Sylhet Today 24 PRINT

রাবিতে কোটা আন্দোলনের নেতাকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

রাবি প্রতিনিধি |  ১৮ জানুয়ারী, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মাজহারুল ইসলাম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অর্ধিকার রক্ষা পরিষদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহবায়ক ও আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মাজহারুল ইসলাম।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, “গত ডিসেম্বর মাস থেকে রাবিতে অনলাইনভিত্তিক টিউশন সেবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যাত্রা শুরু করে। সেখানে স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহীদের নিয়ে প্রতিমাসে মিটিং করা হয়। প্রতিমাসের ন্যায় শহীদ মিনারে মিটিং করছিলাম। মিটিং আধ ঘণ্টা চলার পর ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ আমাকে ডেকে নেয়। এর মধ্যে দুজন আমাকে একটু দূরে ডেকে এনে বলে ১০ হাজার টাকা দিলে আমাকে মারবে না। আমি পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হই। কিন্তু তখনই আমাকে শহীদ মিনারের চ্ত্বরে ওয়ালের পাশে নিয়ে মারধর করে। এলোপাথারি কিল-ঘুষি-লাঠি মারে। সেখানে আমি সবাইকে চিনতে না পারলেও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে দেখতে পেয়েছি। তিনিই আমাকে মারধরের নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

তিনি কোনো রাজনীতি দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, “আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলাম। এর বাইরে আমি আর কোনো রাজনীতি করি না। আমরা অনলাইনভিত্তিক যে টিউশন সেবা চালু করেছি, এখানেও কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।”

মাজহারুল আগামীকাল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, “টিউশন সেবার নামে কিছু শিক্ষার্থী ছাত্রদলের মিটিং করছে এমন তথ্যর ভিত্তিতে শহীদ মিনারে যাই। সেখানে গিয়ে মাজহারুলের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে ছেড়ে দেই।”

মাজহারুলকে মারধর করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেখানে মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় টিউশনের লিফলেট বিতরণ করার জন্য মাজহারুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী শহীদ মিনারে বসে আলোচনা করছিল। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে মাজহারুলকে মারধর করেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “মাজহারুল নামের ওই ছেলেকে মারধর করা হয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে খবর দেয় যে- শহীদ মিনারে টিউশন লিফলেট বিতরণের আলোচনার নামে ছাত্রদল ও শিবিরের।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.