সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ এপ্রিল, ২০১৮
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাসহ সব পর্যায়ের পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মান আরও উন্নত করতে সব ধরনের পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়া হবে। যা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে।”
সেই সাথে এমসিকিউ তুলে দেওয়া ছাড়াও ক্লাসে শিক্ষকদের নোট, গাইড বা লেকচার শিট দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি কোর্সের জন্য ‘সুলভ মূল্যে বাজারে পাওয়া যায়’ এমন একটি ‘বিশ্বমানের টেক্সট বই’ নির্ধারণ করে দেবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। প্রয়োজনে তারা একাধিক রেফারেন্স বই ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই শিক্ষকরা ক্লাসে নোট, গাইড বা লেকচার শিট দিতে পারবেন না।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই সব পরীক্ষায় এই পদ্ধতি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯২ সালে প্রবর্তন করা এমসিকিউ পদ্ধতিতে আগে একটি বিষয়ের পরীক্ষায় মোট ৫০টি প্রশ্ন থাকতো। প্রতি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর বরাদ্দ ছিল।
দীর্ঘদিন ওই ব্যবস্থা চলার পর প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এখন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ কমিয়ে আনছে সরকার। আর এবার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক বা সৃজনশীল প্রশ্নে।
বর্তমানে দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। জবি কর্তৃপক্ষের এমসিকিউ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে এই প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত এল।
এর আগে গত বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৭৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ১২ এবং এইচএসসি থেকে ১৬ স্কোরের ভেতরে তার প্রাপ্ত নম্বর হিসাব করে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়েছে।