচারণায় তিনি বলেন, তার ভাই দায়িত্ব নেয়ার পর সবসময় ভাবতেন কিভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানে পরিণত করা যায়। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচণ্ড একাগ্রতা তাকে এ সম্মান এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরো বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. রাশেদ তালুকদার, ড. কবির হোসেন, ড. আখতারুল ইসলাম, ড. সাবিনা ইসলাম, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন আহমদ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সৈয়দ বদিউজ্জামান ফারুক, ড. শাহ আলম, কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুর রহমান, হিসাব পরিচালক আনম জয়নাল আবেদিন, শাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, ড. ছদরুদ্দিন নিজের দায়িত্বে এতটাই একাগ্র ছিলেন যে তার মন সর্বদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে থাকত। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য দিয়ে তিনি তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র একজন উপাচার্যই ছিলেন না। একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি সকল দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রশাসনিক নেতৃত্বের দক্ষতা অত্যন্ত প্রকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজে তিনি ছিলেন একজন অতন্দ্র প্রহরী। প্রখর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন শিক্ষক ছিলেন তিনি বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
এর আগে রোববার তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেষদিন মঙ্গলবার বাদ যোহর মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে দো’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার(২৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ল্যাবএইড হসপিটালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত শাবির প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।