নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ এপ্রিল, ২০১৫
বিভিন্ন প্রশাসনকি পদের দায়িত্ব থাকা ৩৫ জন শিক্ষকের পদত্যাগ পত্র জমা প্রদান প্রসঙ্গে শাহজালাল বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া বলেছেন, তাঁরা ভুল অভিযোগ এনে সড়ে দাঁড়াচ্ছেন। আমি তাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করিনি। গ্রহণ করবোও না।
পদ্যাত্যাগপত্র জমাদানকারী শিক্ষকদের নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে আসারও আহ্বান জানান উপাচার্য, তাঁর বিরুদ্ধেই অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে পদত্যাগ পত্র জমা দেন মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৩৫ শিক্ষক।
শিক্ষকদের পদ্ত্যাগপত্র জমাদানের পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় আজ ৩৫ জন শিক্ষকের প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর শাবি উপাচার্য অধ্যাপক উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, আমি এই বিষয়টি পুরোপুরি জানি না। শুনেছি কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষন করে রেজিস্টারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ভূল অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করছেন শিক্ষকরা। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অশোভন আচরণের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন অধ্যাপক আমিনুল। শিক্ষক সমিতিও তার পদত্যাগের দাবি জানায় নি বলে জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, আমি উনাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করিনি। করবোও না। তারা সকলের জ্ঞানী মানুষ। নিজেদের বিবেচনায় যা ভালো মনে করেছেন তাই করেছেন। তবে আমি তাদের স্বপদে ফিরে আসার আহ্বান জানাবো। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।
এরআগে সকাল সাড়ে ১০ টায় সরকার সমর্থিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুব্ধ শিক্ষক পরিষদের’ সদস্য ৩৫ জন শিক্ষক উপাচার্য ভবনের সামনে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পরে পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক শামসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মস্তাবুর রহমান ও নাজিয়া চৌধুরী সবার পদত্যাগপত্র রেজিস্ট্রার ইশরাকুল হোসেনের কাছে জমা দেন।
গত ১৫ এপ্রিল পরিষদের এক সভায় উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়াকে পদত্যাগের জন্য রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে পরিষদের শিক্ষকরাও প্রশাসনিক পদে থাকবেন না।
প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগী এই শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক পদ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. এমদাদুল হকসহ সাতজন সহকারী প্রক্টরও পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
পদত্যাগীদের মধ্যে আরও রয়েছেন সেন্টার অব এক্সেলেসের পরিচালক মো. ইউনুছ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম, শাহপরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের প্রাধ্যক্ষ মারুবা শারমিন চৌধুরী, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, দ্বিতীয় ছাত্র হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল গণি, চার সহকারী প্রাধ্যক্ষ, বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ ও একজন সহকারী প্রাধ্যক্ষ, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ মো. ফারুক উদ্দিন ও একজন সহকারী প্রাধ্যক্ষ।
পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মস্তাবুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য কর্তৃক শিক্ষকদের অপমান ও প্রশাসন পরিচালনায় তার অযোগ্যতার কারণে শিক্ষকরা আর তার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না বলে মনে করছেন।”
‘পুঞ্জীভূত ক্ষোভ’ থেকেই শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।